এই সাকিব হতে চান সেই সাকিবের মতো
jugantor
এই সাকিব হতে চান সেই সাকিবের মতো

  আল-মামুন  

০১ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:৫২:৪৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের মানুষ সাকিব নামে দুইজনকে চেনেন। একজন সাকিব আল হাসান, আরেকজন শাকিব খান। সাকিব আল হাসান ক্রিকেট খেলে বিশ্বে পরিচিত। আর শাকিব খান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গেও বেশ জনপ্রিয়।

তবে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো আরও এক সাকিব আল হাসানের আবির্ভাব হচ্ছে। চলমান ফেডারেশন কাপে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাবের চার গোলরক্ষকের একজন। নতুন বছরে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন নওগাঁর পত্নীতলার অজোপাড়া গ্রাম থেকে উঠে আসা বাস ড্রাইভারের ছেলে এই সাকিব।

যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তার সেইসাক্ষাৎকারটি চুম্বক অংশতুলে ধরা হলো-

যুগান্তর: কেমন আছেন?

সাকিব আল হাসান: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

যুগান্তর: সাকিব আল হাসান নামের জন্য আপনি রোমাঞ্চিতকিনা?

সাকিব আল হাসান: হ্যাঁ। আমার মধ্যে রোমাঞ্চ কাজ করে। অনেকেই বলেন- এ আরেক সাকিব। ক্রিকেটার সাকিবের মতো সেও একদিন বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। আমি তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হই। আমিও সাকিব ভাইয়ের মতো বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরতে চাই।

যুগান্তর: সাকিব আল হাসান নামটি কেরাখল, বাবা না মা?

সাকিব আল হাসান: আমার আসল নাম মো. সাকিব হোসেন। তবে আমি যখন ২০১৪ সালে ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন আমার স্কুলের এক স্যার আমার নাম রাখেন সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আমি চাই তুমিও সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্ব তারকা হও, দেশের প্রতিনিধিত্ব কর।’

যুগান্তর: ক্রিকেটার সাকিবের খেলা পছন্দ করেন?

সাকিব আল হাসান: পছন্দ করি মানে, আমি সাকিব আল হাসানের একজন পাঁড়ভক্ত। ফুটবল খেললেও সাকিব আল হাসানের খেলা আমি দেখি। তার কোনো খেলা আমি মিস করি না। সুযোগ হলেই সাকিবের খেলার ভিডিও দেখি। তার খেলা আমার অনেক ভালো লাগে।

যুগান্তর: সাকিবের কোন পজিশন আপনার পছন্দ, ব্যাটিং না বোলিং?

সাকিব আল হাসান: সাকিব ভাইয়ের ব্যাটিংশৈলী আমার অনেক ভালো লাগে। উনি যখন ব্যাটিং করেন তখন মনোযোগ দিয়ে দেখি। আমার স্বপ্ন ফুটবল খেলে সাকিব ভাইয়ের মতো বিশ্ব তারকা হওয়া।

যুগান্তর: ক্রিকেট রেখে ফুটবল বেছে নেয়ার কারণ?

সাকিব আল হাসান: আমি ছোট থেকেই ফুটবল পছন্দ করি। আমার বাবা (আবুল কালাম আজাদ), বড়ভাই (মো. রিপন হোসেন) ফুটবল খেলতেন। বড়ভাই এবং বাবার দেখাদেখি ফুটবলে আমার আসক্তি। আমার ভাই ফুটবল খেলে বেশিদূর এগোতে পারেননি। তিনি এখন বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন। বাবা পেশায় একজন ড্রাইভার। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি তিনি বাস চালান। এখন হানিফ পরিবহনের ডিস্ট্রিক বাস চালান। বাবার স্বপ্ন আমি যেন জাতীয় তারকা ফুটবলার হই।

যুগান্তর: ফুটবলার হওয়ার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

সাকিব আল হাসান: আমার আব্বুর অবদান সবচেয়ে বেশি। খেলার প্রতি তার অনেক আগ্রহ। তিনি সবসময় চাইতেন আমি যেন ফুটবলার হই। মূলত তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেই আমি ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য স্থির করি। বাবা আমাকে ২০১৮ সালে ফুটবল শেখার জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি করে দেন। এখন আমি বিকেএসপিতে দশম শ্রেণিতে পড়ছি। বিকেএসপির হয়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে গিয়ে দিল্লিতে একটি ম্যাচ খেলেছিলাম। সেই ম্যাচে আমি গোলকিপার ছিলাম। তবে দুর্ভাগ্য আমরা ম্যাচটায় ১-০ গোলে হেরে যাই।

যুগান্তর: গোলকিপার হওয়ার পেছনের কারণ?

সাকিব আল হাসান: আসলে ফুটবলে গোলকিপার পজিশনটা আমার ভালো লাগে। আমি যখন টিভিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা দেখতাম তখন থেকেই গোলকিপার পজিশনটা পছন্দ। আমার বাবাও গোলকিপার ছিলেন। আমিও বাবার স্বপ্নপূরণে গোলকিপিংই বেছে নিয়েছি। তবে আমার আইডল হলেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় গোলকিপার এলিসন বেকার।

যুগান্তর: কখনও খেলাধুলার জন্য মার খেয়েছেন?

সাকিব আল হাসান:অনেকবার খেয়েছি। কেএমএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ে সিক্স-সেভেনে পড়ার সময় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ফুটবল খেলতে গিয়ে অনেকবার স্যারদের হাতে মার খেয়েছি।

যুগান্তর: আপনার কি মনে হয় এখন ফুটবলকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

সাকিব আল হাসান: অবশ্যই, আমিতো ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। ফুটবলার হতে পেরে আমি খুব খুশি। এ নিয়ে আমার মধ্যে কোনো আক্ষেপ নেই। আমার মতো যারা তরুণ আছে, তাদের উদ্দেশে আমি বলব- নেশা বা আড্ডায় সময় না কাটিয়ে খেলাধুলায় অংশ নেয়া উচিত। সুযোগ থাকলে খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়া ভালো।

যুগান্তর: আপনার এখন টার্গেট কী?

সাকিব আল হাসান: আমার একটাই লক্ষ্য ফুটবলের সাকিব হওয়া। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে। সেটা করতে পারলে স্বপ্ন আছে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার।

যুগান্তর: নতুন বছরের শুভ কামনা।

সাকিব আল হাসান: শুভ কামনা।

এই সাকিব হতে চান সেই সাকিবের মতো

 আল-মামুন 
০১ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের মানুষ সাকিব নামে দুইজনকে চেনেন। একজন সাকিব আল হাসান, আরেকজন শাকিব খান। সাকিব আল হাসান ক্রিকেট খেলে বিশ্বে পরিচিত। আর শাকিব খান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গেও বেশ জনপ্রিয়।

তবে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মতো আরও এক সাকিব আল হাসানের আবির্ভাব হচ্ছে। চলমান ফেডারেশন কাপে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান ক্লাবের চার গোলরক্ষকের একজন। নতুন বছরে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন নওগাঁর পত্নীতলার অজোপাড়া গ্রাম থেকে উঠে আসা বাস ড্রাইভারের ছেলে এই সাকিব।

যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তার সেই সাক্ষাৎকারটি চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

যুগান্তর: কেমন আছেন?

সাকিব আল হাসান: আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

যুগান্তর: সাকিব আল হাসান নামের জন্য আপনি রোমাঞ্চিত কিনা?

সাকিব আল হাসান: হ্যাঁ। আমার মধ্যে রোমাঞ্চ কাজ করে। অনেকেই বলেন- এ আরেক সাকিব। ক্রিকেটার সাকিবের মতো সেও একদিন বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। আমি তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হই। আমিও সাকিব ভাইয়ের মতো বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরতে চাই। 

যুগান্তর: সাকিব আল হাসান নামটি কে রাখল, বাবা না মা?

সাকিব আল হাসান: আমার আসল নাম মো. সাকিব হোসেন। তবে আমি যখন ২০১৪ সালে ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন আমার স্কুলের এক স্যার আমার নাম রাখেন সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, ‘আমি চাই তুমিও সাকিব আল হাসানের মতো বিশ্ব তারকা হও, দেশের প্রতিনিধিত্ব কর।’

যুগান্তর: ক্রিকেটার সাকিবের খেলা পছন্দ করেন?

সাকিব আল হাসান: পছন্দ করি মানে, আমি সাকিব আল হাসানের একজন পাঁড়ভক্ত। ফুটবল খেললেও সাকিব আল হাসানের খেলা আমি দেখি। তার কোনো খেলা আমি মিস করি না। সুযোগ হলেই সাকিবের খেলার ভিডিও দেখি। তার খেলা আমার অনেক ভালো লাগে। 

যুগান্তর: সাকিবের কোন পজিশন আপনার পছন্দ, ব্যাটিং না বোলিং?

সাকিব আল হাসান: সাকিব ভাইয়ের ব্যাটিংশৈলী আমার অনেক ভালো লাগে। উনি যখন ব্যাটিং করেন তখন মনোযোগ দিয়ে দেখি। আমার স্বপ্ন ফুটবল খেলে সাকিব ভাইয়ের মতো বিশ্ব তারকা হওয়া। 

যুগান্তর: ক্রিকেট রেখে ফুটবল বেছে নেয়ার কারণ?

সাকিব আল হাসান: আমি ছোট থেকেই ফুটবল পছন্দ করি। আমার বাবা (আবুল কালাম আজাদ), বড়ভাই (মো. রিপন হোসেন) ফুটবল খেলতেন। বড়ভাই এবং বাবার দেখাদেখি ফুটবলে আমার আসক্তি। আমার ভাই ফুটবল খেলে বেশিদূর এগোতে পারেননি। তিনি এখন বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করছেন। বাবা পেশায় একজন ড্রাইভার। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি তিনি বাস চালান। এখন হানিফ পরিবহনের ডিস্ট্রিক বাস চালান। বাবার স্বপ্ন আমি যেন জাতীয় তারকা ফুটবলার হই। 

যুগান্তর: ফুটবলার হওয়ার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

সাকিব আল হাসান: আমার আব্বুর অবদান সবচেয়ে বেশি। খেলার প্রতি তার অনেক আগ্রহ। তিনি সবসময় চাইতেন আমি যেন ফুটবলার হই। মূলত তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেই আমি ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য স্থির করি। বাবা আমাকে ২০১৮ সালে ফুটবল শেখার জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি করে দেন। এখন আমি বিকেএসপিতে দশম শ্রেণিতে পড়ছি। বিকেএসপির হয়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে গিয়ে দিল্লিতে একটি ম্যাচ খেলেছিলাম। সেই ম্যাচে আমি গোলকিপার ছিলাম। তবে দুর্ভাগ্য আমরা ম্যাচটায় ১-০ গোলে হেরে যাই। 

যুগান্তর: গোলকিপার হওয়ার পেছনের কারণ?

সাকিব আল হাসান: আসলে ফুটবলে গোলকিপার পজিশনটা আমার ভালো লাগে। আমি যখন টিভিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা দেখতাম তখন থেকেই গোলকিপার পজিশনটা পছন্দ। আমার বাবাও গোলকিপার ছিলেন। আমিও বাবার স্বপ্নপূরণে গোলকিপিংই বেছে নিয়েছি। তবে আমার আইডল হলেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় গোলকিপার এলিসন বেকার। 

যুগান্তর: কখনও খেলাধুলার জন্য মার খেয়েছেন?

সাকিব আল হাসান: অনেকবার খেয়েছি। কেএমএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ে সিক্স-সেভেনে পড়ার সময় ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ফুটবল খেলতে গিয়ে অনেকবার স্যারদের হাতে মার খেয়েছি। 

যুগান্তর: আপনার কি মনে হয় এখন ফুটবলকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

সাকিব আল হাসান: অবশ্যই, আমিতো ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। ফুটবলার হতে পেরে আমি খুব খুশি। এ নিয়ে আমার মধ্যে কোনো আক্ষেপ নেই। আমার মতো যারা তরুণ আছে, তাদের উদ্দেশে আমি বলব- নেশা বা আড্ডায় সময় না কাটিয়ে খেলাধুলায় অংশ নেয়া উচিত। সুযোগ থাকলে খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়া ভালো। 

যুগান্তর: আপনার এখন টার্গেট কী?

সাকিব আল হাসান: আমার একটাই লক্ষ্য ফুটবলের সাকিব হওয়া। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে। সেটা করতে পারলে স্বপ্ন আছে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার। 

যুগান্তর: নতুন বছরের শুভ কামনা।

সাকিব আল হাসান: শুভ কামনা।