প্রথমবারের মতো পিএসএল চ্যাম্পিয়ন মুলতান সুলতানস (ভিডিও)
jugantor
প্রথমবারের মতো পিএসএল চ্যাম্পিয়ন মুলতান সুলতানস (ভিডিও)

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৫ জুন ২০২১, ১০:৫৩:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

পেশাওয়ার জালমিকে একরকম উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) শিরোপা প্রথমবারের মতো ঘরে তুলেছে মুলতান সুলতানস।

আবুধাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে পেশোয়ারকে ৪৭ রানে হারিয়েছে মুলতান।

এ শিরোপা জয় মুলতানের জন্য বাড়তি আনন্দের বটে। কেননা দলটি প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করল।

অন্যপক্ষে রানার্সআপ হওয়ার স্বাদ একটু বেশি তেতো লাগতে পারে পেশাওয়ারের। কেননা শেষ চার আসরের তিনটিরই ফাইনালে হেরেছে তারা।

আগে ব্যাটিং পেয়ে তাণ্ডব চালিয়েছেন মুলতানের মাকসুদ ও রুশো।

মাকসুদের ৩৫ বলে ৬৫ রান আর রুশোর ২১ বলে ৫০ রানের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২০৬ রান জমা করে মুলতান। শেষ ৮ ওভারে ১১৬ রান তুলেছে মুলতান!

অর্থাৎ শিরোপার ছোঁয়া পেতে ২০৭ রান করতে হতো পেশোয়ারকে, যা ছিল এবারের আসরের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড।

রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস তো গড়া দূরের কথা লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি পেশোয়ার।

মুলতানের বোলারদের তোপে ১৫৯ রানেই থেমে যায় পেশোয়ারের ইনিংস।

শোয়েব মালিক ছাড়া পেশাওয়ারের আর কেউ নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ২৮ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৪৮ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে আরেক অভিজ্ঞ তারকা কামরান আকমলের ব্যাট থেকে। পেশোয়ারের এই ওপেনার ২৮ বলে ৩৬ রানের উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছেন। ইমরান খানের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে মাত্র ৬ রান করে আউট হন ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও জনাথন ওয়েলস।

ব্লেসিং মুজারাবানিকে একটি ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাজাই।

১৩ বলে ৬ রান করে রানআউটে কাটা পড়েন জনাথন। জনাথন আউটের সময় দশম ওভারে দলের রান তখন ৩ উইকেটে ৫৮।

দুর্দান্ত খেলতে থাকা শোয়েব মালিককে ফেরান সোহেল তানভীর। তার এক বাউন্সারে ডিপ স্কয়ার লেগে তাহিরের হাতে ধরা পড়েন শোয়েব।

মালিকের আউটের পর ১৪ বলে ২৩ রান করেন রভম্যান। তার উইকেট নেন মুজারাবানি।

এর পর ভেলকি দেখান প্রোটিয়া তারকা স্পিনার ইমরান তাহির। একই ওভারে শেরফান রাদারফোর্ড, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ ইমরানকে ফেরান তিনি।

২০ ওভার খেলতে পারলেও ১৫৯ রানের বেশি করতে পারেনি পেশোয়ার জালমি। ফলে ৪৭ রানে জয় পায় মুলতান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ওভারে ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন শান মাসুদ ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।

দুই ওপেনারকেই ফেরান পেসার মোহাম্মদ ইমরান।২৯ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৩৭ রান করেন মাসুদ। মাসুদের পর নিজের পরের ওভারে রিজওয়ানকে ফেরান মোহাম্মদ ইমরান। ৩০ বলে ৩০ রান করেন মুলতান অধিনায়ক।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর শুরু হয় মাকসুদ ও রুশোর তাণ্ডব। পেশোয়ারের বোলারদের তুলোধোনা করে ২৬ বলেই ফিফটি পূরণ করেন মাকসুদ। তার চাইতেও বেশি আগ্রাসী ছিলেন রুশো। পঞ্চাশ ছুঁতে কেবল ২০ বল খেলেছেন তিনি। ফিফটি করেই সামিন গুলের শিকার হন রাইলি রুশো। পরের বলেই জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান গুল।যদিও তা ব্যর্থ করে দেন খুশদিল শাহ।

আমাদ বাটের করা শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ২১ রান করেন খুশদিল শাহ। অন্যপ্রান্তে ৬ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন মাকসুদ।

ম্যাচ হাইলাইটস দেখুন -


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

মুলতান সুলতানস: ২০ ওভারে ২০৬/৪ (মাসুদ ৩৭, রিজওয়ান ৩০, মাকসুদ ৬৫*, রুশো ৫০, চার্লস ০, খুশদিল ১৫*; সামিন ৪-০-২৬-২, ইরফান ৪-০-২৭-০, ওয়াহাব ৪-০-৫২-০, বাট ৪-০-৫২-০, ইমরান ৪-০-৪৭-২)

পেশাওয়ার জালমি: ২০ ওভারে ১৫৯/৯ (আকমল ৩৬, জাজাই ৬, ওয়েলস ৬, মালিক ৪৮, রভম্যান ২৩, রাদারফোর্ড ১৮, বাট ৭, ওয়াহাব ০, ইমরান ০, সামিন ৭*, ইরফান ০*; তানভীর ৪-০-৩৫-১, ইমরান খান ৪-১-২৭-২, মুজারাবানি ৪-০-২৬-২, দাহানি ৪-০-৩৮-০, তাহির ৪-০-৩৩-৩)

ফল: মুলতান সুলতানস ৪৭ রানে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন

ম্যান অব দা ম্যাচ: শোয়েব মাকসুদ

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: শোয়েব মাকসুদ

প্রথমবারের মতো পিএসএল চ্যাম্পিয়ন মুলতান সুলতানস (ভিডিও)

 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৫ জুন ২০২১, ১০:৫৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পেশাওয়ার জালমিকে একরকম উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) শিরোপা প্রথমবারের মতো ঘরে তুলেছে মুলতান সুলতানস।

আবুধাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে পেশোয়ারকে ৪৭ রানে হারিয়েছে মুলতান।

এ শিরোপা জয় মুলতানের জন্য বাড়তি আনন্দের বটে। কেননা দলটি প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করল।  

অন্যপক্ষে রানার্সআপ হওয়ার স্বাদ একটু বেশি তেতো লাগতে পারে পেশাওয়ারের। কেননা শেষ চার আসরের তিনটিরই ফাইনালে হেরেছে তারা। 

আগে ব্যাটিং পেয়ে তাণ্ডব চালিয়েছেন মুলতানের মাকসুদ ও রুশো। 

মাকসুদের ৩৫ বলে ৬৫ রান আর রুশোর ২১ বলে ৫০ রানের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২০৬ রান জমা করে মুলতান। শেষ ৮ ওভারে ১১৬ রান তুলেছে মুলতান!

অর্থাৎ শিরোপার ছোঁয়া পেতে ২০৭ রান করতে হতো পেশোয়ারকে, যা ছিল এবারের আসরের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। 

রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস তো গড়া দূরের কথা লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি পেশোয়ার। 

মুলতানের বোলারদের তোপে ১৫৯ রানেই থেমে যায় পেশোয়ারের ইনিংস।

শোয়েব মালিক ছাড়া পেশাওয়ারের আর কেউ নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ২৮ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৪৮ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে আরেক অভিজ্ঞ তারকা কামরান আকমলের ব্যাট থেকে। পেশোয়ারের এই ওপেনার ২৮ বলে ৩৬ রানের উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছেন। ইমরান খানের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে মাত্র ৬ রান করে আউট হন ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই ও জনাথন ওয়েলস।  

ব্লেসিং মুজারাবানিকে একটি ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাজাই। 

১৩ বলে ৬ রান করে রানআউটে কাটা পড়েন জনাথন। জনাথন আউটের সময় দশম ওভারে দলের রান তখন ৩ উইকেটে ৫৮।

দুর্দান্ত খেলতে থাকা শোয়েব মালিককে ফেরান সোহেল তানভীর। তার এক বাউন্সারে ডিপ স্কয়ার লেগে তাহিরের হাতে ধরা পড়েন শোয়েব। 

মালিকের আউটের পর ১৪ বলে ২৩ রান করেন রভম্যান। তার উইকেট নেন  মুজারাবানি।

এর পর ভেলকি দেখান প্রোটিয়া তারকা স্পিনার ইমরান তাহির। একই ওভারে শেরফান রাদারফোর্ড, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ ইমরানকে ফেরান তিনি।

২০ ওভার খেলতে পারলেও ১৫৯ রানের বেশি করতে পারেনি পেশোয়ার জালমি। ফলে ৪৭ রানে জয় পায় মুলতান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ওভারে ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন শান মাসুদ ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।

দুই ওপেনারকেই ফেরান পেসার মোহাম্মদ ইমরান।২৯ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৩৭ রান করেন মাসুদ। মাসুদের পর নিজের পরের ওভারে রিজওয়ানকে ফেরান মোহাম্মদ ইমরান। ৩০ বলে ৩০ রান করেন মুলতান অধিনায়ক। 

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর শুরু হয় মাকসুদ ও রুশোর তাণ্ডব। পেশোয়ারের বোলারদের তুলোধোনা করে ২৬ বলেই ফিফটি পূরণ করেন মাকসুদ। তার চাইতেও বেশি আগ্রাসী ছিলেন রুশো। পঞ্চাশ ছুঁতে কেবল ২০ বল খেলেছেন তিনি। ফিফটি করেই সামিন গুলের শিকার হন রাইলি রুশো। পরের বলেই জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান গুল।যদিও তা ব্যর্থ করে দেন খুশদিল শাহ।

আমাদ বাটের করা শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ২১ রান করেন খুশদিল শাহ। অন্যপ্রান্তে ৬ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন মাকসুদ। 

ম্যাচ হাইলাইটস দেখুন - 


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

মুলতান সুলতানস: ২০ ওভারে ২০৬/৪ (মাসুদ ৩৭, রিজওয়ান ৩০, মাকসুদ ৬৫*, রুশো ৫০, চার্লস ০, খুশদিল ১৫*; সামিন ৪-০-২৬-২, ইরফান ৪-০-২৭-০, ওয়াহাব ৪-০-৫২-০, বাট ৪-০-৫২-০, ইমরান ৪-০-৪৭-২)

পেশাওয়ার জালমি: ২০ ওভারে ১৫৯/৯ (আকমল ৩৬, জাজাই ৬, ওয়েলস ৬, মালিক ৪৮, রভম্যান ২৩, রাদারফোর্ড ১৮, বাট ৭, ওয়াহাব ০, ইমরান ০, সামিন ৭*, ইরফান ০*;  তানভীর ৪-০-৩৫-১, ইমরান খান ৪-১-২৭-২, মুজারাবানি ৪-০-২৬-২, দাহানি ৪-০-৩৮-০, তাহির ৪-০-৩৩-৩)

ফল: মুলতান সুলতানস ৪৭ রানে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন

ম্যান অব দা ম্যাচ: শোয়েব মাকসুদ

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: শোয়েব মাকসুদ
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন