‘জার্মানির হারে ওজিলের কোনো হাত ছিল না’

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১০:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

রাশিয়া বিশ্বকাপটা দুঃস্বপ্নের মতো গেছে জার্মানির। প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের কেউই চোখে পড়ার মতো পারফরম করতে পারেননি। অথচ হারের সব দায় এসে পড়ে মেসুত ওজিলের ঘাড়ে। শেষ পর্যন্ত বর্ণবৈষম্য ও অসম্মানের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি।

অবসরের পর থেকেই অনেককেই পাশে পাচ্ছেন ওজিল। এবার সমর্থন পেলেন সদ্য সাবেক সতীর্থ জুলিয়ান ব্র্যান্ডেটের। বিশ্বকাপের জার্মান দলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। বললেন, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে আমাদের ভরাডুবির জন্য শুধু মেসুত দায়ী নয়। আমরা সবাই বাজে পারফরম করেছি, তাই হেরেছি। এজন্য পৃথক কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না।

২২ বছর বয়সী ফুটবলার বলেন, ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞে আমরা সবাই প্রচুর ভুল করেছি। আমি নিজেও এর বাইরে নই। ভুল না হলে আমি অন্তত দুটি গোল করতে পারতাম। রাশিয়ায় ব্যর্থতার জন্য সবাইকে দায় নিতে হবে।

বিশ্বকাপের আগে লন্ডনে তুরস্ক প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওজিল ও গুন্দোগান। পরে তার একটি ভিডিও ক্লিপ নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন ওজিল। তাতে দেখা যায়, এরদোগানকে আর্সেনালের জার্সি উপহার দিচ্ছেন তিনি।

বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি জার্মানরা। ডানপন্থী রাজনীতির কারণে এরদোগানের ভাবমূর্তি নিয়ে পশ্চিমাবিশ্বে প্রশ্ন আছে। এমন একজনের সঙ্গে ছবি তোলায় জার্মানদের মূল্যবোধ নষ্টের অভিযোগ তোলা হয় ওজিলের বিরুদ্ধে। তবু তাকে বিশ্বকাপের দলে রাখেন কোচ জোয়াকিম লো।

বাগড়াটা বাধে প্রথম রাউন্ড থেকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিলে। ব্যর্থতার দায় এসে পড়ে  আর্সেনাল  মিডফিল্ডারের কাঁধে। ফলে উগ্র সমর্থকদের কাছ থেকে ঘৃণিত বার্তা হতে শুরু করে মৃত্যু হুমকিও পান তিনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জাতীয় দল থেকে অবসর নেন ২৯ বছরের মিডফিল্ডার।

বিদায়বেলায় সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে সুবিশাল এক বিবৃতি দেন ওজিল। তাতে লেখেন- যখন জিতি তখন আমি জার্মান, আর যখন হারি তখন অভিবাসী, মুসলমান।