এশিয়া কাপে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই: মিঠুন

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

মোহাম্মদ মিঠুন-ছবি বিসিবি

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ৬ মাস নিষিদ্ধ সাব্বির রহমান রুম্মন। নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় না পড়লে এশিয়া কাপে খেলার জোর সম্ভাবনা ছিল তারকা এ ক্রিকেটারের। তবে তার নিষেধাজ্ঞায় জাতীয় দলে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে মোহাম্মদ মিঠুনের।

২০১৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া মিঠুন তিনটি ওয়ানডে এবং ১৩টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেও নিজেকে  সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে এশিয়া কাপ। এশিয়ার এ গুরুত্বপূর্ণ আসরে জাতীয় দলের মিডলঅর্ডারে ব্যাটিং ভরসা হিসেবে নেয়া হয়েছে মিঠুনকে।

রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৭ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান এশিয়া কাপে নিজের এবং দলের লক্ষ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। যুগান্তরের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো

প্রশ্ন: এশিয়া কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এটা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং?

মিঠুন: শুধু দলে সুযোগ পেয়ে কেউই খুশি থাকতে পারে না। আমার লক্ষ্য দলের জন্য কিছু করা, নিজের সেরা পারফরম্যান্স করে  জাতীয় দলে জায়গা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা থাকবে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। 

প্রশ্ন: জাতীয় দলে কোন পজিশনে ব্যাট করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

মিঠুন: দলের স্বার্থে যে কোনো জায়গায় ব্যাট করতে প্রস্তুত। যেখানেই খেলনো হবে সেখানেই আমি চেষ্টা করব শতভাগ দেয়ার জন্য। দলকে উপকৃত করাই আমার লক্ষ্য।

প্রশ্ন: রিস্ট স্পিনারের বিপক্ষে ভালো খেলেন আপনি..

মিঠুন: রান করতে হলে শুধু রিস্ট স্পিনার না, প্রত্যেকটি বোলারকেই ভালো খেলতে হবে। একজন ব্যাটসম্যানের জন্য আউট হতে একটি বলই যথেষ্ট। শুধু রিস্ট স্পিনারকে লক্ষ্য করি তাহলে আমার কাছে ব্যাপারটি অনেকটা নেতিবাচক হয়ে যায়।

প্রশ্ন: আফগানিস্তানের রশিদ খান, ভারতের চাহালের মতো লেগ স্পিনারকে মোকাবেলা করার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

মিঠুন: আমাদের দেশে ভালো মানের লেগ স্পিনার নেই। কিন্তু যারাই আছে তাদের খেলে পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু?

মিঠুন: সবকিছু নির্ভর করছে মোমেন্টামের ওপরে। আমরা যদি শুরুটা ভালো করতে পারি এবং দল হিসেবে আত্মবিশ্বাসী থাকি তাহলে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর এই ফরম্যাটে আমরা বেশ কয়েক বছর ভালো করছি। শুরুটা ভালো করা খুবই জরুরি।

প্রশ্ন: ২০১৪ সালে অভিষেক হওয়ার পরও জায়গা পাকা হয়নি, এবার কি ভাবছেন?

মিঠুন: অতীতের বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে সামনে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। যেটা ফেরত আনা যাবে না সেটা নিয়ে না ভেবে সামনের সুযোগগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাই ভাবছি।

প্রশ্ন: ঘরের মাটিতে জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলার পর বাদ পড়লেন। এরপর কতটুকু উন্নতি হয়েছে?

মিঠুন: আমি সব সময়ই নিজেকে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করি। সেটা জাতীয় দলে খেলতে হবে এমনটা ভেবে নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেখানে খেলি সেখানেও সেরাটা দেয়ার লক্ষ্য থাকে। আমার আন্তর্জাতিক ম্যাচ বেশি খেলা হয়নি। তাই সবাইকে (বোলারদের) পড়ে ফেলার মতো ক্ষমতা এখনো হয়নি। তবে নিজের হোমওয়ার্কগুলো ঠিক করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: ছয়-সাত নম্বরে  নির্বাচকদের প্রত্যাশা পূরণে কতটা আশবাদী?

মিঠুন: সব সময় ইতিবাচক খেলার চেষ্টা করি। উইকেট সেট হওয়ার জন্য বেশি সময় নিতে চাই না। শুরু থেকেই স্ট্রাইক এগিয়ে রাখার চেষ্টা থাকে। ছয়-সাতে নেমেও শুরুতে রান তুলতে হয়। তাই খুব বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। ছয় কিংবা সাতে খেললে ১১০-১১৫, ১২০, ১৩০ স্ট্রাইক রেটে খেলতে হবে। আর এ রকম খেলতে পারলে দলের চাহিদাও পূরণ করতে পারব।