প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই: সানজামুল

  আল-মামুন ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

সানজামুল ইসলাম

প্রতিটি সফল মানুষের পেছনেই কারো না কারো অবদান আছে। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন ওই মানুষটি। তেমনি একজন ক্রিকেটার হলেন সানজামুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের শুরুতে টাকার কারণে যার ক্রিকেট কোচিং একাডেমিতে ভর্তি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য কোচের মহানুভবতায় বিনা পয়সায় ঠাই হয় একাডেমিতে। জাতীয় দলের এই বাঁহাতি স্পিনার নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের এমনই সব মজার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন যুগান্তর অনলাইনের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল-মামুন।

যুগান্তর: একটা সময়ে জাতীয় দলে স্পিনারদের জয় জয়াকার ছিল এখন পেস বোলাদের দাপট চলছে, সেখানে স্পিনার হিসেবে ভালো করাটা কি চ্যালেঞ্জিং?

সানজামুল: আপনি যখনি খেলবেন, যে ডিপার্টেমেন্টে লেখবেন সেখানে একটা প্রতিযোগিতা থাকে। পেস আর স্পিনে পার্থক্যের কিছু নেই। দুই বিভাগেই ভালো খেলতে হবে। পেস বোলাররা ভালো খেললে স্পিনারদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। একই সঙ্গে স্পিনাররা ভালো করলে পেস বোলারদের দায়িত্ব বেড়ে যায়।

যুগান্তর: এ বছরের মে মাসে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে এক ম্যাচ খেলেই বাদ পড়ে যান। আবার জাতীয় দলে ফিরলেন, নিজেকে স্থায়ী করার জন্য কোন পরিকল্পনা আছে?

সানজামুল: পরিকল্পনা একটাই ম্যাচ টু ম্যাচ পারফরম করা। আর নিজের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করা। আমি যদি আমার দুর্বল জায়গাগুলোকে আরো স্ট্রং করতে পারি তাহলে সাফল্য পাব।

যুগান্তর: আগের তুলনায় জাতীয় দলে এখন প্রতিদ্বন্ধীতা বেড়েছে। যে কারণে দল সুযোগ পাওয়ার চেয়ে টিকে থাকা মুশকিল। আপনিও কি তাই মনে করেন?

সানজামুল: যে কোন দলের জন্য এটা ভালো দিক। জাতীয় দলের এখন সবাই পারফরমার। যে কারণে দলে সুযোগ পাওয়ার চেয়ে টিকে থাকা অনেক বেশি কঠিন। নিজেকে স্থায়ী করার জন্য হার্ডওয়ার্ক করতে হবে। আমারও এমন পরিকল্পনা আছে, নিজের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে আরো বেশি কাজ করতে হবে।

যুগান্তর : আপনার ক্রিকেটার হয়ে উঠার গল্প যদি বলেন?

সানজামুল: রাজশাহীর শিউলি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মোহাম্মদ আলী স্যারের হাত ধরে ক্রিকেটে আমার হাতেখড়ি। উনি আমাকে হাতে ধরে ক্রিকেট ক্যাম্পে ভর্তি করে দেন। তখন টেনিস বলে খেলতাম। ওখান থেকে আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। এরপর রাজশাহী বিভাগের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৩ দলে ট্রায়ালে অংশ নেই। সেখানে ভালো করি। অনূর্ধ্ব-১৩ খেলার পর অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-১৭তে খেলি। এরপর প্রথম বিভাগ, জাতীয় লিগ, প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া প্রায় সবগুলো প্রতিযোগিতায় খেলেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সিনিয়র খেলোয়াড়দের কারণে দলে জায়গা পাইনি। যুব দলে আমার ব্যাসে ছিলেন মিথুন, সোহরাওয়ার্দীরা।

যুগান্তর : খেলার জন্য পরিবার থেকে সাপোর্ট পেয়েছেন?

সানজামুল: শুরুতে পরিবার থেকে খেলার জন্য সাপোর্ট পাইনি। কারণ জানেনতো সব বাবা মা’ই চান পড়াশুনা করে সন্তান মানুষ হবে। তখন কেউই চাইত না, পড়াশুনা ছেড়ে খেলায় মন দিক। তবে অনূর্ধ্ব-১৭ টিমে খেলার সময় বাবা-মা দেখল যে, ক্রিকেটে ভালো ফিউচার আছে তখন থেকে আর নিষেধ করেনি।

যুগান্তর: পরিবারের কেউ কি খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত ছিল বা আছে?

সানজামুল: আমরা ছয় ভাই। ভাইদের সবাই টুকটাক ক্রিকেট খেলত। তবে ক্রিকেট বলে তেমন কেউ খেলেনি। তারা টেনিস বলের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলত।

যুগান্তর: কখনও কি এমন হয়েছে যে, বল-ব্যাট বা প্যাড না থাকার কারণে প্রাকটিসে যেতে পারেননি?

সানজামুল: হ্যা। আমি যখন মোহাম্মদ আলী স্যারের ক্যাম্পে প্রথম খেলা শুরু করি। তখন ওখানে ভর্তি এবং বেতনের একটা ব্যাপার ছিল। ক্যাম্পে ভর্তি হওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন টাকা দিতে পারব না, তোর ব্যাট বিক্রি করে ক্যাম্পে ভর্তি হ। ব্যাট টা আমাকে বড় ভাই কিনে দিয়েছিল। তখন আমি কোচকে বললাম আমার পক্ষে টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব না। আমাকে বাসা থেকে অ্যালাউ করছে না। আমি তখন ক্যাম্পে যাওয়া বন্ধ করে দেই। পরে ওই স্যার এসে আমাকে বললেন তোমার টাকা দেয়া লাগবে না তুমি এমনিতেই প্রাকটিস কর।

যুগান্তর : তখন আপনার বাবা কী চাকরি করতেন?

সানজামুল : আমার বাবা ভূমি অফিসে চাকরি করতেন। তিনি আমাকে টাকা দিতে পারতেন, দেননি কারণ তিনি চাননি আমি পড়াশুনা বাদ দিয়ে খেলায় মন দেই।

যুগান্তর : বিপিএলের পাঁচ আসরেই আপনি খেলেছেন। এখানে বিদেশি অনেক তারকা ক্রিকেটার অংশ নেয়। তাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পেয়েছন?

সানজামুল : হ্যা, অব্যশই। বিপিএলের পাঁচ আসরেই আমি খেলেছি। বিদেশি যারা ছিলো তাদের সাথে সময় কাটাতাম। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতাম।

যুগান্তর : আপনি আসলে কোন ক্রিকেটারকে অনুসরণ করেন কার খেলা আপনার ভালো লাগে?

সানজামুল: আমি ছোটবেলা থেকেই সাকিব আল হাসানের ভক্ত। তার খেলা আমার কাছে ভালো লাগে। বিশেষ করে বোলিংটা। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ড্যানিয়েল ভ্যাটরির বোলিং মন দিয়ে দেখতাম। আর স্ট্রাইলিং ফিল্ডিংয়ের জন্য মাইকেল ক্লার্ককে পছন্দ করতাম।

যুগান্তর: আপনি নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

সানজামুল: আমি নিজেকে বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে দেখতে চাই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter