মেসি-আন্তোনেলার 'কিংবদন্তি প্রেম'

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৯ জুন ২০১৮, ১৮:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

মেসি-আন্তোনেলার 'কিংবদন্তি প্রেম'
মেসি-আন্তোনেলার 'কিংবদন্তি প্রেম'

খেলার মাঠে তিনি ফুটবলের ঈশ্বর, রাজপুত্র, সেরার সেরা। কিন্তু মানুষ মেসির ব্যাপ্তি বোধহয় আরও বেশি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তার ঔদ্ধত্য নেই। হাত-পা ছোড়েন না। সস্তা দরের গিমিক পছন্দ নয় তার। সব সময়েই তিনি শান্ত ও নির্বিকার।

রোনালদো বা নেইমারের মতো ‘ক্যাসানোভা’ ভাবমূর্তিও নেই তার। পোশাক বদলানোর মতো বান্ধবী বদলে খবর হন না, বরং এক নারীতেই তিনি বেজায় খুশি। তাকেই সঁপেছেন মনপ্রাণ।

এক ক্লাবের প্রতিই তার দায়বদ্ধতা। তার এই সহজ-সরল মানবিক চেহারা দেখে নারী ভক্তরাও ভালোবেসে ফেলেছেন মেসিকে। গানের কথায়, ‘‘তোমায় হৃদমাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না।’’ মেসিকে কে আর ছাড়তে চায়!

মেসি এমনই এক আবেগের নাম যার জন্য যে কোনো প্রেমিক তার সঙ্গিনীকে পর্যন্ত ত্যাগ করতে পারেন হাসিমুখে। বাস্তবেও মেসির জীবনে এমনই ঘটেছে।

মাত্র ৯ বছর বয়সে রোজারিওর আলাপ মেসি ও তার বর্তমান স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজোর। তখন আন্তোনেলার বয়স ৮। আন্তোনেলার এক দূর সম্পর্কের ভাই লুকা স্ক্যাগলিয়ার মাধ্যমেই দুজনের পরিচয়। রূপকথার জন্মও তখন থেকেই।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘৯০ মিন’কে লুকা জানিয়েছিলেন, সেই সময়েই আন্তোনেলাকে চিঠি লিখে মেসি জানিয়েছিলেন ‘‘একদিন আমরা প্রেমিক-প্রেমিকা হব।’’ তার পর? রবিঠাকুরের কথায়, ‘‘মাঝে হল ছাড়াছাড়ি।’’ মেসি-আন্তোনেলার মধ্যে বেড়ে গেল দূরত্ব।

রোজারিও ছেড়ে মেসিকে চলে যেতে হয় বার্সেলোনায়। শৈশব প্রেমও কি হারিয়ে গেল সেই সঙ্গে? মেসি বার্সেলোনায়। আন্তোনেলা রোজারিওয়।

কথায় বলে, চোখের থেকে দূরে চলে গেলে সে নাকি হৃদয় থেকেও হারিয়ে যায়। মেসির ক্ষেত্রে কিন্তু তা হয়নি। মেসির হৃদয়ে যে ছাপ ফেলে গিয়েছিল রোজারিওর এক সুপারমার্কেট মালিকের মেয়ে। আন্তোনেলার হৃদয়ের তল কি খুঁজে পেয়েছিলেন মেসি?

মেসি আর্জেন্টিনা ছাড়ার পরে আন্তোনেলার জীবনে চলে আসেন অন্য এক পুরুষ। তিন-তিনটে বছর তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল আন্তোনেলার। মেসি কি সেই সময়ে আন্তোনেলার মনে ঝড় তুলতেন না? ‘এলএম ১০’ কি মুছেই গিয়েছিলেন আন্তোনেলার হৃদয় থেকে?

‘প্রথম প্রেম’ কি কেউ কোনোদিন ভুলতে পেরেছে! ছেলেবেলার প্রেমিকের মনে আন্তোনেলা থেকেই গিয়েছিলেন স্বপ্নচারিণী হিসেবে। বার্সায় সেই কথা কবুলও করেছিলেন মেসি।

এর মধ্যেই কেটে গিয়েছে অনেক বছর। জনশ্রুতি বলে, আন্তোনেলার সেই প্রেমিক পথ দুর্ঘটনায় হারিয়ে গিয়েছেন তারার দেশে। শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

দূরে থাকলেও মেসির কানে পৌঁছয় আন্তোনেলা শোকস্তব্ধ। দ্রুত তিনি ফিরে আসেন আর্জেন্টিনায়। আন্তোনেলার পাশে সেই সময়ে এসে দাঁড়ান ফুটবলের রাজপুত্র। শৈশবের সেই প্রেম তখন থেকেই পাকাপোক্ত। বহির্জগৎ অবশ্য মেসি-আন্তোনেলার প্রেমের বিন্দুবিসর্গ জানতে পারেননি তখন।

মেসির সঙ্গেও জুড়ে গিয়েছিল কয়েকজন নারীর নাম। তবে সেগুলো ছিল একমুখী। কেউ নিজের প্রচারের জন্য মেসিকে ব্যবহার করেছিলেন। কেউ আবার রাজপুত্রের শরীরে মাখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন কলঙ্কের কালি।

রোজারিওর এক মডেল ম্যাকারেনা লেমোস একসময়ে দাবি করেছিলেন, মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ঠিক আগে মেসি যখন আর্জেন্টিনা ফিরে আসেন, তখনই আলাপ সেই মডেলের সঙ্গে। এক সংবাদমাধ্যমের কাছে লেমোস জানিয়েছিলেন, আলাপ হলেও তাকে চুম্বন পর্যন্ত করেননি মেসি।

এর মাঝে আর্জেন্টিনার মডেল-সিঙ্গার লুসিয়ানা সালাজারের সঙ্গেও নাম জড়ায় রোজারিওর বিস্ময়বালকের। লুসিয়ানা মেসির থেকে বয়সে ৬ বছরের বড়।

বেশ কিছুদিন অনলাইন ডেটিং করেছিলেন দুজনে। কিন্তু কেউই এই সম্পর্ক নিয়ে কোনও দিন মুখ খোলেননি। এসব সম্পর্কের সত্যতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

মেসির জীবনে স্থায়ী স্তম্ভের মতো থেকে গিয়েছেন কেবলমাত্র আন্তোনেলা। কিন্তু কেন? নিন্দুকরা বলতেন, মেসির স্টারডমের জন্যই আন্তোনেলার এমন সিদ্ধান্ত।

শুধুই কি স্টারডম? যে প্রেমিক খ্যাতির আলোয় এসেও, বহু নারীর হার্টথ্রব হয়েও, গ্ল্যামারের হাতছানি উপেক্ষা করে, প্রথম প্রেমিকার স্মৃতি রেখে দেন মনের মধ্যেই, তার জন্য এই সিদ্ধান্ত কি স্বাভাবিক নয়?

আন্তোনেলা হারাতে চাননি এমন ‘লয়াল’ প্রেমিককে। এই কারণেই তো অনেকে বলেন, ‘‘তুমি বললে লয়ালটি, আমি শুনলাম লিওনেল মেসি।’’

মেসি-আন্তোনেলার প্রেম কাহিনি নিয়ে শোনা যায় আরো এক বয়ান। আন্তোনেলার সেই প্রেমিক হৃদয় ভাঙার দুঃখ সামলে নিয়েছিলেন খুব সহজেই। কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম মেসি।

সংবাদ মাধ্যমের কাছে আন্তোনেলার সেই প্রেমিক একবার বলেছিলেন, আন্তোনেলা আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। ও যার জন্য আমাকে ছেড়েছে, সেই মানুষটা লিওনেল মেসি।

সান্ত্বনা মনে হলেও সেদিন নিজের কলারই বরং উঁচু হয়েছিল সেই প্রেমিকের। একদা মেসির স্ত্রীর সঙ্গে যে তার সম্পর্ক ছিল। কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যে, তা বলা মুশকিল। মেসি-আন্তোনেলার প্রেম এখন কিংবদন্তিতে পর্যবসিত হয়েছে। খবরের ভেতরের খবর যাই হোক না কেন, শৈশবের প্রেম এখন শাখাপ্রশাখা বিস্তার করেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter