আফগানদের কাছে বাংলাদেশ কেন বিবর্ণ?

  আল-মামুন ০৪ জুন ২০১৮, ২০:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

রশিদ খান-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

আফগানিস্তানের সঙ্গে হেরে যাবে টাইগাররা এই ধারণাটাও যেন অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে তাই হয়েছে। রোববার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় আফগানদের ছুড়ে দেয়া ১৬৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১২২ রানেই অলআউট সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণে ৪৫ রানের হার অনেক বড়।

এই পরাজয়ের কারণ কী? যারা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকাকে অনায়াসেই হারিয়ে দেয়, সেই টাইগাররাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে নেকড়ের মতো মাথা নিচু করে অসহায় আত্মসমর্পণ করল।

ক্রিকেট পরাশক্তিধর দলের বিপক্ষে পরাজয়ের পর আমাদের অধিনায়করা অভিজ্ঞতার অজুহাত দেখিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু ক্রিকেটে নবীন একটি দলের বিপক্ষে টাইগার নামের ক্রিকেটারদের এমন পরাজয় সত্যিই হতাশার। এই পরাজয় বাংলাদেশের অতীতের সব অর্জন মিইয়ে গেছে। এই পরাজয়ে সাকিবদের কোনো অজুহাত দেয়ার কিছু নেই।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরাজয়ের পর ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পরাজয়ের পেছনে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকে কারণ খুঁজছেন। কারো দৃষ্টিতে, রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই তামিম ইকবালের উইকেট হারানো। ১১তম ওভারে রশিদ খানের প্রথম ওভারে মুশফিকুর রহিম এবং সাব্বির রহমান রুম্মনের উইকেট হারানো। বোলিংয়ের সময়ে শেষ তিন ওভারে ৫২ রান খরচ করাসহ আরো অনেক বিষয় নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। দলের জরাজয়ের পেছনে এসবই মূল কারণ।

তবে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞতার বিবেচনায় বাংলাদেশ দলের এই পরাজয় লজ্জাজনক। ক্রিকেট খেলুড়ে দলগুলোর পদমর্যাদা বিবেচনা করা হয় টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে। সেই বিবেচনায় গত ১৮ বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ দল।

অন্যদিকে চলতি মাসেই টেস্টে পা রাখতে যাচ্ছে আফগানিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট খেলার মর্যাদা পাওয়া এই দলটি হারিয়ে দিয়েছে গত ১৮ বছর ধরে টেস্ট খেলে যাওয়া বাংলাদেশকে।

খেলা যেহেতু টি-টোয়েন্টি, সেহেতু সীমিত ওভারের ক্রিকেট দিয়ে মূল্যায়ন করলে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির আবিষ্কারের পর থেকেই খেলে আসছে বাংলাদেশ। আর ২০১০ সালে আন্তঃমহাদেশীয় কাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার মর্যাদা পায় আফগানিস্তান।

ক্রিকেটীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালে আইসিসি ট্রফিতে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে ক্রিকেটে পথচলা শুরু বাংলাদেশের। আর ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে ক্রিকেটে আবির্ভূত হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান।

তবে সব কথার শেষ কথা হলো, সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় পরাশক্তিধর দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করছে আফগানিস্তান।তাদের উন্নতির তুলনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন নামে মাত্র।

তাছাড়া টি-টোয়েন্টি সংক্ষিপ্ত ফরমেটে বাংলাদেশের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে আফগানিস্তান। বাংলাদেশ যেখানে ১০ সেখানে আফগানদের অবস্থান ৮।

শুধু র‌্যাংকিংই নয় খেলোয়াড়দের বিবেচনায়ও ছোট ফরমেটে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আফগানরা। আর বাংলাদেশ দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতার বিপরীতে আফগানদের শেষ ব্যাটসম্যান পর্যন্ত লড়াকু মানসিকতাও দুই দলের মধ্যে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়।

আর আফগানিস্তানের এমন কিছু ক্রিকেটার আছেন, যারা একাই পারেন ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে।

আইপিল কাঁপানো তারকা রশিদ-মুজিব ছাড়াও তাদের দলে যে কত ধরনের পারফর্মার রয়েছে তার উদাহরণ সামিউল্লাহ সেনওয়ারি এবং শফিকুল্লাহ। গত ম্যাচে আফগানরা যেখানে দেড়শ রান পার করতে পারে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ছিল সেখানে ২৮ বছর বয়সী শফিকুল্লাহ মাত্র ৮ বলে ২৪ এবং সেনোয়ারি ১৮ বলে ৩৮ রান করে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন।

মূলত এসব কারণেই তারুণ্যনির্ভর আফগানদের কাছে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ ছিল বিবর্ণ!

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজ: জুন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter