মাশরাফি যেন জিয়নকাঠি
jugantor
মাশরাফি যেন জিয়নকাঠি

  স্পোর্টস ডেস্ক  

০৫ অক্টোবর ২০২২, ১২:৫৫:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মজার বিষয় হলো— ২০১৪ সালে ঠিক এই দিনেই জন্ম নেয় তার একমাত্র ছেলে সাহেল মুর্তজা। সে হিসেবে আজ বাবা-ছেলে দুজনেরই জন্মদিন।

৫ অক্টোবর পৃথিবীর বুকে আসা বাংলাদেশের এই তারকা জীবনের ৩৯ সায়াহ্ন পেরিয়ে চল্লিশে পা দিলেন আজ। এদিনই তার ছেলে সাহেল মুর্তজার ৯ম জন্মদিন।

মাঠ ও মাঠের বাইরে তুমুল জনপ্রিয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা। দীর্ঘ সময় ধরে ২২ গজে সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। একজন সফল পেসারের পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সফলতম অধিনায়ক হিসেবে।

বহু আগেই কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন মাশরাফি। দেশ ও দেশের বাইরে অর্জন করেছেন তারকাখ্যাতি।

এগারো বছর বয়সে নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবের মাধ্যমে মাশরাফির ক্রিকেট গল্পের শুরু। এর পর ১৯৯১ সালে মাগুরার হয়ে বিকেএসপির ক্যাম্প। ওই বয়সে গতি আর সুইংয়ের খেল দেখিয়ে সুযোগ পেয়ে যান খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। তার পর থেকে পথচলা শুরু।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দেশের জার্সিতে টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে অভিষেক হয় মাশরাফির। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে নিজের আগমনী বার্তা বুঝিয়ে দেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস'। একই মাসে লাল-সবুজের জার্সিতে পা রাখেন ওয়ানডে ক্রিকেটে। সে ম্যাচেও দারুণ বোলিংয়ে দলীয় সর্বোচ্চ উইকেট নেন।

বাংলাদেশের হয়ে ২০১০ সালে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন মাশরাফি। তবে লম্বা ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এর পর ফের পুরোদমে টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেন ডানহাতি পেসার।

এ সময়ের মধ্যেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন মাশরাফি। তার ছোঁয়ায় বদলে গেছে বাংলাদেশ। দেশ-বিদেশে জিততে শিখেছেন তারা। ওয়ানডেতে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক তিনিই। তার নেতৃত্বে প্রথম ৫০টি একদিনের ম্যাচ খেলেন তারা। এখন পর্যন্ত তার অধীনে সর্বোচ্চ ৮৭টি ওয়ানডে খেলেছে দল। তন্মধ্যে ৪৯টিতে জয় পেয়েছেন তারা। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ওডিআই ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এটিই।

মাশরাফির অধিনায়কত্বে দুটি বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ। টাইগার কাপ্তান হিসেবে যা প্রথম। তার অধীনে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১৫) খেলেন তারা। পাশাপাশি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচ জেতে ম্যাশ বাহিনী।

মাশরাফি যেন জিয়নকাঠি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার নেতৃত্বেই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে ওডিআই সিরিজ হারান টাইগাররা। দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোর গড়েন তারা। নড়াইল এক্সপ্রেসের নেতৃত্বেই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জেতে বাংলাদেশ।

সন্তান সাহেলকে নিয়ে আজ তাই নিজের ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। মাশরাফি ও সাহেলের জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন ভক্ত-শুভাকাঙক্ষীরা।

মাশরাফি যেন জিয়নকাঠি

 স্পোর্টস ডেস্ক 
০৫ অক্টোবর ২০২২, ১২:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মজার বিষয় হলো— ২০১৪ সালে ঠিক এই দিনেই জন্ম নেয় তার একমাত্র ছেলে সাহেল মুর্তজা। সে হিসেবে আজ বাবা-ছেলে দুজনেরই জন্মদিন।   

৫ অক্টোবর পৃথিবীর বুকে আসা বাংলাদেশের এই তারকা জীবনের ৩৯ সায়াহ্ন পেরিয়ে চল্লিশে পা দিলেন আজ। এদিনই তার ছেলে সাহেল মুর্তজার ৯ম জন্মদিন।  

মাঠ ও মাঠের বাইরে তুমুল জনপ্রিয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা। দীর্ঘ সময় ধরে ২২ গজে সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। একজন সফল পেসারের পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সফলতম অধিনায়ক হিসেবে।

বহু আগেই কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন মাশরাফি। দেশ ও দেশের বাইরে অর্জন করেছেন তারকাখ্যাতি।

এগারো বছর বয়সে নড়াইল ক্রিকেট ক্লাবের মাধ্যমে মাশরাফির ক্রিকেট গল্পের শুরু। এর পর ১৯৯১ সালে মাগুরার হয়ে বিকেএসপির ক্যাম্প। ওই বয়সে গতি আর সুইংয়ের খেল দেখিয়ে সুযোগ পেয়ে যান খুলনা বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। তার পর থেকে পথচলা শুরু।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দেশের জার্সিতে টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে অভিষেক হয় মাশরাফির। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে নিজের আগমনী বার্তা বুঝিয়ে দেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস'। একই মাসে লাল-সবুজের জার্সিতে পা রাখেন ওয়ানডে ক্রিকেটে। সে ম্যাচেও দারুণ বোলিংয়ে দলীয় সর্বোচ্চ উইকেট নেন।

বাংলাদেশের হয়ে ২০১০ সালে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন মাশরাফি। তবে লম্বা ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এর পর ফের পুরোদমে টাইগারদের দায়িত্ব বুঝে নেন ডানহাতি পেসার। 

এ সময়ের মধ্যেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন মাশরাফি। তার ছোঁয়ায় বদলে গেছে বাংলাদেশ। দেশ-বিদেশে জিততে শিখেছেন তারা। ওয়ানডেতে দেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক তিনিই। তার নেতৃত্বে প্রথম ৫০টি একদিনের ম্যাচ খেলেন তারা। এখন পর্যন্ত তার অধীনে সর্বোচ্চ ৮৭টি ওয়ানডে খেলেছে দল। তন্মধ্যে ৪৯টিতে জয় পেয়েছেন তারা। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ওডিআই ম্যাচ জয়ের রেকর্ড এটিই।

মাশরাফির অধিনায়কত্বে দুটি বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ। টাইগার কাপ্তান হিসেবে যা প্রথম। তার অধীনে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল (২০১৫) খেলেন তারা। পাশাপাশি ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচ জেতে ম্যাশ বাহিনী।

মাশরাফি যেন জিয়নকাঠি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার নেতৃত্বেই ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে ওডিআই সিরিজ হারান টাইগাররা। দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোর গড়েন তারা। নড়াইল এক্সপ্রেসের নেতৃত্বেই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জেতে বাংলাদেশ।

সন্তান সাহেলকে নিয়ে আজ তাই নিজের ৩৯তম জন্মদিন পালন করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। মাশরাফি ও সাহেলের জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভাসিয়েছেন ভক্ত-শুভাকাঙক্ষীরা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন