ফুটবল কলঙ্কিত, স্বীকারোক্তি সালাউদ্দিনের
jugantor
ফুটবল কলঙ্কিত, স্বীকারোক্তি সালাউদ্দিনের

  আল-মামুন  

০৬ এপ্রিল ২০২২, ১৯:০৯:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

‘ভাই তাড়াতাড়ি গোলদেন, এ সময়ের মধ্যে গোল দিতে হবে। ’বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ম্যাচে ফরাশগঞ্জের ফুটবলার এমনটা বলছেন আজমপুর ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়কে।

এই ম্যাচে আজমপুর ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত ছিল- এমন অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন দলটির কোচ ও ম্যানেজার।

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে। যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেন দেশের ফুটবলের এই কিংদন্তি-

যুগান্তর: চ্যাম্পিয়নশিপে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে আজমপুর ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে যদি কিছু বলেন?

কাজী সালাউদ্দিন: আসলে এ ব্যাপারে আমার হাতে প্রমাণ না আসা পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারব না। আমি ফেডারেশনে আলাপ করেছি তারা বলেছে এরকম একটা অভিযোগ আসছে। অলরেডি আমরা তদন্তের জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছি। ম্যাচ ফিক্সিং তদন্তে আমাদের একটা স্পেশাল টিম আছে, যেখানে সিআইডি আছে। ওই টিমকে অলরেডি জানানো হয়েছে। ওদের রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা অ্যাকশনে যাব।

তদন্ত চলছে। একজন বললেই তো আর হবে না এবং কোচের সাথে ক্লাবে সমস্যা হয়েছে কিনা তাওতো আমরা জানি না। আমরা তদন্ত করে যদি রিপোর্টে এমন কিছু পাই তখন অ্যাকশনে যাব।

যুগান্তর: আজমপুরের পদত্যাগ করা কোচের অভিযোগ তার দল দ্বিতীয় বিভাগে খেলার যোগ্য নয়। কিন্তু বাফুফে সরাসরি চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে জায়গা করে দিয়েছে। বাফুফে সভাপতি হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে?

কাজী সালাউদ্দিন: বাফুফের কারণে কেন হবে! যারা আবেদন করে, নিয়মে যেটা আছে, বাফুফের দোষটা কোথায় আমি বুঝে পাই না। খালি বাফুফে বাফুফে করে! নিয়ম যেটা আছে, নিয়মে আবেদন করলে আপনি যদি কাইটেরিয়া ফুলফিল করেন তাহলে খেলতে পারবেন। না করলে পারবে না। যারা খেলতে পারেনা তারাও বাফুফেকে গালাগালি করে, যারা খেলার সুযোগ পায় তারাও গালাগালি করে। মানে এটা একটা সুবিধা হয়ে গেছে। হারতে থাকলে রেফারি দোষ আর জিতলে ভালো।

যুগান্তর: টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া একটিক্লাবের ফুটবলারদের যখন রেললাইনের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়, যেখানেশব্দদূষণ এবং মশার উতপাতের কারণে ২৪ ঘণ্টা মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। এমন একটি ক্লাবকে কেনো অংশ নিতে দেয়া হলো। এখানে বাফুফের কোনো দায়বদ্ধতা নেই?

কাজী সালাউদ্দিন: এমন সমস্যা থাকলে প্লেয়াররা খেলবে কেন? প্লেয়ারা খেলা ছেড়ে দিতে পারে। কেন বাফুফের দায়বদ্ধতা থাকবে। কীভাবে থাকবে, আপনি বলেন। আমাকে গভমেন্ট কি ফান্ড দেয়! আমাকে এই কাজ করতে ফান্ড দেয়। এটা তো আমার দেখার বিষয় না। ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের প্যালেসেও রাখতে পারে আবার ফাইভস্টার হোটেলেও রাখতে পারে। বাফুফে সব করবে কিভাবে, বাফুফে তো খোদা না। কিছু হইলেই বাফুফের দোষ। বাফুফের একটাই কাজ হলো টুর্নামেন্ট অর্গানাইজ করা। ক্লাব না চাইলে খেলবে না। বাফুফের এগুলো করতে গেলে টাকা লাগবে। বাফুফের কোনো অধিকার নেই সিস্টেমের বাইরে কাউকে টাকা দেওয়ার। যদি আমি ওদের এক হাজার টাকা দেই তাহলে সব ক্লাবকেই দিতে হবে।

যুগান্তর: অতীতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ছিল। কিন্তু ইদানীং স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠছে যে- কোন টাইমে কতগুলো গোল হবে...!

কাজী সালাউদ্দিন: আহা! আমিতো উত্তর দিয়েই দিলাম। এটার মধ্যে আমরাও ঘুমায়ে নাই। আপনি তো ইচ্ছা করলে যা ইচ্ছা লিখতেই পারেন। তবে আমার অ্যাকশনে যাওয়ার আগে তো প্রমাণ দিতে হবে। কারণ (শাস্তি দিলে) তারা তো কোর্টে যাবে। প্রমাণের জন্য যা যা দরকার আমরা তা করছি। যখনই পাব তখনই অ্যাকশনে যাব। গত বছরও হয়েছে।

যুগান্তর: প্রমাণিত হলে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন?

কাজী সালাউদ্দিন: সাসপেনশন।

যুগান্তর: সাসপেনশনকে কেউ যদি পাত্তা না দেয়। ফুটবলকে কলঙ্কিত করা এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে তখন আর কী করা যেতে পারে?

কাজী সালাউদ্দিন: আমি আর কী করতে পারি! আমি একটাই করতে পারি সাসপেনশন। সাসপেনশন করার পর খেলতে পারবে না। ক্লাবই থাকবে না। আমি আর কী করতে পারি!

যুগান্তর: আপনি কী মনে করেন এসব ঘটনায় ফুটবল কলঙ্কিত হচ্ছে?

কাজী সালাউদ্দিন: অবশ্যই।

যুগান্তর: আপনি ফুটবলের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। দেশের ফুটবলের বড় পদে আপনি থাকা সত্ত্বেও যখন এমন ঘটনা ঘটে, এমন ঘটনায় আপনার বোর্ডও তো কলঙ্কিত হয়...?

কাজী সালাউদ্দিন: না না না। আপনি চুরি করলে আমি কলঙ্কিত হব কেন! আপনি চুরি করলে আপনাকেই আমি পানিশমেন্ট দেব। যদি আপনাকে আমি পানিশমেন্ট না দেই তাহলে আমার অন্যায় হবে। আমি তো আপনার অভিভাবক না। আমি তো আপনার ওয়েলফেয়ার দেখব তাই না! আপনি একটা অন্যায় করছেন, অন্যায় অনুযায়ী আমি আপনাকে পানিশমেন্ট দিতে পারি। আমি যদি পানিশমেন্ট না দেই তখন আপনি বলতে পারেন। আপনারা যদি এভাবে প্যাঁচান তাহলে কঠিন হয়ে যায়।

যুগান্তর: তারপরও তো এসব বিষয় বাফুফে এড়িয়ে যেতে পারে না...?

কাজী সালাউদ্দিন: বাফুফে কোথায় এড়াল। এড়াবে কেন। এড়ানোর তো কোনো কারণ নেই। কেন এড়াবে। আমি যখনি প্রমাণ পাবো বের করে দিব। একেবারে সাসপেনশন করে দেব। তখন কারো কোনো কিছুই শোনা হবে না।

যুগান্তর: ফুটবলের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা এড়ানোর জন্য আর কী কী করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: এখান থেকে যা যা করার তাই করছি। অন্যায় করলে বের করে দেব। দুধ যেমন ছেকলে সর ওঠে, ঠিক তেমনি ছেকতে ছেকতে সর উঠবেই। এখানে বাফুফে কোনো ভাবেই জড়িত না।

যুগান্তর: কোনো ক্লাবের কর্তারাই যদি তার খেলোয়াড়দের গোল খাওয়ার জন্য উৎসাহী করেন, সেই ক্লাবকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য বাফুফে কী দায়ী নয়?

কাজী সালাউদ্দিন: আপনি বারবার একই কথা বলছেন। আমি যখন প্রমাণ করতে পারব ওই টিম ম্যাচ গড়াপেটা করেছে তখন আমি সেই টিমকে সাসপেনশন করব। এর মধ্যে বাফুফের কেউ জড়িত না। আমিও তো চাই না এটা হোক। ফেডারেশনের কেউ চায় না এটা হোক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আমকে তো আগে প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করার পর পানিশমেন্ট না দিলে তখন বাফুফের দোষ বইলেন। আপনি দেখেন না কোথায় যায়। অর্ধেক টিমই হয়তো থাকবে না। আমি তো প্রফেশনাল লোক দিয়ে (তদন্ত) করাচ্ছি। আমিতো আমার ভাই-বোন দিয়ে (তদন্ত) করাচ্ছি না।

যুগান্তর: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কাজী সলাউদ্দিন: ওকে।

ফুটবল কলঙ্কিত, স্বীকারোক্তি সালাউদ্দিনের

 আল-মামুন 
০৬ এপ্রিল ২০২২, ০৭:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘ভাই তাড়াতাড়ি গোল দেন, এ সময়ের মধ্যে গোল দিতে হবে। ’বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ম্যাচে ফরাশগঞ্জের ফুটবলার এমনটা বলছেন আজমপুর ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়কে।

এই ম্যাচে আজমপুর ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত ছিল- এমন অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন দলটির কোচ ও ম্যানেজার। 

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে। যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেন দেশের ফুটবলের এই কিংদন্তি-

যুগান্তর: চ্যাম্পিয়নশিপে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে আজমপুর ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে যদি কিছু বলেন?

কাজী সালাউদ্দিন: আসলে এ ব্যাপারে আমার হাতে প্রমাণ না আসা পর্যন্ত আমি কিছু বলতে পারব না। আমি ফেডারেশনে আলাপ করেছি তারা বলেছে এরকম একটা অভিযোগ আসছে। অলরেডি আমরা তদন্তের জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছি। ম্যাচ ফিক্সিং তদন্তে আমাদের একটা স্পেশাল টিম আছে, যেখানে সিআইডি আছে। ওই টিমকে অলরেডি জানানো হয়েছে। ওদের রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা অ্যাকশনে যাব। 

তদন্ত চলছে। একজন বললেই তো আর হবে না এবং কোচের সাথে ক্লাবে সমস্যা হয়েছে কিনা তাওতো আমরা জানি না। আমরা তদন্ত করে যদি রিপোর্টে এমন কিছু পাই তখন অ্যাকশনে যাব। 

যুগান্তর: আজমপুরের পদত্যাগ করা কোচের অভিযোগ তার দল দ্বিতীয় বিভাগে খেলার যোগ্য নয়। কিন্তু বাফুফে সরাসরি চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে জায়গা করে দিয়েছে। বাফুফে সভাপতি হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার কী বলার আছে?

কাজী সালাউদ্দিন: বাফুফের কারণে কেন হবে! যারা আবেদন করে, নিয়মে যেটা আছে, বাফুফের দোষটা কোথায় আমি বুঝে পাই না। খালি বাফুফে বাফুফে করে! নিয়ম যেটা আছে, নিয়মে আবেদন করলে আপনি যদি কাইটেরিয়া ফুলফিল করেন তাহলে খেলতে পারবেন। না করলে পারবে না। যারা খেলতে পারেনা তারাও বাফুফেকে গালাগালি করে, যারা খেলার সুযোগ পায় তারাও গালাগালি করে। মানে এটা একটা সুবিধা হয়ে গেছে। হারতে থাকলে রেফারি দোষ আর জিতলে ভালো।

যুগান্তর: টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া একটি ক্লাবের ফুটবলারদের যখন রেললাইনের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়, যেখানে শব্দদূষণ এবং মশার উতপাতের কারণে ২৪ ঘণ্টা মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। এমন একটি ক্লাবকে কেনো অংশ নিতে দেয়া হলো। এখানে বাফুফের কোনো দায়বদ্ধতা নেই?

কাজী সালাউদ্দিন: এমন সমস্যা থাকলে প্লেয়াররা খেলবে কেন? প্লেয়ারা খেলা ছেড়ে দিতে পারে। কেন বাফুফের দায়বদ্ধতা থাকবে। কীভাবে থাকবে, আপনি বলেন। আমাকে গভমেন্ট কি ফান্ড দেয়! আমাকে এই কাজ করতে ফান্ড দেয়। এটা তো আমার দেখার বিষয় না। ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের প্যালেসেও রাখতে পারে আবার ফাইভস্টার হোটেলেও রাখতে পারে। বাফুফে সব করবে কিভাবে, বাফুফে তো খোদা না। কিছু হইলেই বাফুফের দোষ। বাফুফের একটাই কাজ হলো টুর্নামেন্ট অর্গানাইজ করা। ক্লাব না চাইলে খেলবে না। বাফুফের এগুলো করতে গেলে টাকা লাগবে। বাফুফের কোনো অধিকার নেই সিস্টেমের বাইরে কাউকে টাকা দেওয়ার। যদি আমি ওদের এক হাজার টাকা দেই তাহলে সব ক্লাবকেই দিতে হবে।

যুগান্তর: অতীতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ছিল। কিন্তু ইদানীং স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠছে যে- কোন টাইমে কতগুলো গোল হবে...! 

কাজী সালাউদ্দিন: আহা! আমিতো উত্তর দিয়েই দিলাম। এটার মধ্যে আমরাও ঘুমায়ে নাই। আপনি তো ইচ্ছা করলে যা ইচ্ছা লিখতেই পারেন। তবে আমার অ্যাকশনে যাওয়ার আগে তো প্রমাণ দিতে হবে। কারণ (শাস্তি দিলে) তারা তো কোর্টে যাবে। প্রমাণের জন্য যা যা দরকার আমরা তা করছি। যখনই পাব তখনই অ্যাকশনে যাব। গত বছরও হয়েছে। 

যুগান্তর: প্রমাণিত হলে আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন?

কাজী সালাউদ্দিন: সাসপেনশন।

যুগান্তর: সাসপেনশনকে কেউ যদি পাত্তা না দেয়। ফুটবলকে কলঙ্কিত করা এমন ঘটনা বারবার ঘটতে থাকে তখন আর কী করা যেতে পারে?

কাজী সালাউদ্দিন: আমি আর কী করতে পারি! আমি একটাই করতে পারি সাসপেনশন। সাসপেনশন করার পর খেলতে পারবে না। ক্লাবই থাকবে না। আমি আর কী করতে পারি!

যুগান্তর: আপনি কী মনে করেন এসব ঘটনায় ফুটবল কলঙ্কিত হচ্ছে?

কাজী সালাউদ্দিন: অবশ্যই।

যুগান্তর: আপনি ফুটবলের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। দেশের ফুটবলের বড় পদে আপনি থাকা সত্ত্বেও যখন এমন ঘটনা ঘটে, এমন ঘটনায় আপনার বোর্ডও তো কলঙ্কিত হয়...?

কাজী সালাউদ্দিন: না না না। আপনি চুরি করলে আমি কলঙ্কিত হব কেন! আপনি চুরি করলে আপনাকেই আমি পানিশমেন্ট দেব। যদি আপনাকে আমি পানিশমেন্ট না দেই তাহলে আমার অন্যায় হবে। আমি তো আপনার অভিভাবক না। আমি তো আপনার ওয়েলফেয়ার দেখব তাই না! আপনি একটা অন্যায় করছেন, অন্যায় অনুযায়ী আমি আপনাকে পানিশমেন্ট দিতে পারি। আমি যদি পানিশমেন্ট না দেই তখন আপনি বলতে পারেন। আপনারা যদি এভাবে প্যাঁচান তাহলে কঠিন হয়ে যায়। 

যুগান্তর: তারপরও তো এসব বিষয় বাফুফে এড়িয়ে যেতে পারে না...?

কাজী সালাউদ্দিন: বাফুফে কোথায় এড়াল। এড়াবে কেন।  এড়ানোর তো কোনো কারণ নেই। কেন এড়াবে।  আমি যখনি প্রমাণ পাবো বের করে দিব। একেবারে সাসপেনশন করে দেব। তখন কারো কোনো কিছুই শোনা হবে না। 

যুগান্তর: ফুটবলের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা এড়ানোর জন্য আর কী কী করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

কাজী সালাউদ্দিন: এখান থেকে যা যা করার তাই করছি। অন্যায় করলে বের করে দেব। দুধ যেমন ছেকলে সর ওঠে, ঠিক তেমনি ছেকতে ছেকতে সর উঠবেই। এখানে বাফুফে কোনো ভাবেই জড়িত না। 

যুগান্তর: কোনো ক্লাবের কর্তারাই যদি তার খেলোয়াড়দের গোল খাওয়ার জন্য উৎসাহী করেন, সেই ক্লাবকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য বাফুফে কী দায়ী নয়?

কাজী সালাউদ্দিন: আপনি বারবার একই কথা বলছেন। আমি যখন প্রমাণ করতে পারব ওই টিম ম্যাচ গড়াপেটা করেছে তখন আমি সেই টিমকে সাসপেনশন করব। এর মধ্যে বাফুফের কেউ জড়িত না। আমিও তো চাই না এটা হোক। ফেডারেশনের কেউ চায় না এটা হোক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আমকে তো আগে প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করার পর পানিশমেন্ট না দিলে তখন বাফুফের দোষ বইলেন। আপনি দেখেন না কোথায় যায়। অর্ধেক টিমই হয়তো থাকবে না। আমি তো প্রফেশনাল লোক দিয়ে (তদন্ত) করাচ্ছি। আমিতো আমার ভাই-বোন দিয়ে (তদন্ত) করাচ্ছি না। 

যুগান্তর: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কাজী সলাউদ্দিন: ওকে।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন