এসে হে বন্ধু এসো ফুটবল খেলি লাল সবুজের হয়ে

  রহমান মৃধা, ক্রোয়েশিয়া থেকে ১৪ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

এসে হে বন্ধু এসো ফুটবল খেলি লাল সবুজের হয়ে
রহমান মৃধা

দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই ও বোনেরা! আমরা যারা প্রবাসে বা দেশে জীবন পার করছি তাঁদের মনের মধ্যে একটা আকুতি থাকতে পারে দেশের জন্য কিছু একটা করতে পারলাম কিনা।

ছোট বেলা থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাসহ কত সাধারণ মানুষ আমাদের কতভাবে উপদেশ দিয়েছেন যাতে আমরা বড় হয়ে দেশের মুখ উজ্জল করতে পারি।

দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের গৌরব, সম্মান বৃদ্ধি করে মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারি সব বাংলাদেশি ও প্রবাসীদের জন্য। ফুটবলার হান্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে এই ব্যপারে এগিয়ে এসেছে।

১৭ কোটি মানুষের দেশে প্রতিটি জেলা থেকে একজন বা দুজন করে ১০ বছরের বালকদের তিন বছর তাদের বর্তমান স্কুলে রেখেই নিয়ম মাফিক পুষ্টিকর খাওয়া আর নিয়ম মাফিক দুই বেলা শারীরিক ফিটনেস তৈরির ব্যয়াম আর ফুটবল নিয়ে হালকা অনুশীলন করাবে।

এক দিকে চলবে বালকদের শারীরিক গঠন আরো সুঠাম করার কাজ, অন্য দিকে চলবে ঢাকার নিকটে সুবিধা মত জায়গায় একটি ফুটবলার হান্ট ফাউন্ডেশনের আপাততঃ অস্থায়ী ভবন তৈরির করা।

যেখানে সুঠাম বালকদের এনে ফুটবলের ওপর পরবর্তী দুই বছরের ট্রেনিং দিতে হবে। সুঠাম বডি আর ট্রেনিং পাওয়ার পর এই বাছাই করা ফুটবলাররা নেমে যাবে আন্ডার সিস্কটিন এশিয়া কাপে খেলতে।

তাদের সাফল্যের পর ক্রমাগত ট্রেইনিং করে একটাই লক্ষ্য থাকবে ২০৩০ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে খেলা। তখন শুরু হবে আরও উন্নত ট্রাইনিং, যাতে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি।

এই উদ্যোগ নিতে দরকার সঠিকভাবে বাচ্চাদের বাছাই এবং বাছাই এরপর তাদের কাছে প্রতি মাসে একটা অনুদান পৌঁছে দেওয়া। বাছাই করার কাজটা ফুটবলার হান্ট ফাউন্ডেশন করতে পারবে।

কিন্তু তাদের প্রতি মাসের অনুদান যদি দেশি এবং প্রবাসীদের মধ্যে যারা পারবেন তাঁরা যদি এক একজন বাচ্চাকে ছোট্ট ভাই ভেবে তিন বছরের জন্য অভিভাবক হিসেবে অনুদান পাঠান, তাহলে আমরা এই কাজকে সহজেই সামনে এগিয়ে নিয়ে পারব।

সেই সাথে আপনাদের কন্ট্রিবিউশন এই ফাউন্ডেশন কৃতজ্ঞতাসহ আজীবন মনে রাখবে। বিদেশ বা দেশে থেকে সরাসরি এই অনুদান আপনারা যাতে ছোট্ট ভাইটির কাছে পৌঁছে দিতে পারেন এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে খোঁজ খবর পান।

সেই জন্য আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে আপডেট রাখব। আপনাদের মতামত জানার পর আমরা এই ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করব এবং বাছাই কাজ শুরু হবে।

যেসব প্রবাসী বা দেশি ভাই ও বোনেরা আমাদের এই কাজে যুক্ত হবার আগ্রহী হবেন তারা এখনই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং আমরা আপনাদের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে মত বিনিময় করতে চাই যাতে কোন বিশ্বাসের ঘাটতি না থাকে।

বিদেশে বা দেশে থেকেই বাংলাদেশের এই রকম কাজে আপনাদের সংযুক্ত করতে পারলে আমরাও অনেক খুশি হব। আর হয়তো সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে আমরা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের সম্মান আরো অনেক উঁচুতে নিতে পারব।

এবং একটি আশা জাগাতে পারব যে ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলার সুযোগ হবে। প্রায়ই দেখি অনেকে লেখে বাবা-মার ইচ্ছে তাই লেখাপড়া করি। এই বিষয়ে পছন্দ তাই পড়ি এটা খুব কম শোনা যায়।

আমি এ কাজ করতে চাই বা এ বিষয়ে পড়তে চাই শুনতে চাই। সময় এসেছে এবার তাদের জন্য কিছু করার যারা নিজেরা কিছু করতে চায়।

রয়েছে হাজারও নাম অজানা প্রতিভা গ্রামে-গন্জে বা শহরে যারা সত্যি স্বপ্ন দেখছে দিনে দুপুরে যে তারা মেসি, স্বালাতান, ম্যারাডোনা, ব্যাকহাম, নেইমার হতে চায়।

কিন্তু সামান্য একটু সহানুভুতি বা সাহায্য বা অনুপ্রেরণা পেলে হতে পারে তারা বাংলার বাঘ হতে পারে। খেলতে পারে তারা লাল সবুজের হয়ে বা করতে পারে আপনার আমার স্বপ্নকে জয় করতে।

প্রস্তাব করছি তৈরি হোক ফুটবল হান্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামে প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগেই ১২ বছরের পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক বাছাই কাজ শুরু করতে হবে। ৬-৭ বছরের বালকদের যাচাই বাছাই করে সারা বাংলাদেশ থেকে মোট ৩০ জনের মতো ছেলেকে নির্বাচন করতে হবে।

প্রতি বছর এভাবে কর্মসূচি অনুযায়ী এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ স্পোর্টস একাডেমিতে নতুন প্রজন্মের সন্তানদের সুযোগ দিতে হবে।

৫-৮ বছরের মধ্যে দেখা যাবে বাংলাদেশ একটি সুন্দর দল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বাছাই করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে। দেখা যেতে পারে বিশ্বের অন্য দেশগুলো কীভাবে তা করে থাকে।

প্রাথমিক বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের ক্যাডেট কলেজের মতো করে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। দেশের ও বিদেশি ফুটবল খেলোয়াড়দের সক্রিয় সাহায্য নিতে হবে।

সরকারি সাহায্য ছাড়াই পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে এ ধরনের বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ স্পোর্টস একাডেমি গড়ে উঠেছে ও বেসরকারিভাবে তা পরিচালনা হচ্ছে।

আশাপূর্ণ ফলাফলসহ বাংলাদেশেও এটা সম্ভব হতে পারে। মানুষ অনুশীলন করলে কি না পারে। চারা থেকে পরিকল্পিতভাবে ট্রেনিং দেওয়া হলে ফুটবল, টেনিস, ক্রিকেট, বাস্কেট খেলোয়াড় তৈরি মনে হয় কঠিন হবে না।

আমাদের দেশের সন্তানেরা বিশ্বকাপে জিততে না পারলেও আমরা অংশগ্রহণ করে আশপাশের অনেক দেশের থেকেও ভালো করতে পারব। পারব সোনার বাংলার পতাকাকে তুলে ধরতে সারা বিশ্বের মাঝে।

ফান্ড: দেশের মানুষের অর্থে এই ফাউন্ডেশন চলবে। ফিফা বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন দেশের পতাকা কিনতে দেশের মানুষ যে টাকা খরচ করেন সেই অর্থ এই ফাউন্ডেশনের জন্য দিলে নিজেদের জন্য একটা জায়গাসহ কমপ্লেক্স তৈরি করা সম্ভব হবে।

পরে কিছু ফল আসতে থাকলে দাতাদের থেকে ডোনেশন পাওয়া বা দেওয়ার মানুষের বা কোম্পানির অভাব হবে না বলে মনে করি। শিক্ষা মানেই যে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা হতে হবে তা নয়।

হতে পারে এ শিক্ষা বিনোদন, খেলাধুল যা কিছু মানবজাতির জন্য কল্যাণকর তা অবশ্যই সুশিক্ষা। বিশেষায়িত শিক্ষা প্রশিক্ষণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতে পারে এমন ধরনের শিক্ষা।

চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল, সারা পৃথিবীর চোখ পড়েছে রাশিয়ার ওপর। নতুন চিন্তাধারার আগমন তৈরি করবে নতুন এক চিন্তার। ভালো কাজে বা সুশিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো মানসিকতার সঙ্গে থাকতে হবে মানবিকতা।

আর তা পেতে হলে বা দিতে হলে দরকার সকলের সমন্বয় ও সর্বজনীন নিবেদিত প্রচেষ্টা। ছুটির দিনগুলোর সঙ্গে চলছে টেনিসের প্রতিযোগিতা ক্রোয়েশিয়াতে, ওদিকে বিশ্বকাপ ফুটবল।

দেখতে এসেছি এদের মাইন্ডসেট ও কী পদ্ধতিতে এরা ফুটবলকে নিয়েছে বেছে, এদের ধ্যান, জ্ঞানে, মনে প্রাণে এরা স্বপ্নের জাল বুনেছে জন্ম থেকেই যে এরা ফুটবল খেলবে এবং প্রথম স্থানটি তাদের দখলে থাকবে।

রাস্তা, ঘাটে, কর্ণারে সাগরের পাড়ে মনের আনন্দে এরা খেলছে ফুটবল, মনে হচ্ছে “রান থেকে ফান”, মাঝে মধ্যে টেলিফোন চেক করছে যেন ফেজবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বা এসএমএস মিস করল কিনা, মানে এরা বেশ সচেতন কি হচ্ছে বা না হচ্ছে বিশ্বে সে বিষয়েও।

ইয়াবা, গাঁজাসহ অন্য জিনিষ রয়েছে এদের ধারে কাছে। তা সত্ত্বেও তারা বেছে নিয়েছে ফুটবল, টেনিস বা মেতে উঠেছে তাদের খেলাধুলা নিয়ে। সারা জীবন শুধু নিজের ছেলে/মেয়েদের জন্যই তো আমরা সবাই সব করি পৃথিবীর সব খানে। এটাই হয় বা হচ্ছে।

আমারা পারব কি প্রথম দেশ হিসেবে সেই সাল সবুজের দেশ বাংলাদেশ, এই নীতিমালা ভেঙ্গে পরের ছেলে-মেয়ের জন্য কিছু করতে? যাদের মধ্যে রয়েছে প্রতিভা, যারা নিজের থেকে করতে চায় তাদের জন্য।

পারি না কি ভাবতে এমনটি করে? আমি তো এসেছি। আমি তো সাহায্য করছি নিজের ছেলে-মেয়েদেরকে। সেই সঙ্গে শত শত বাচ্চাদের যারা শুধু আমার দেশে নয় রয়েছে আফ্রিকাতেও যারা স্বপ্ন দেখছে একদিন তারাও মানুষের সারিতে দাঁড়াবে।

প্রসঙ্গত বলতে হয় আমার পুত্র জনাথান এবং কন্যা জেসিকার সব বিজয়ের পুরস্কারগুলোর কথা। তারা তা দান করেছে গান্বিয়া ও সিয়েরালিয়নে এবং তাদের ক্রীড়া মন্ত্রী সেগুলো নিজের হাতে গ্রহণ করেছিলেন গত দুবছর আগে।

যার বেশির ভাগ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে চলছে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড ও প্রতিযোগিতা। যেমন সবচেয়ে বড় পতাকা তৈরির প্রতিযোগিতা।

ভাবছি এমন প্রতিযোগিতা কি হতে পারে না নিজের দেশকে নিয়ে? এসো হে দেশি ও বিদেশি প্রবাসী বন্ধু শুধু বাংলা নয় সারা বিশ্বে এ পতাকা ওড়াই এবং তার স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত করি বাংলাদেশে এই ফুটবল হান্ট একাডেমি।

ফুটবল বিশ্বকাপে বিজয় প্রত্যাশী দেশ ক্রোয়েশিয়া সর্ব প্রথম ফাইনাল খেলতে নামছে রোববার ফ্রান্সের সঙ্গে। আমি তাদের মাঝে আজকের সন্ধ্যায় আমার ভাবনা থেকে সবাইকে এই আমন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণ করছি লাল সবুজের হয়ে।

রহমান মৃধা, ক্রোয়েশিয়া থেকে, [email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter