সিনিয়রদের দায়িত্বহীন পারফরম্যান্সই পরাজয়ের কারণ: পাপন

  স্পোর্টস রিপোর্টার ০৬ জুন ২০১৮, ১৯:২০ | অনলাইন সংস্করণ

নাজমুল হাসান পাপন
নাজমুল হাসান পাপন

এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হাতছাড়া সাকিব আল হাসানদের। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ৪৫ রান ও ৬ উইকেটে হেরে ট্রফি হাতছাড়া টাইগারদের। এই পরাজয়ের জন্য দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদেরই দায়ী করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

গত মঙ্গলবার ভারতের দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ দল। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সামিউল্লাহ সেনোয়ারি। শেষ দিকে মাত্র ১৫ বলে ৩১ রান করেন মোহাম্মদ নবী। এর আগে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৬৭ রান করে ৪৫ রাজের জয় পায় রশিদ খানরা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মঙ্গলবারের পরাজয়ের বেশকিছু কারণ ছিল। তার মধ্যে কয়েকটি হলো-

১. টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফর্মেটে একটা কথা সবারই জানা, এখানে বল সংখ্যায় কম। তাই ব্যাটিংয়ের সময়ে কোনোভাবেই ডট বল দেয়া যাবে না। আর সেটিই করে দেখালেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। ১২০ বলের মধ্যে ৫৬টি ডট বল হলে রান যে কত হবে তা আর হলফ করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

২. প্রথম টি-টোয়েন্টিতে যে উইকেটে খেলা হয়েছে, এদিনও সেই একই উইকেটেই খেলা হয়েছে। রাজীব গান্ধীর এই উইকেটটি একবার ব্যবহার হওয়ায় আরও স্লো হয়ে গেছে। রান সংগ্রহ করা একটু কঠিন ছিল এটাতে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা একমত হবেন। তাই বলে এখানে ১৫০ রানও করা যাবে না তা তো হতে পারে না!

প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া এদিনও ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করেছেন তামিমরা। আর এই ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করতে গিয়েই বালুর বাঁধের মতো ভেঙে যায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপ।

৩. প্রথম ১০ ওভারে তিন উইকেটে ৮১ রান সংগ্রহের পর মনে হয়েছিল চ্যালেঞ্জিং স্কোর হবে। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর, ১৬তম ওভারে রশিদ খানের গুগলিতেই সব শেষ হয়ে যায়। এই ওভারেই ৩ উইকেট তুলে নেন আফগান এই লেগ স্পিনার।

প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট শিকার করা রশিদের ঘূর্ণিতে এদিনও বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দল। মঙ্গলবার ৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন রশিদ খান। মূলত এসব কারণেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি।

৪. প্রত্যাশিত বোলিং তো হয়নি বরং ফিল্ডিং হয়েছে যাচ্ছেতাই। ক্রিকেট বলাই আছে ম্যাচজয়ে তিনটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো-ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং। এই তিন বিভাগে ভালো করতে না পারলে জয়ের আশা করাও বৃথা। আর এসবই প্রতিনিয়ত হয়ে আসছে টাইগারদের ক্ষেত্রে। যে কারণে অনেক ছোট দলের বিপক্ষেও অনেক বড় ব্যবধানে হারতে হয়।

৫. দলের জয় পরাজয় অনেকটাই নির্ভর করে সিনিয়রদের ক্রিকেটারদের ওপর। একটা দলের পারফরম্যান্স তখনই ভালো হয়, যখন সেই দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা কমিটমেন্ট অনুসারে পারফর্ম করতে পারেন। সিনিয়ররা ভালো করলে জুনিয়ররা অনুপ্রেরণা পান। সিনিয়রদের পাশাপাশি জুনিয়ররা সাপোর্ট দিতে পারলে ভালো রেজাল্ট আসে। কিন্তু দেরাদুনে চলমান সিরিজে বাংলাদেশ দলের সিনিয়ররা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারছেন না। যে কারণে এক ম্যাচ আগেই ট্রফি হাতছাড়া করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজ: জুন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter