শেষ টি-টোয়েন্টিতেও আলো ছড়িয়েছেন শামিম পাটওয়ারী (ভিডিও)
jugantor
শেষ টি-টোয়েন্টিতেও আলো ছড়িয়েছেন শামিম পাটওয়ারী (ভিডিও)

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৫ জুলাই ২০২১, ২১:৩৬:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় শেষ টি-টোয়েন্টি অঘোষিত ফাইনালে রূপ নেয়। আর সেই ম্যাচ ফাইনালের মতোই হলো। শ্বাসরুদ্ধকর ও টানটান উত্তেজনার। টি-টোয়েন্টির সবটুকু আমেজে টইটুম্বর ধুমধাড়াক্কা ম্যাচ যাকে বলে।

আর এমন ফাইনালে শেষ হাসি ফুটল মাহমুদউল্লাহর মুখে। দলনায়কের মুখে এ হাসি ফুটিয়েছেন ওপেনার সৌম্য ও অলরাউন্ডার শামিম হোসেন পাটওয়ারী।

বিশেষ করে শেষদিকে শামিম হোসেন পাটোয়ারীর মাত্র ১৫ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৩১ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস এ জয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যুববিশ্বকাপজয়ী এ তারকা নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে বদলি নেমে অসাধারণ ক্যাচ, অভিষেক ম্যাচে তার ১৩ বলে ২৯ রানের টর্নেডো ইনিংস ও শেষ ম্যাচে ৩১ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আপন আলোয় উজ্জ্বল শামিম।

রোববার আগে ব্যাট করে বাংলদেশের পেসারদের অতিরিক্ত শর্ট ও ফুলটস বল পেয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ১৯৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল না এ ম্যাচের আগে। আর রঙিন জার্সির ইতিহাসে এতো রান তাড়া করে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি।

২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলংকার দেওয়া ২১৫ রানের টার্গেট টপকে ৫ উইকেট জিতেছিল টাইগাররা।

যে কারণে রোববারের ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন অনেকেই।

কিন্তু তা হতে দেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে সৌম্য ও শামিম। ৪৯ বলে ৬৮ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে দলের জয়ে ভিত গড়ে দেন সৌম্য সরকার। বাকি কাজটা শেষ করেন শামিম হোসেন পাটওয়ারী।

জয় পেতে শেষ ৬ ওভারে বাংলাদেশের দরকার পড়ে ৫৪ রানের। ১০ রান যোগ করার পর ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান আফিফ হাসান ধ্রুব।

এরপর মাহমুদউল্লাহ ও পরে নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাকি ৪৪ রান পূরণ করেন শামিম।

এই ৪৪ রানের মধ্যে শামিমেরই ৩১ রান। ১৭তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ ছক্কা হাঁকানোর পর স্ট্রাইকে এসে বাউন্ডারি তুলে নেন শামিম। সেই ওভারে আসে ১২ রান। ১৮তম ওভারে মায়ার্সের শেষ তিন বলে টানা তিনটি চার মারেন শামিম।

সেই ওভার থেকে ১৫ রান তুলে নেন শামিম। ১৯তম ওভারে পেসার মুজারাবানির দ্বিতীয় বলটি সীমানার বাইরে পাঠান শামিম। চতুর্থ বলটি ইয়র্কর লেন্থে অফস্টাম্পের অনেক বাইরে মারেন মুজারাবানি। সেটি স্লিপ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠাতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লোভসবন্দী হন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কের আউটের পর জয়ের বন্দরে পৌঁছুতে বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৭ রান। হাতে বল ৮টি।

তবে লক্ষ্যে পৌঁছতে আট বল প্রয়োজন পড়েনি শামিমের। শেষ ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোর লেভেন করেন শামিম। পরের বলে সোহানের সঙ্গে স্ট্রাইক বদল করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যান।

অর্থাৎ শামিমের নৈপুণ্যে ৪ বল বাকি থাকতেই জিম্বাবুয়ের বিশাল সংগ্রহ পাড়ি দিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

ফিল্ডিংয়েও শামিম ছিলেন অনন্য। বিশেষ করে নাঈম ও শামিমের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের হার্ডহিটার চাকাভাকে সাজঘরে ফেরেন।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১২তম ওভারে সৌম্যর করা প্রথম বলে ডিপ মিডউইকেটে উড়িয়ে মারেন চাকাভা। নাঈম দৌড়ে এসে ক্যাচটি লুফে নিলেও ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিজেই বাউন্ডারি হয়ে যাচ্ছিলেন। তার আগেই বলটি ছুড়ে দেন শামিমের কাছে। শামিম তা লুফে নিলে মাত্র ২১ বলে ৪৮ রান করা চাকাভা ফেরেন সাজঘরে।

সেই আউটের ভিডিওটি দেখুন -

সিরিজ ও ম্যাচসেরার পুরস্কার সৌম্য সরকারের হাতে গেলেও এ টি-টোয়েন্টি সিরিজে শামিম আপন আলোয় দীপ্তমান।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে একাদশে ঠাঁই না পেলেও লিটনের ইনজুরিতে ফিল্ডিংয়ে নামার সুযোগ হয়েছিল শামিমের। আর ফিল্ডার হিসেবে তিনি যে দুরন্ত তা প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেই জানান দেন।

হারারেতে বৃহস্পতিবারের ওই ম্যাচে লং অনে বাউন্ডারি ঘেঁষে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন শামিম।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে যেখানে নিশ্চিত বাউন্ডারি ভেবেছিলেন জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যান রায়ান বার্ল, সেখানে আউট হয়ে ফিরলেন প্যাভিলিয়নে।

চিতার গতিতে অনেকটা পথ দৌড়ে এসে বাজপাখির মতো শূন্যে ভেসে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল তালুবন্দি করেন শামিম।

এতেই শেষ নয়, গতি থাকায় শরীরটা লেগে যাচ্ছিল বাউন্ডারি লাইনে। বলসহ নিজেই চার হয়ে যাচ্ছিলেন। সেটাও সামলে নিলেন শামীম।

সব কিছু মিলে অনন্য এক অ্যাথলেট প্রদর্শন দেখল ক্রিকেটপ্রেমীরা। মনে করিয়ে দিল জন্টি রোডসের কথা!

সেই ক্যাচটি দেখুন-

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে ৭১তম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ঘটে শামিমের। অভিষেকেই নিজের জাত চেনান শামিম।

লুক জঙ্গুয়ের বলে আউট হওয়ার আগে মাত্র ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ২৯ রানের ইনিংস খেলেন শামিম।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছিলেন, অভিষেকেই শামিম নিজের যোগ্যতার কথা জানান দিল। তবে আক্ষেপ একটাই সেই ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারলে জয়টা আমাদেরও হতে পারত।

শেষ টি-টোয়েন্টিতেও আলো ছড়িয়েছেন শামিম পাটওয়ারী (ভিডিও)

 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৫ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় শেষ টি-টোয়েন্টি অঘোষিত ফাইনালে রূপ নেয়। আর সেই ম্যাচ ফাইনালের মতোই হলো। শ্বাসরুদ্ধকর ও টানটান উত্তেজনার। টি-টোয়েন্টির সবটুকু আমেজে টইটুম্বর ধুমধাড়াক্কা ম্যাচ যাকে বলে।

আর এমন ফাইনালে শেষ হাসি ফুটল মাহমুদউল্লাহর মুখে। দলনায়কের মুখে এ হাসি ফুটিয়েছেন ওপেনার সৌম্য ও অলরাউন্ডার শামিম হোসেন পাটওয়ারী।

বিশেষ করে শেষদিকে শামিম হোসেন পাটোয়ারীর মাত্র ১৫ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৩১ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস এ জয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যুববিশ্বকাপজয়ী এ তারকা নিজের জাত চিনিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে বদলি নেমে অসাধারণ ক্যাচ, অভিষেক ম্যাচে তার ১৩ বলে ২৯ রানের টর্নেডো ইনিংস ও শেষ ম্যাচে ৩১ রানের হার না মানা বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আপন আলোয় উজ্জ্বল শামিম।   

রোববার আগে ব্যাট করে বাংলদেশের পেসারদের অতিরিক্ত শর্ট ও ফুলটস বল পেয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ১৯৩ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এত রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল না এ ম্যাচের আগে। আর রঙিন জার্সির ইতিহাসে এতো রান তাড়া করে বাংলাদেশের জয়  মাত্র একটি।

২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলংকার দেওয়া ২১৫ রানের টার্গেট টপকে ৫ উইকেট জিতেছিল টাইগাররা।  

যে কারণে রোববারের ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন অনেকেই।

কিন্তু তা হতে দেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে সৌম্য ও শামিম। ৪৯ বলে ৬৮ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে দলের জয়ে ভিত গড়ে দেন সৌম্য সরকার। বাকি কাজটা শেষ করেন শামিম হোসেন পাটওয়ারী।

জয় পেতে শেষ ৬ ওভারে বাংলাদেশের দরকার পড়ে ৫৪ রানের। ১০ রান যোগ করার পর ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান আফিফ হাসান ধ্রুব।

এরপর মাহমুদউল্লাহ ও পরে নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাকি ৪৪ রান পূরণ করেন শামিম।

এই ৪৪ রানের মধ্যে শামিমেরই ৩১ রান। ১৭তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ ছক্কা হাঁকানোর পর স্ট্রাইকে এসে বাউন্ডারি তুলে নেন শামিম। সেই ওভারে আসে ১২ রান। ১৮তম ওভারে মায়ার্সের শেষ তিন বলে টানা তিনটি চার মারেন শামিম।

সেই ওভার থেকে ১৫ রান তুলে নেন শামিম। ১৯তম ওভারে পেসার মুজারাবানির দ্বিতীয় বলটি সীমানার বাইরে পাঠান শামিম। চতুর্থ বলটি ইয়র্কর লেন্থে অফস্টাম্পের অনেক বাইরে মারেন মুজারাবানি। সেটি স্লিপ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠাতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লোভসবন্দী হন মাহমুদউল্লাহ। অধিনায়কের আউটের পর জয়ের বন্দরে পৌঁছুতে বাংলাদেশের প্রয়োজন পড়ে মাত্র ৭ রান। হাতে বল ৮টি।

তবে লক্ষ্যে পৌঁছতে আট বল প্রয়োজন পড়েনি শামিমের। শেষ ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্কোর লেভেন করেন শামিম। পরের বলে সোহানের সঙ্গে স্ট্রাইক বদল করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যান।

অর্থাৎ শামিমের নৈপুণ্যে ৪ বল বাকি থাকতেই জিম্বাবুয়ের বিশাল সংগ্রহ পাড়ি দিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

ফিল্ডিংয়েও শামিম ছিলেন অনন্য। বিশেষ করে নাঈম ও শামিমের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের হার্ডহিটার চাকাভাকে সাজঘরে ফেরেন।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১২তম ওভারে সৌম্যর করা প্রথম বলে ডিপ মিডউইকেটে উড়িয়ে মারেন চাকাভা। নাঈম দৌড়ে এসে ক্যাচটি লুফে নিলেও ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিজেই বাউন্ডারি হয়ে যাচ্ছিলেন। তার আগেই বলটি ছুড়ে দেন শামিমের কাছে। শামিম তা লুফে নিলে মাত্র ২১ বলে ৪৮ রান করা চাকাভা ফেরেন সাজঘরে।

সেই আউটের ভিডিওটি দেখুন -

সিরিজ ও ম্যাচসেরার পুরস্কার সৌম্য সরকারের হাতে গেলেও এ টি-টোয়েন্টি সিরিজে শামিম আপন আলোয় দীপ্তমান।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে একাদশে ঠাঁই না পেলেও লিটনের ইনজুরিতে ফিল্ডিংয়ে নামার সুযোগ হয়েছিল শামিমের। আর ফিল্ডার হিসেবে তিনি যে দুরন্ত তা প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেই জানান দেন।

হারারেতে বৃহস্পতিবারের ওই ম্যাচে লং অনে বাউন্ডারি ঘেঁষে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন শামিম।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে যেখানে নিশ্চিত বাউন্ডারি ভেবেছিলেন জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যান রায়ান বার্ল, সেখানে আউট হয়ে ফিরলেন প্যাভিলিয়নে।

চিতার গতিতে অনেকটা পথ দৌড়ে এসে বাজপাখির মতো শূন্যে ভেসে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল তালুবন্দি করেন শামিম।

এতেই শেষ নয়, গতি থাকায় শরীরটা লেগে যাচ্ছিল বাউন্ডারি লাইনে। বলসহ নিজেই চার হয়ে যাচ্ছিলেন। সেটাও সামলে নিলেন শামীম।

সব কিছু মিলে অনন্য এক অ্যাথলেট প্রদর্শন দেখল ক্রিকেটপ্রেমীরা। মনে করিয়ে দিল জন্টি রোডসের কথা!

সেই ক্যাচটি দেখুন-

দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে ৭১তম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ঘটে শামিমের। অভিষেকেই নিজের জাত চেনান শামিম।

লুক জঙ্গুয়ের বলে আউট হওয়ার আগে মাত্র ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ২৯ রানের ইনিংস খেলেন শামিম।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বলেছিলেন, অভিষেকেই শামিম নিজের যোগ্যতার কথা জানান দিল। তবে আক্ষেপ একটাই সেই ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারলে জয়টা আমাদেরও হতে পারত।

 

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশের জিম্বাবুয়ে সফর ২০২১