‘ওজিল বিতর্ক থেকে জার্মানির শিক্ষা নেয়া উচিত’

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৫:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

আর সইতে পারছিলেন না মেসুত ওজিল। বর্ণবাদের গালি শুনতে শুনতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তিনি। অগত্যা জার্মানি জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। এ থেকে জার্মান ফুটবল ফেডারেশেনের (ডিএফবি) শিক্ষা নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার লোথার ম্যাথিউস।

এক ছবিতেই টালমাটাল গোটা জার্মান ফুটবল। বিশ্বকাপের আগে তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওজিল ও গুন্দোগান। পরে তার একটি ভিডিও ক্লিপ নিজের ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেন ওজিল।  

তাতে দেখা যায়, এরদোগানকে আর্সেনালের জার্সি উপহার দিচ্ছেন তিনি। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি জার্মানরা। রীতিমতো তার ওপর মানসিক অত্যাচার করে দেশটির গণমাধ্যম। তবু তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখে জার্মানি।

গণ্ডগোলটা ফের বাধে প্রথম রাউন্ড থেকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিলে। ব্যর্থতার দায় এসে পড়ে ওজিলের ঘাড়ে। ফলে উগ্র সমর্থকদের কাছ থেকে ঘৃণিত বার্তা হতে শুরু করে মৃত্যু হুমকিও পান তিনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জাতীয় দল থেকে অবসর নেন ২৯ বছরের মিডফিল্ডার।

এ প্রেক্ষিতে ম্যাথিউস বলেন, ওজিল চলে যাওয়ায় জার্মানির কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং ভালো হয়েছে। এতে পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে এ বিতর্ক থেকে ডিএফবিকে শিক্ষা নিতে হবে।

১৯৯০ সালে ম্যাথিউসের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জেতে জার্মানি। সেবার ইউরোপিয়ান সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। তার মতে, সামান্য বিষয় ফুলেফেঁপে বিশাল আকার ধারণ করেছে। ফেডারেশনের নেতৃত্বগুণের অভাবে তা সম্ভব হয়েছে। কর্তৃপক্ষে উচিত ছিল, শুরুতেই এর নিষ্পত্তি টানা।

তিনি বলেন, জার্মানি বহু ধর্ম-বর্ণের দেশ। এখানে সবাই সহাবস্থানে থাকে। ওজিল যে অভিযোগ এনেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণকে ধারণ করাই এদেশ, এখানকার মাটির ঐতিহ্য। এর দায় ফেডারেশনকেই নিতে হবে।

ওজিল তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। জার্মানির গেলসেনকিরচেনে তার জন্ম। ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অবসরের সময় জার্মানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে যান তিনি। তাদের বিপক্ষে বর্ণবৈষম্য ও অসম্মানের অভিযোগ আনেন  আর্সেনাল  তারকা।