সেই গাড়িটাই মঈন আলীকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছিল

  স্পোর্টস ডেস্ক ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৪৯:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার মঈন আলী (ছবি ইএসপিএন)

অফ ফর্মের কারণে ইংল্যান্ড দলে থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলেন মঈন আলী। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে সাউদাম্পটনটেস্টে দলকে একাই জেতালেন ইংলিশ এ অলরাউন্ডার।

ছোটবেলায় প্রাকটিসের জন্য মাঠে পৌঁছাতে অন্যদের যে সময় লাগত, মঈন আলীর লাগত তার দ্বিগুণেরও বেশি। তার বাবার গাড়িটি এত পুরনো হয়ে গিয়েছিল, যে একটু এগোনোর পরেই গরম হয়ে যেত। গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন ঠাণ্ডা করে আবার চালানো শুরু করতে হত।

প্রতিদিন এভাবেই প্রায় পাঁচ থেকে ছয়বার থামা–চলার পর পৌঁছাতে হতো প্রাকটিসে। ফেরার সময়ও একই অবস্থা। বিরক্ত হলেও সেই তখন থেকেই বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন মঈন। ছোটবেলার সেই গাড়িটার মতো হয়েছে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। গত ছয় মাসে জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মধ্যে আছেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ সিরিজে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে রীতিমতো সমালোচনায় পড়েছিলেন। তখন ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই মঈন আলীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডের এক নম্বর স্পিনার হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে সে যেন ব্যাটিংয়ে মন দেয়।

তাহলে তার ব্যাটিংটা ভালো হবে এবং ক্যারিয়ারটা কিছুটা এগিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু নিজের ওপর আস্থা ছিল মঈনের। জানতেন, ওই গাড়িটা যেমন বারবার থেমে গেলেও গন্তব্যে পৌঁছাত, ঠিক তেমনি তিনিও পারবেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে।

আঙুলের চোটের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরে বলটা ঠিকমতো গ্রিপ করতে পারেননি। ছয় মাস পর আঙুলের চোট সারিয়ে ‘ডিউক’ বলটা শক্ত করে হাতে ধরে মঈন প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনিই এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের এক নম্বর স্পিনার।

বার্মিংহামে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই মঈনকে ইংলিশঅধিনায়ক জো রুট জানিয়েছেন, আদিল রশিদের জন্য তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। দল থেকে বাদ পড়ার পর কাউন্টিতে খেলেই ফর্মে ফিরেন।

নটিংহ্যামে তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল যখন কোহলিদের কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছেন, তখন ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টিতে তিন নম্বরে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি এবং ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে রুটদের আবার তার কথা ভাবতে বাধ্য করেছেন মঈন।

এছাড়া সাউদাম্পটনের উইকেটের চরিত্র এবং ক্রিস ওকসের চোট চতুর্থ টেস্টে জায়গা করে দিল মঈনকে। প্রথম দিন তার ১৪১ বলে করা ৪০ রান ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে ৮৬ রান থেকে টেনে তুলতে সাহায্য করেছিল। দ্বিতীয় দিন পাওয়া গেল স্পিনার মঈনকে। তার প্রথাগত অফ স্পিনের কুল কিনারা করতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। মঈন তুলে নিলেন ৬৩ রানে ৫ উইকেট।

মৌসুম শুরুর আগে বোলিং কোচ সাকলাইন মুস্তাকের কাছে গিয়েছিলেন মঈন। তাকে একটা ছোট পরামর্শ দেন পাকিস্তানের সাবেকঅফ স্পিনার। বল ডেলিভারি করার সময় ডান হাতটা যেন শরীরের আরও কাছে থাকে।

টেকনিকের সেই সামান্য বদলটাই ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে গেল ম্ঈনের। বল ছাড়ার সময় শরীরের ভারসাম্য বেড়ে গেল এবং বোলিং অ্যাকশনটা অনেক বেশি ‘মোমেন্টাম’ দিয়ে শেষ হতে লাগল। বলের গতিও কমিয়ে দিলেন মঈন।

সহজভাবে বললে, মইন নিজের বোলিংকে অনেক সরলীকৃত করে আনলেন। মূল লক্ষ্য স্থির করলেন অ্যান্ডারসন, ব্রডদের বোলিংয়ের পর ডানহাতি ব্যাটসম্যানের অফস্টাম্পের বাইরে উইকেটে যে ক্ষত তৈরি হয়, সেটা কাজে লাগাতে হবে। সাউদাম্পটনেচতুর্থ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩০ শতাংশ ডেলিভারিই সেখানে ফেলতে পেরেছিলেন তিনি। তথাকথিত স্পিন খেলতে বিরাট বীর কোহলিদের মনে একটা ধন্ধ তৈরি করেছিলেন। তাতেই প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানে ৫ উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে যখন বল করতে এলেন, তখন উইকেট আরও শুকনো। এবং ডানহাতি ব্যাটসম্যানের অফস্টাম্পের বাইরের ক্ষতগুলো আরও ভয়ঙ্কর। মঈন জানতেন, তার হাতেই ম্যাচের ভাগ্য। সেজন্য নিজেকে একবারের জন্যও বাড়তি চাপে ফেলেননি। টানা ১৩ ওভার বল করার সময় কোহলির উইকেটটাও প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন নাকচ হয়ে যায়। কোহলি এবং রাহানে ক্রমশ তার বিরুদ্ধে সহজ হয়ে যান।

কিন্তু ছোটবেলার ওই গাড়িটা মঈনকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছিল। তিনি জানতেন, ১টা উইকেট তুলে নিতে পারলেই বাকিগুলো চলে আসবে। অবশেষে চা-বিরতির ঠিক আগে বল কোহলির গ্লাভসে লেগে জমা পড়ল শর্ট লেগে। ইনিংস শেষ করলেন আরও ৩ উইকেট নিয়ে। আর ম্যাচ শেষ করলেন? ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে।

সাউদাম্পটনের পর ওভাল টেস্টেও দারুণ খেলেছেন মঈন আলী। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে ৭০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তাতে ইংল্যান্ড জিতেছে ১১৮ রানে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে জিতে নেয়।

সূত্র: আজকাল

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত