মাগুরার ফয়সাল ক্রিকেটের সাকিব
jugantor
মাগুরার ফয়সাল ক্রিকেটের সাকিব

  আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

সাকিব আল হাসান

টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ ক্রিকেটার মাঠে নামবেন জয়ের সুতীব্র বাসনা নিয়ে। আর তাদের সাফল্যের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করবেন ১৭ কোটি মানুষ। বাংলাদেশ কাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করেছে টি ২০ বিশ্বকাপ। ১৫ টাইগারকে নিয়ে এই ধারাবাহিক আয়োজনের দ্বিতীয় কিস্তিতে আজ সাকিব আল হাসানের কথা-

আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা

বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ফুটবলার হবে। কিন্তু ছেলে হলো ক্রিকেটার। মাগুরার ফয়সাল এখন ক্রিকেট দুনিয়ার সাকিব আল হাসান।

ছোটবেলায় ফুটবল ছিল সাকিবের সঙ্গী। ফুটবলের সঙ্গে ছিল সখ্য। রাতে ঘুমাতে যেত বল কোলে নিয়ে। পড়ার টেবিল, বিছানার

পাশে বল তার চাই। এজন্য মায়ের বকুনি, বাবার ধমক কম খেতে হয়নি। লেখাপড়া

শিখে মানুষ হতে হবে, এটাই ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত। মায়ের দেওয়া আদুরে নাম ফয়সাল আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।

স্কুলে নিয়মিত না যাওয়া, বাড়িতে ঠিকমতো পড়তে না বসা-এ সবই ছিল ফয়সালের কাজ! সকাল-দুপুর-বিকাল কাটত দুরন্তপনায়। ফুটবল আর ক্রিকেট খেলার জন্য বাড়ির বাইরে কেশব মোড়ের ছেলেটি বিশ্বক্রিকেটে এখন দাপুটে ক্রিকেটার।

ফয়সালের আটপৌরে খেলোয়াড়ি পথচলায় একদিন দৃষ্টি কাড়ে মাগুরার ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেন গোর্কির। তার কাছে তিন বছর প্রশিক্ষণ

নেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই

তার এগিয়ে চলা। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘১৯৯৮ সালে যখন

সাকিব মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, সে সময় আমার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। সাকিব তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়।’

সাকিব প্রথম তার প্রতিভার পরিচয় দেন বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে গিয়ে। সেখানে ২২ রানে চার উইকেট নিয়ে তুখোড় বোলার হিসাবে নিজের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেন। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান। সেখানে ১০৮ রানে নটআউট থাকেন। ওই ম্যাচে কুষ্টিয়া দলকে হারিয়ে মাগুরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০০১ সালে বিকেএসপির ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইয়ে নির্বাচিত হয়। পরে নড়াইলে এক মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সে নির্বাচকদের দৃষ্টিতে আসে সাকিব। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট

জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়।

সাকিবের ছোটবেলার খেলার সঙ্গী সৈয়দ

তারিক আনাম প্রতীক। ফয়সাল আজ সারাবিশ্বে সাকিব নামে আলোচিত ক্রিকেটার। বন্ধুর কৃতিত্ব আপ্লুত করে প্রতীককে। সাকিবের ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মা

শিরিন রেজা বলেন, ‘একদিন পড়তে না বসায় রেগে গিয়ে তার প্রিয় ব্যাট ভেঙে ফেলি।

তার সে কি কান্না! ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল ফয়সাল। মনে আছে সেদিনের কথা।’

মাগুরার সাবেক ফুটবলার সাকিবের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মাশরুর রেজা কুটিল বলেন, ‘ছেলেকে ফুটবলার হিসাবে গড়ে তুলব, এই ইচ্ছা নিয়ে প্রতিদিন তাকে নিয়ে যেতাম স্টেডিয়ামে। সে এখন ক্রিকেটার। আমার মনে যা থাক, ছেলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছি সব সময়। তবে আমি তার খেলার সমালোচনা করি। কিন্তু সরাসরি খেলা দেখার প্রতি আমার আগ্রহ নেই। ক্রিকেটে প্রতি বলে অনিশ্চয়তা। ছেলে ব্যর্থ হলে সবার চেয়ে আমাকে তা বেশি ব্যথিত করে। যে কারণে উত্তেজনা থেকে দূরে থাকতে ধারণ করা খেলা পরে দেখি।’

আন্তর্জাতিক টি ২০-তে সাকিব আল হাসান

ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় স্ট্রাইক রেট ৫০ উইকেট

৮৯ ১৭৮৩ ৮৪ ২২.৮৬ ১২০.৫৫ ৯ ১০৮

মাগুরার ফয়সাল ক্রিকেটের সাকিব

 আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান

টি ২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ ক্রিকেটার মাঠে নামবেন জয়ের সুতীব্র বাসনা নিয়ে। আর তাদের সাফল্যের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করবেন ১৭ কোটি মানুষ। বাংলাদেশ কাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করেছে টি ২০ বিশ্বকাপ। ১৫ টাইগারকে নিয়ে এই ধারাবাহিক আয়োজনের দ্বিতীয় কিস্তিতে আজ সাকিব আল হাসানের কথা-

আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা

বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ফুটবলার হবে। কিন্তু ছেলে হলো ক্রিকেটার। মাগুরার ফয়সাল এখন ক্রিকেট দুনিয়ার সাকিব আল হাসান।

ছোটবেলায় ফুটবল ছিল সাকিবের সঙ্গী। ফুটবলের সঙ্গে ছিল সখ্য। রাতে ঘুমাতে যেত বল কোলে নিয়ে। পড়ার টেবিল, বিছানার

পাশে বল তার চাই। এজন্য মায়ের বকুনি, বাবার ধমক কম খেতে হয়নি। লেখাপড়া

শিখে মানুষ হতে হবে, এটাই ছিল পরিবারের প্রথম শর্ত। মায়ের দেওয়া আদুরে নাম ফয়সাল আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র।

স্কুলে নিয়মিত না যাওয়া, বাড়িতে ঠিকমতো পড়তে না বসা-এ সবই ছিল ফয়সালের কাজ! সকাল-দুপুর-বিকাল কাটত দুরন্তপনায়। ফুটবল আর ক্রিকেট খেলার জন্য বাড়ির বাইরে কেশব মোড়ের ছেলেটি বিশ্বক্রিকেটে এখন দাপুটে ক্রিকেটার।

ফয়সালের আটপৌরে খেলোয়াড়ি পথচলায় একদিন দৃষ্টি কাড়ে মাগুরার ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেন গোর্কির। তার কাছে তিন বছর প্রশিক্ষণ

নেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও ধারাবাহিক সাফল্যে কেবলই

তার এগিয়ে চলা। সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘১৯৯৮ সালে যখন

সাকিব মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, সে সময় আমার একাডেমিতে আসে প্রশিক্ষণ নিতে। সাকিব তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়।’

সাকিব প্রথম তার প্রতিভার পরিচয় দেন বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে গিয়ে। সেখানে ২২ রানে চার উইকেট নিয়ে তুখোড় বোলার হিসাবে নিজের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেন। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের হয়ে খেলার সুযোগ পান। সেখানে ১০৮ রানে নটআউট থাকেন। ওই ম্যাচে কুষ্টিয়া দলকে হারিয়ে মাগুরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

২০০১ সালে বিকেএসপির ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাইয়ে নির্বাচিত হয়। পরে নড়াইলে এক মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সে নির্বাচকদের দৃষ্টিতে আসে সাকিব। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট

জাতীয় দলে তার অভিষেক হয়।

সাকিবের ছোটবেলার খেলার সঙ্গী সৈয়দ

তারিক আনাম প্রতীক। ফয়সাল আজ সারাবিশ্বে সাকিব নামে আলোচিত ক্রিকেটার। বন্ধুর কৃতিত্ব আপ্লুত করে প্রতীককে। সাকিবের ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মা

শিরিন রেজা বলেন, ‘একদিন পড়তে না বসায় রেগে গিয়ে তার প্রিয় ব্যাট ভেঙে ফেলি।

তার সে কি কান্না! ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল ফয়সাল। মনে আছে সেদিনের কথা।’

মাগুরার সাবেক ফুটবলার সাকিবের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মাশরুর রেজা কুটিল বলেন, ‘ছেলেকে ফুটবলার হিসাবে গড়ে তুলব, এই ইচ্ছা নিয়ে প্রতিদিন তাকে নিয়ে যেতাম স্টেডিয়ামে। সে এখন ক্রিকেটার। আমার মনে যা থাক, ছেলের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েছি সব সময়। তবে আমি তার খেলার সমালোচনা করি। কিন্তু সরাসরি খেলা দেখার প্রতি আমার আগ্রহ নেই। ক্রিকেটে প্রতি বলে অনিশ্চয়তা। ছেলে ব্যর্থ হলে সবার চেয়ে আমাকে তা বেশি ব্যথিত করে। যে কারণে উত্তেজনা থেকে দূরে থাকতে ধারণ করা খেলা পরে দেখি।’

আন্তর্জাতিক টি ২০-তে সাকিব আল হাসান

ম্যাচ রান সর্বোচ্চ গড় স্ট্রাইক রেট ৫০ উইকেট

৮৯ ১৭৮৩ ৮৪ ২২.৮৬ ১২০.৫৫ ৯ ১০৮

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন