ওয়ানডে হলো পারফর্ম করার জায়গা: আরিফুল

  আল-মামুন ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

আরিফুল হক
আরিফুল হক-ছবি বিসিবি

স্লগ ওভারে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিং করতে পারে এমন একজনকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেই চাওয়া থেকেই জাতীয় দলে আরিফুল হককে নেয়া।

জাতীয় দলের হয়ে ৬টি টি-টোয়েন্টি খেলা আরিফুল অপেক্ষায় আছেন ওয়ানডে অভিষেকের। এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়ার আগে যুগান্তরকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তরুণ এ অলরাউন্ডার। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল-মামুন। যার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

যুগান্তর: ছয়-সাতে ব্যাট করতে পারে এমন একজনকে দীর্ঘদিন খুঁজছে বাংলাদেশ দল। সেই চাওয়া থেকেই আপনাকে দলে নেয়া?

আরিফুল: আমার পজিশনে আগে অনেকেই খেলেছেন, হয়তো তারা প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেননি। যে প্রত্যাশা থেকে নির্বাচকরা আমাকে দলে নিয়েছেন। আমি চেষ্টা করব তা পূরণ করতে।

যুগান্তর: এশিয়া কাপের গত তিন আসরের মধ্যে দুইবারের ফাইনালিস্ট বাংলাদেশ। সেই হিসেবে এবারও ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা..

আরিফুল: গত তিন আসর আমাদের দেশের মাঠে হয়েছিল। দেশের মাঠে আমরা সব সময়ই ভালো খেলে থাকি। তবে এবার দেশের বাইরে খেলা। আমাদের জন্য এই আসর চেলেঞ্জিং হবে। তার কারণ আফগানিস্তানে রশিদ খান-মুজিবুর রহমানের মতো লেগ স্পিনার আছে।ভারতে যুজবেন্দ্র চাহাল, শ্রীলংকায় আকিলা ধনাঞ্জয়া আছে। আমাদের দলে লেগ স্পিনার নেই। তাছাড়া সাকিব ভাই ইনজুরিতে, তামিম ভাইয়েরও ইনজুরি সমস্যা আছে। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য এশিয়া কাপ চ্যালেঞ্জিং হবে।

যুগান্তর: লেগ স্পিন নিয়ে আমাদের দুর্বলতার কথা বললেন। এশিয়া কাপে লেগ স্পিনাররা কতোটা হুমকি হতে পারে?

আরিফুল: টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে সম্পূর্ণ আলাদা ফরম্যাটের খেলা। আমার মনে হয় না রশিদ-মুজিবরা ওয়ানডেতে অতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারবে।

যুগান্তর: ২৩ বছর পর দুবাইয়ে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল?

আরিফুল: বিপিএল শুরুর আগে ২০১০ সালে আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টের এক আসর দুবাইয়ের শারজায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় আমি শারজায় গিয়ে খেলেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমার আছে। আশা করছি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।

যুগান্তর: সর্বশেষ বিপিএলে অসাধারণ কিছু শট খেলেছেন, বড় বড় শট খেলার দক্ষতাও আছে আপনার...

আরিফুল: বিপিএল খেলার সময় আন্দ্রে রাসেলের (ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার) সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন টার্গেট করে ছক্কা মারতে হবে। আর যেটা ছক্কা মরবে, চেষ্টা করবে সেটা বাউন্ডারির অনেক দূরে নিয়ে ফেলতে। তার সেই পরামর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করছি।

তাছাড়া জাতীয় দলের ব্যাটিং পরামর্শক ম্যাকেঞ্জি বলে থাকেন, তোমরা বড় শট খেলার সময় কোনো দ্বিধা করবে না। বড় শট খেলার জন্য তোমাকে চান্স নিতেই হবে। তিনি বলেন, যে বেশি ছক্কা মারতে পারবে সেই বেশি খেলতে পারবে। আর যেটা ছক্কা মারতে চাও সেটা মারবে।

আর টি-টোয়োন্টির চেয়ে ওয়ানডেতে পারফর্ম করার বেশি চান্স থাকে। টি-টোয়োন্টিতে সবসময় শট খেলতে হয়। সেখানে এবিলিটি কতটুকু আছে তা প্রমাণ করা যায় না। টি-টোয়োন্টির চেয়ে ওয়ানডেতে পারফর্ম করা সহজ। আমার মনে হয় ওয়ানডে হলো পারফর্ম করার জায়গা। এখানে আমি আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারব।

যুগান্তর: একটা সময়ে জাতীয় দলের ফিনিশারের ভূমিকায় ছিলেন নাসির হোসেন। ইনজুরির কারণে তিনি এখন দলের বাইরে। ফিনিশার হিসেবে আপনাকে দলে নেয়া...

আরিফুল: আমি আসলে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে অনেক ম্যাচ ফিনিশ করে এসেছি। ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলার ক্ষেত্রে আমার আত্মবিশ্বাস আছে। সুযোগ পেলে ম্যাচ শেষ করে আসতে চেষ্টা করব। সেই আশা নিয়েই এশিয়া কাপ খেলতে যাচ্ছি।

যুগান্তর: ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় দৈর্ঘ্যের সংস্করণেই আপনার রেকর্ড অনেক ভালো। ৭৩টি ম্যাচে ৭ সেঞ্চুরিতে ৩২.৫৬ গড়ে রান করেছেন। টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখেন?

আরিফুল: হ্যাঁ, আমারও স্বপ্ন আছে টেস্ট খেলার। টেস্ট একটা মর্যাদার খেলা। তবে সামনে এশিয়া কাপ, সেখানে ভালো খেলাই আমার এখন মূল লক্ষ্য। এশিয়া কাপে ভালো খেলতে পারলে ভবিষ্যতে টেস্টেও সুযোগ আসবে। ওয়ানডেতে ভালো করলে টেস্টে খেলা নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে হবে না। এখন ওয়াডেতেই আমার ফোকাস থাকবে।

যুগান্তর: শুধু ব্যাটিং নয়, পেস বোলিংয়েও আপনি পারদর্শী। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে ১৫৬টি উইকেট শিকার করেছেন। আন্তর্জাতিকে বোলিংয়ের পরিকল্পনা আছে?

আরিফুল: বোলিং নিয়ে ওইভাবে টার্গেট নেই। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিংয়ের যেমন সুযোগ পেয়েছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি সেই সুযোগ আসে অবশ্যই চেষ্টা করব কাজে লাগাতে।

যুগান্তর: এশিয়া কাপের মতো বড় আসরে খেলতে যাচ্ছেন, সাবেক বর্তমান অনেক তারকার সঙ্গে দেখা হবে। কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার পরিকল্পনা আছে কি?

আরিফুল: অলরাউন্ডার হিসেবে আমি শেন ওয়াটসনের ভক্ত। তবে এই সময়ে ভারতের আলোচিত ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া। সে খুব ফর্মে আছে। এশিয়া কাপে তার সঙ্গে দেখা হয়ে পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করব।

ঘটনাপ্রবাহ : এশিয়া কাপ ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×