বাছাই পর্বের বাধা এড়ালো বাংলাদেশ হকি দল

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ২০:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  ওমর ফারুক রুবেল, জাকার্তা থেকে

বাংলাদেশ হকি দল-ফাইল ছবি

তাশার মধ্যেও আশার আলো জ্বালালেন রাসেল মাহমুদ জিমিরা। পদক না জিতলেও একটি বিষয় নিশ্চিত, আগামী এশিয়ান গেমস ও এশিয়া কাপে আর বাছাই পর্বে খেলতে হবে না বাংলাদেশকে। 

ওমান এবং কাজাখস্তানের পর থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেই যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছে লাল সবুজের বাহিনী।

রোববার ইন্দোনেশিয়ার জিবিকে হকি মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হারায় থাইল্যান্ডকে। আশরাফুল ইসলাম দু’টি এবং মিলন হোসেন একটি গোল করেন। এই জয়ে এশিয়ান গেমসে ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত বাংলাদেশের। তবে মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের  বিপক্ষে খেলবেন জিমিরা। এরপর ১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম স্থানের জন্য লড়বে বাংলাদেশ।

১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে প্রথম অংশ নিয়েই ষষ্ঠ হয়েছিল বাংলাদেশ হকি দল। তবে ’৯০ তে অংশ নেয়নি লাল সবুজরা। এরপর সপ্তম হয়েছিল ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০২ ও ২০০৬ সালে। অষ্টম হয়েছে ২০১০ ও ২০১৪ সালে। নবম হয়েছে দু’বার ১৯৮২ ও ১৯৯৮ সালে। 

দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ষষ্ঠস্থানের দেখা পেলেন আশরাফুল, জিমি, চয়নরা। তবে টানা চারটি এশিয়ান গেমস খেলা চয়নের এটিই শেষ। তাই উল্লাসের সঙ্গে স্মৃতিতে ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টাও করলেন চয়ন, ‘চারটি এশিয়াড খেলছি। আগের তিনটিতে কোন সাফল্য ছিল না। তাই এটিকে আমার জীবনের সেরা গেমস বললে অত্যুক্তি হবে না। এটি আমার একার কৃতিত্ব নয়। দলীয় সাফল্য। আমি দলের একটা অংশ। সকলেরই চেষ্টা ছিল ম্যাচ জেতার। ২০ বছর আগে এমন সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। এবার পারলাম।’

ম্যাচে দু’গোল করা উদীয়মান পেনাল্টি কর্ণার (পিসি) স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক বেশি উন্নতি করেছে। যে থাইল্যান্ডকে বলে কয়ে হারাতো বাংলাদেশ, সেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিলাম গোলশূন্য। কিছুটা হতাশা তৈরি হলেও আমরা মানসিকভাবে জেতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। দলের জয়ে সকলেই খুশি। আগ থেকেই আমাদের বোঝাপড়া ছিল।’

ম্যাচের প্রথম দু’কোয়ার্টারে কোন গোলই পেল না বাংলাদেশ। সবাই যখন অস্থিরতায় ভুগছিলেন ঠিক তখনি হাসি ফুটালেন পিসি স্পেশালিষ্ট আশরাফুল। ৩৫ মিনিটে ওটাই প্রথম পিসি বাংলাদেশের। সেটি থেকে জিমি-সারোয়ার কম্বিনেশনে আশরাফুরের দারুণ ড্রাগ অ্যান্ড ফ্লিক (১-০)। মিনিট ছয়েক পর ফের স্বস্তি আসে বাংলাদেশ শিবিরে। 

একই কম্বিনেশনে দ্বিতীয় পিসি থেকে গোল করেন সেই আশরাফুল (২-০)। শেষ কোয়ার্টারের তিন মিনিটে একটি গোল শোধ দেন থাইল্যান্ডের হারাপান বুরিরাক (২-১)। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আশরাফুল- মিমোর আদান প্রদানে বল পেয়ে যান জিমি। থাইল্যান্ডের গোলকিপার শুয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে বিচক্ষণ মিলন কীপারের উপর দিয়ে বল পাঠান জালে (৩-১)। 

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ গোপীনাথান কৃষ্ণমূর্তী বলেন, ‘থাইল্যান্ড যে এত উন্নতি করেছে তা বুঝতে পারিনি। তবে ছেলেরা জয় পেয়েছে তাতে আমি খুশি। কিন্ত মাঠের খেলায় সন্তষ্ট হতে পারিনি। মুলত বাংলাদেশের প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষন। তোমাদের প্রতিভা আছে বিকশিত হতে সময়ের প্রয়োজন।’ 

তবে জানা গেছে, শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে যদি ওমান হারিয়ে দেয় তাহলে এমন কপাল পুড়তে পারে লাল সবুজদের। যদিও বিষয়টি অসম্ভব মনে করছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।