মোস্তাফিজের চোট নিয়ে কিছুই জানায়নি মুম্বাই

প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৮, ০৯:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার,

এবারের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান টানা কয়েকটি ম্যাচ একাদশের বাইরে থাকার পর লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সুযোগ পান। মোস্তাফিজ জানাচ্ছেন, ২০ মে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই তিনি ইনজুরিতে পড়েছেন। কিন্তু মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এ নিয়ে বিসিবিকে কোনো ধরনের রিপোর্ট দেয়নি। এমনকি ঢাকায় এসেও প্রথমদিন অনুশীলনের পর বিসিবির ফিজিও, ট্রেনার বা কোচকে কিছু জানাননি এই বাঁ-হাতি পেসার।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি ২০ সিরিজ খেলতে জাতীয় দল ভারতে উড়াল দেয়ার দু’দিন আগে মোস্তাফিজ জানান তার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা। অনেকেই এটা ভালো চোখে দেখছিলেন না। কিন্তু বিসিবি তার সঙ্গে কথা বলার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

রোববার কোর্টনি ওয়ালশ যখন বলছিলেন, মোস্তাফিজের সামান্য চোট রয়েছে তখনই অনেকের কপালে ভাঁজ পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বাঁ-হাতি পেসার।

আইপিএল থেকে বয়ে আনা পায়ের ইনজুরি সারতে সময় লাগবে ৩-৪ সপ্তাহ। জুনের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজে উড়াল দেবে বাংলাদেশ দল। সেখানেই তাকে পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী।

ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান কাল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আজ (মঙ্গলবার) তার সঙ্গে কথা বলেছি। সে জানিয়েছে, ব্যথা প্রথমে কম ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে বেড়েছে। এক্স-রে’র পর তার চোটাক্রান্ত স্থানে চিড় ধরা পড়েছে। এরপরই তাকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মোস্তাফিজের চোট বাঁ-পায়ের বুড়ো আঙুলে। তবে সোমবার এক্স-রে’র পর টিম ম্যানেজমেন্টর অনেকে রেগে গিয়েছিলেন। ইনজুরিটা কি মোস্তাফিজ লুকিয়ে রেখেছিলেন, নাকি ফিজিও ঠিকমতো জানার চেষ্টা করেননি?

কাল অবশ্য মোস্তাফিজের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর বিষয়টি স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। তবে কাল সকালে ভারতে উড়াল দেয়ার আগে টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন মোস্তাফিজকে নিয়ে খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার জানা মতে সব ঠিকই ছিল। ২৬ মে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে সে। কোনো সমস্যা দেখিনি। সে কাউকে মুখ ফুটে কিছু বলেওনি। পরেরদিন সকালে দল ভারত যাবে। তার আগের দিন সন্ধ্যার পরে বলে আমার পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। আমি যেতে পারব না। আমার পক্ষে খেলা সম্ভব না। এটা কিছু হল? জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের এমন আচরণ ভাবা যায়! এ যে রীতিমতো দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা।’

জাতীয় দলের নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এ নিয়ে বলেন, ‘মোস্তাফিজের ইনজুরি থাকলে সেটা তার আইপিএলের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ফিজিও চিকিৎসকরাই লিখিত জানাত। কারণ যে দেশের খেলোয়াড় সে দেশের বোর্ডকে জানানো ফ্র্যাঞ্জাইজিগুলোর দায়িত্ব। যাতে দেশে ফেরার পর তাকে সেভাবে চিকিৎসা করানো যায়। কিন্তু আমরা এরকম কিছুই শুনিনি।’

আকরাম খান বলেন, ‘ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগ খেলার ছাড়পত্র নিয়ে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। এ নিয়ে খুব দ্রুতই আমি বিসিবি পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করব যে, খেলোয়াড়দের নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

এর আগেই অবশ্য বিসিবি কোনো খেলোয়াড়কে দুটির বেশি বিদেশি লিগে খেলতে দেবে না বলে একটি আইন পাস করেছে।

এদিকে মোস্তাফিজ নিজের চোট নিয়ে বলেন, ‘প্রথমে ব্যথা খুব কম ছিল। আস্তে আস্তে এটা বেড়েছে। ব্যথা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিসিবিকে বলেছি।’