তারা হয়ত খেলবেন না, কিন্তু...

  অনলাইন ডেস্ক ২৬ মে ২০১৮, ০৩:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবল
বিশ্বকাপ ফুটবল। ছবি: ডয়চে ভেলে

তারা গোল করবেন না, গোল অ্যাসিস্টও করবেন না, কিংবা প্রতিপক্ষকে রুখে দেবেন না বা গোল বাঁচাবেন না। তারপরও বিশ্বকাপের ৩২টি দলেই তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা কারা?

ফুটবলের অঙ্ক বলে, মাঠে খেলা শুরু করবেন এগার জন। এরপর নির্ধারিত সময়ে তিনজন বদলি খেলবেন এবং আরও একজন অতিরিক্ত সময়ে অন্য কারো বদলে নামতে পারবেন। অর্থাৎ ২৩ জনের স্কোয়াডের কারো কারো হয়ত পুরো আসরেই মাঠে নামা হবে না।

কিন্তু কেন তারা এত গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের দলের সদস্য হিসেবে নাম থাকায় সারাক্ষণ দলের সঙ্গে থাকতে হবে তাদের। অথচ মাঠে না নামতে পারার হতাশা কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে।

নিজেদের গর্ব চূর্ণবিচূর্ণ করে কোচ কখন একটু সদয় দৃষ্টি দেবেন সে আশায় থাকতে হবে। হয়ত কেউ কেউ মনে মনে আশা করবেন, তার জায়গায় যিনি সুযোগ পেয়েছেন, তিনি যেন খারাপ খেলেন।

তার মানে দলে এক ধরনের বিভক্তি, বা অসম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব যারা মাঠে খেলবেন তাদের ওপরও পড়বে। তাই এই খেলোয়াড়দের মন মানসিকতা ভালো থাকাটা খুব জরুরি পুরো দলের জন্য।

উলটোদিকে, মূল দলে জায়গা না দিয়েও এদের অনুপ্রাণিত রাখা কোচের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ, যাতে করে দলের প্রয়োজনে তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে মাঠে নামতে প্রস্তুত থাকেন, এবং দলের মধ্যে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেন, যার প্রভাব সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর পড়ে৷

ফ্রেঞ্চ কোচ দিদিয়ের দেশঁ বলেন, তারা যেন নিজেদেরও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন, এবং দলকে সমর্থন করেন, তেমন মনোভাব সবসময় বজায় রাখা সত্যিই কঠিন। যারা হয়ত খেলবেনই না, বা খেললেও একেবারে অল্পই খেলবেন, তাদের আমি অনেকটা সময় দিই।

গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ মিডফিল্ডার মাসিমো লুয়োঙ্গো স্কোয়াডে সেই চার জনের একজন ছিলেন, যাদের এক সেকেন্ডের জন্যেও কোচ মাঠে ব্যবহার করেননি। ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন লুয়োঙ্গো। তাই খেলতে না পারার সময়টা তার জন্য ‘কঠিন' ছিল বলে জানান তিনি।

এপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দিদিয়ের দেশঁ বলেন, আমাদের অনেকজন মিডফিল্ডার ছিলেন। আমি সবচেয়ে তরুণ ও নবীনতম ছিলাম। ইস্, যদি এক মিনিটের জন্য হলেও বিশ্বকাপে খেলতে পারতাম! আফসোস করছিলেন তিনি৷

তিনি বলেন, মনে হচ্ছিল, আমার পেটে একটা ফুটো হয়ে গেছে, যা কোনোভাবেই বন্ধ করতে পারছিলাম না। তাই এই বিশ্বকাপে মাঠে নামার জন্য মরিয়া হয়ে আছি আমি।'

দলে কখনোই প্রথম বাছাই না হয়েও একবার সুযোগ পেয়ে যদি অসাধারণ কিছু করে দেখানো যায়, তাহলেই কেল্লাফতে।যেমন ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগাল দলের খেলোয়াড় এডার। ফরোয়ার্ডের এই খেলোয়াড় একটু আধটু গ্রুপ ম্যাচে সুযোগ পেলেও নকআউট রাউন্ডে কোনো সুযোগই পাচ্ছিলেন না।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে ৭৯তম মিনিটে কোচ তার ওপর ভরসা রাখলেন। অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করে তিনি কোচের মানই শুধু রাখলেন না, প্রমাণ করলেন নিজেকে।

দলের অব্যবহৃত খেলোয়াড়রা অন্যভাবেও দলকে সাহায্য করতে পারেন। যেমন, গত বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক নিক রিমান্ডো একবারের জন্যও মাঠে নামেননি। কিন্তু তিনি অনুশীলনে বেশি বেশি খাটছিলেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি চাইছিলাম যেন মূল গোলরক্ষকের ওপর চাপ কম পড়ে। তার শক্তিক্ষয় কম হয়। তাহলে খেলার সময় তিনি তা কাজে লাগাতে পারবেন।

অনেক খেলোয়াড় তাদের দলকে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে প্রতিপক্ষ দলের মত খেলেন অনুশীলনে। যেমন অস্ট্রেলিয়ার কোচ পোস্টেকোগলু গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের অনুশীলনের সময় প্রতিপক্ষ চিলি, নেদারল্যান্ডস বা স্পেনের মত খেলতে বলেন মূল একাদশের বাইরের খেলোয়াড়দের। তাতে ম্যাচের মতোই আবহ তৈরি হয়। খেলোয়াড়রা প্রস্তুতি নিতে পারেন।

মাঝে মাঝে কোচদের কড়াও হতে হয়৷ যেমন বেলজিয়ামের কোচ মার্ক উইলমটস গত বিশ্বকাপের কথা স্মরণ করে বলেন, আমি বলেছিলাম যে, এমন খেলোয়াড় চাই না, যারা নিজের দিকেই শুধু তাকাবে। আমি এমন খেলোয়াড়ই চাই, যারা দেশের জন্য খেলবে। কাউকে যদি দলের মধ্যে এ সব নিয়ে তাচ্ছিল্য করতে দেখি, তাহলে তাকে পত্রপাঠ বাড়িতে পাঠিয়ে দেবো।

তবে না খেলতে পারলেও এমন আসরে দলের অংশ হওয়াও যে অনেক বড় ব্যাপার তা মনে করিয়ে দিলেন উইলমটস নিজেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। ১৯৯০ এর বিশ্বকাপে ইটালি দলের সদস্য থাকলেও মাঠে খেলার সুযোগ পাননি।

লুয়োঙ্গোও মনে করেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপ তাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। তার কথায়, আমি ওই অল্প সময়েই অনেক কিছু শিখেছি। যখন ক্লাবে ফিরে আসলাম, তখন মনে হচ্ছিল আগাগোড়া আমি ভিন্ন এক খেলোয়াড়। সূত্র: ডয়চে ভেলে

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.