অতিরিক্ত সময়ে আলীর গোলে জয় পাকিস্তানের

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ লোগো

শেষ বাঁশি বাজতে সেকেন্ডের ব্যবধান মাত্র। পাকিস্তান ও নেপালের মধ্যকার খেলাটি ড্রয়ে মীমাংসা হবে, এটাই অনুমেয় ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে (২-১) দলকে জয় উপহার দেন মোহাম্মদ আলী। 

মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হয় সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ১০তম আসর। ঢাকায় তৃতীয়বারের মতো আয়েজিত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী খেলার শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলে পাকিস্তান ও নেপাল। 

পাকিস্তান-নেপাল ম্যাচে শুরু থেকে আক্রমণে এগিয়ে ছিল লাল-জার্সিধারীরা। ম্যাচের ৩ মিনিটে নেপালের অনন্ত তামাং বল নিয়ে বক্সে ঢুকে চিপ করলেও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন। ২৩ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে বিমল গাত্রি মাগারের কোনাকোনি শট অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে।

পরের মিনিটেই ডান প্রান্ত থেকে দলীয় অধিনায়ক বিরাজ মহারজনের শট সরাসরি গিয়ে পড়ে পাকিস্তানের গোলরক্ষকের হাতে। ৩৪ মিনিটে বিরাজ মহারজন নিজেদের বক্সে ফাউল করেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিয়াজকে। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি হাসান মাহমুদ আরাফাহ। পাকিস্তানের হাসান বশিরের কোনাকোনি শট জড়ায় জালে। ম্যাচে লিড নেয় পাকিস্তান (১-০)। 

৩৯ মিনিটে বা প্রান্ত থেকে ফরোয়ার্ড মেহমুদ খানের শট খুঁজে পায়নি জাল। ৪০ মিনিটে সুযোগ এসেছিল নেপালেরও। কর্নার থেকে বক্সে জটলায় বল পেয়ে দারুণ হেড নিয়েছিলেন ডিফেন্ডার সুমন এরিয়াল। কিন্তু বল জালে জড়ায়নি।

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে আরও একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে নেপাল ডান প্রান্ত থেকে বিমল গাত্রির ক্রস ছোট বক্সে পেয়েছিলেন নওয়াগ শ্রেষ্ঠ। কিন্তু পাকিস্তানি ডিফেন্ডারদের চাপের মুখে নিশ্চিত গোল থেকেই বঞ্চিত করেন দলকে।

প্রথমার্ধ পিছিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় নেপাল। ৭৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত পাকিস্তান বক্সের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের  উঁচু শট নেন বদলি ফরোয়ার্ড সাদউল্লাহ।বল বারে লেগে ফেরত আসে।

দুর্ভাগ্য পাকিস্তানের। তবে পিছিয়ে পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি নেপাল শিবির। সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছে। যার ফলে  ৮২ মিনিটে এক গোল করতে সক্ষমও হয়েছে। সুজল শ্রেষ্ঠর কর্নার থেকে বল পেয়ে বদলি মিডফিল্ডার নিরঞ্জন খাদকা হেড নেন। বক্সে বল পান বিমল গাত্রি । পোস্টের খুব কাছ থেকে বা পায়ের জোরালো
শটে লক্ষ্যভেদ করেন বিমল (১-১)। 

পুরো ৯০ মিনিটে ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকলেও ইনজুরি টাইমের শেষে নাটকীয় মোড় নেয়। (৯০+৪) মিনিটে আদিলের ক্রস বক্সে বল পেয়ে হেড দিয়ে সতীর্থের উদ্দেশ্যে পাঠান সাদুল্লাহ। বল পেয়ে হেডে নেপালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মোহাম্মদ আলী (২-১)। আর এই গোলের কিছুক্ষণ পরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি। 

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে দুই গ্রুপে খেলছে সাতটি দেশ। এ-গ্রুপে নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর বি গ্রুপে ভারত, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ।

২০০৩ ও ২০০৯-এর পর তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাফ ফুটবল। সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রায় দেড়শ’ কোটি মানুষের চোখ থাকবে ঢাকার দিকে। সাফের এটা দশম আসর।