যে কারণে ফাটিয়ে দিচ্ছেন গেইল-ওয়াটসন

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

এখন পর্যন্ত আইপিএল সবচেয়ে দর্শনীয় পারফরম্যান্স পেয়েছে ক্রিস গেইল ও শেন ওয়াটসনের কাছ থেকে। তাদের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে কুপোকাত হয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ নিয়ে যেন তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতে বয়সটা স্রেফ একটা সংখ্যা।

সেপ্টেম্বরে ৩৯-এ পা দেবেন গেইল। আর জুনে ৩৭ হবে ওয়াটসনের। বুড়িয়ে গেছেন, ফুরিয়ে গেছে, আর চলেই না- এমন সব ধ্যানধারণা থেকে জানুয়ারিতে নিলামের প্রথম দুই দফায় অবহেলিত হন তারা। অবশ্য পরে ক্যারিবীয় দৈত্যকে কেনে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং অজি অলরাউন্ডারকে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস।

শেষ দফায় ওয়াটসনকে ৪ কোটি রুপিতে দলে টানে চেন্নাই। আর একরকম ‘ফাউ’ পেয়ে গেইলকে ভেড়ায় পাঞ্জাব (২ কোটি রুপি)। এখন দুজনই হয়ে গেছেন দুদলের তুরুপের তাস।

ওয়াটসনকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছেন চেন্নাই অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি। দলে ডোয়াইন ব্রাভো ও তার অন্তর্ভুক্তি থাকা চাই-ই চাই। ক্যাপ্টেনকুলের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ব্যাটিংয়ের গোড়াপত্তন করছেন ওয়াটসন, বোলিংয়েরও। পাওয়ার প্লেতে তুলছেন দ্রুত রান। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে তা ভালোভাবেই দেখিয়েছেন তিনি। বল হাতেও কম যাচ্ছেন না। গতি, দুর্দান্ত  ইয়র্কার-স্লোয়ার দিয়ে বেঁধে রাখছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের।

তবে গেইল যেভাবে শুরু করেছেন তা রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে। নিলামে তো দুই দফায় বিক্রি হননি, পাঞ্জাবের প্রথম দুই ম্যাচেও একাদশে সুযোগ পাননি। তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই দেখিয়ে দেন, বয়স হচ্ছে; কিন্তু খুন করার অস্ত্রে মরিচা ধরেনি। নিজের প্রথম ম্যাচে নেমেই করেন ৬৩ রান। বগলদাবা করেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

পরের ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বোলারদের ওপর দিয়ে কী ঝড় গেছে তা তো সবার জানা। আগের ম্যাচের স্কোরের সমান বলে খেলেন ১০৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। এ ইনিংস খেলার পথে হাঁকান ১ চারের বিপরীতে ১১ ছক্কা। সেই ধারা এখনও অব্যাহত আছে।

ক্যারিয়ারে গোধূলিতে এসেও গেইল-ওয়াটসনের চমকপ্রদ পারফরম করার নেপথ্যে নানা কারণ খুঁজে বের করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

অনেকে বলছেন, ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে কচি (তরুণ) পা ও ফুসফুস দরকার। তবে অভিজ্ঞতাও মুখ্য। এর কাছে বয়সও হার মানে।

আবার একদল বলছেন, টি-টোয়েন্টি হাইভোল্টেজের খেলা। এতে প্রচুর শক্তি, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা দরকার। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নাড়ির স্পন্দন ঠিক রাখতে হয়। এসবে সিদ্ধহস্ত গেইল-ওয়াটসন। এ কারণেই এখনও ফাটিয়ে দিচ্ছেন তারা।