জার্মানির বিদায়ের পাঁচ কারণ

  যুগান্তর ডেস্ক ২৮ জুন ২০১৮, ১৭:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

জার্মান

রাশিয়া মিশনের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর থেকেই শঙ্কাটা ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে কাজান অ্যারেনায় নিজেদের শেষ ম্যাচে সেই শঙ্কাই সত্যিতে পরিণত করে আসরের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম পর্বেই ছিটকে পড়ার আগে বিশ্বকাপ আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের স্বাদ জার্মানি শেষ বার পেয়েছিল ১৯৩৮ বিশ্বকাপে। ১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ বিদায় নিয়েছে জার্মানি। বলতে গেলে প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বে আসর থেকে ছিটকে পড়তে হলো জার্মানিকে কারণ ৩৮’ বিশ্বকাপে টুনার্মেন্ট শুরুই হয়েছিল শেষ ষোলোর নকআউট পর্ব থেকে। সুইজারল্যান্ডের কাছে সেবার “রিপ্লে” ম্যাচে ৪-২ গোলের হারে বিদায় নিয়েছিল জার্মানি।

শুধু বিদায় নিয়েছে বলেই নয়, জার্মান ভক্তদের দুঃখের কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে যাচ্ছেতাই জার্মান পারফরম্যান্স। সব মিলিয়ে বিদায়ী জার্মানির এমন করুণ বিদায়ের পেছনে পাঁচটি কারণ খুঁজে বের করেছে এএফপি।

প্রথমত, তারকাদের প্রতি আস্থা রাখলেও তার প্রতিদান পাননি কোচ জোয়াকিম লো

জার্মান কোচ জোয়াকিম লো তার দলের প্রতিষ্ঠিত এবং পুরনো সদস্যদের ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেননি এবং পুরনোরাও কোচের আস্থার প্রতিদান ঠিকমতো দেননি। যেমন মেসুত ওজিল এবং স্যামি খেদিরার কথাই উল্লেখ্য। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে এদের দুজনকেই দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে রাখেননি লো। তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামালেও শুরু থেকেই নিষ্প্রভ ছিলেন ওজিল-খাদিরা।

এমনকি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা জার্মান মিডফিল্ডার টনি ক্রুসও ছিলেন অস্বাভাবিক নিষ্প্রভ। শুধুমাত্র সুইডেনের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের কথা বাদ দিলে টনি ক্রুস তিন ম্যাচেই যেন নিজের ছায়া হয়ে বেরিয়েছেন মাঠে।

গত বিশ্বকাপ জেতায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রাখা থমাস মুলারকেও কোরিয়া ম্যাচে শুরুর একাদশে না রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দ্বিতীয়ত, প্রায় বছরের ওপর সময় ধরে স্রোতহীন নিষ্প্রভ থাকা জার্মান ফুটবল

কদিন আগেই জার্মানির সঙ্গে চুক্তিটা ২০২২ সাল পর্যন্ত নবায়ন করেছেন লো অথচ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হেরে বিদায়ের পর অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে জার্মানির হয়ে তার একযুগের স্বর্ণসময়। মেক্সিকোর কাছে হার দিয়ে শুরু, সুইডেনের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে জয়, আর শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে এমন হার! বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে সব কটিই জিতে রাশিয়ার টিকিট নিশ্চিত করলেও বিশ্বকাপের আগে প্রীতি মাচগুলোতেও ছন্দহীন ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এমনই অবস্থা শেষ করে ভালো খেলেছিল জার্মানরা সেটিও মনে করে বলতে হবে। বিশেষ করে গত ১২ মাস ধরে জার্মানদের ফুটবল অনেকটাই স্রোতহীন স্থির হয়েছিল।

এছাড়া ৪-২-৩-১ ফরম্যাশনে খেলার কৌশলের সঙ্গে লো তার দলের সদস্যদের টেকটিক্যালি উন্নতি ঘটাতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেছে এএফপি। বিশ্বকাপ জেতার সময়ের দলটিতে যেমন ফরোয়ার্ডদের সহায়তায় পেছনের তিনজন চলে আসত রক্ষনভাগ থেকে সেই কৌশলটাও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন লো।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দের অভাবে ভুগেছে জার্মানরা। সত্যি বলতে যখন চাপে পড়ে গেছে তখন দলের জন্য পারফর্ম করতে পারেনি কোনো তারকা এবং ফরোয়ার্ডরাও পারেনি দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে।

তৃতীয়ত, তরুণ তুর্কীদের সুযোগহীন রাখা

জার্মানদের হয়ে পরীক্ষিত তরুণ তুর্কীদের কাজে না লাগানোর বিষয়টিকেও একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছে এএফপি। গত বছর সিনিয়র কোনো তারকা ছাড়াই কনফেডারেন্স কাপ জেতে জার্মানি। তরুণ সেই সদস্যদের মধ্যে একমাত্র টিমো ওয়ার্নারকেই সিনিয়র টিমের সঙ্গে সুযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ কনফেডারেসন্স কাপ জেতায় যারা আলো ছড়িয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম লেয়ন গোরেটযকা, নিকলাস সুয়েলে, জুলিয়ান ব্র্যান্ডট বা সিবাস্তিয়ান রুডিদের ঠিকমতো সুযোগ দেন লো। তারা সুযোগ পেয়েছে একমাত্র সিনিয়র কোনো তারকার কার্ড বা ইনজুরি সমস্যা থাকলে।

অনেকের মতে, ম্যানচেস্টার সিটির লেরয় সানে, যে সবশেষ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের সেরা তরুণ ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিল এমন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়া উচিত ছিল জার্মান কোচের।

চতুর্থত, টুর্নামেন্টের দল বলে ঘোষণা দেয়ার অতিকথা

কাজের আগে ডামাডোল পেটানো বা অতিকথনের কারণে কখনো যা ভাবা হয় তার উল্টোটা হয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে টনি ক্রুস এবং জেরমে বোয়েটেং দুজনই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিল, জার্মানরাই রাশিয়া বিশ্বকাপের “অ্যা টুর্নামেন্ট টিম”।

তাদের অতিকথনের কারণেই হোক বা যে কারণেই হোক আসর থেকে ছিটকে পড়ায় জার্মানদের বাস্তবতা এখন পুরোটাই ভিন্ন।

বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচের সব জিতে রাশিয়া মিশনের আসলেও জার্মানি সর্বশেষ করে ভালো খেলেছে সেটি মনে করতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যেতে হয়েছে জার্মানির মাটস হামেলকে। “মেক্সিকোয় ম্যাচটার পরই আমরা নিজেদের এই অবস্থায় এনে ফেলেছি। আমরা ভালো খেলেছি এমন সর্বশেষ ম্যাচটা ছিল গতবছরে।”

পঞ্চমত, দুর্বল রক্ষণভাগ

রাশিয়া মিশনের রক্ষণভাগের দুর্বলতা বেশ ভালোই ভুগিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। কোচ জোয়াকিম লোর প্রথম পছন্দ সেন্টার ব্যাক ম্যাটস হামেলস এবং জেরমে বোয়েটেং উভয়েই ম্যাচগুলোতে ছিলেন ধীরগতির।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter