ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে ফিরলেন ধাওয়ান

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

লক্ষ্যটা ছোট, ২৩৮।  সেই লক্ষ্যে উল্কার গতিতে ছুটছে ভারত।  উড়ন্ত সূচনার পর দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান।  জমে গিয়েছিল তাদের জুটি। ব্যাটতে তলোয়ার বানিয়ে পাকিস্তান বোলারদের কচুকাটা করে ছাড়ছিলেন দুই ওপেনার।  বাজে বল পেলেই তা সীমানাছাড়া করছিলেন।  তবে হঠাৎই পথ হারালেন ধাওয়ান।  ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে রানআউটে কাটা পড়লেন তিনি।  এর আগে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন গাব্বার সিং।  ৯৫ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি।  শেষ পর্যন্ত ১০০ বলে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১১৬ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলে ফেরেন ধাওয়ান।       

অবশ্য এর নেপথ্যে পাক ফিল্ডারদেরও অবদান আছে।  দুই দুইবার জীবন পেয়েছেন রোহিত, একবার পেয়েছেন ধাওয়ান।  শুরুতে মোহাম্মদ আমির, শাহীন আফ্রিদির বলে ভারতীয় অধিনায়কের ক্যাচ ছেড়েছেন শাদাব খান ও ইমাম-উল হক।  ধাওয়ানকে রানআউটের সুযোগ মিস করেছেন ফখর জামান।

শেষ খবর পর্যন্ত ৩৪ ওভার শেষে ২১১ রান করেছে ভারত।  সেঞ্চুরির পথে আছেন রোহিতও। তিনি ৯৬ ও আম্বাতি রাইডু শূন্য রান নিয়ে ব্যাট করছেন।  

জিতলে ফাইনালের টিকিট, ব্যত্যয় ঘটলে অপেক্ষা বাড়বে। এমন সমীকরণ নিয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান।  রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। সূচনালগ্নে যুজবেন্দ্র চাহালের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন ইমাম-উল-হক। অবশ্য চাহালের দুর্দান্ত গুগলি ইমামের প্যাডে লাগলেও আউট দেননি আম্পায়ার। পরে ভারত রিভিউ নিলে আউট দিতে বাধ্য হন তিনি।

এরপর বাবর আজমকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেন ফখর জামান। তারা এগুচ্ছিলেনও বেশ। তবে হঠাৎই ছন্দপতন। দলীয় ৫৫ রানে মায়াবী স্পিনার কুলদ্বীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফেরেন সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফখর (৩১)। স্কোর বোর্ডে আর ৩ রান যোগ হতেই ফেরেন বাবর। ভুল বোঝাবুঝির খেসারত গুনে রানআউটে কাটা পড়েন তিনি। চাহাল-জাদেজার যুগলবন্দিতে ফেরেন এ ইনফর্ম ব্যাটসম্যান। এতে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান।

সেখান থেকে শোয়েব মালিককে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন সরফরাজ আহমেদ। তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন মালিক। এক পর্যায়ে জমে উঠে তাদের জুটি। ভারতীয় বোলারদের চোখ রাঙাতে থাকেন তারা। দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় স্কোর বোর্ডে রানের পর রান যোগ করতে থাকেন বর্তমান ও সাবেক অধিনায়ক। তাতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকে পাকিস্তান। কিন্তু হঠাৎই থেমে যান সরফরাজ। দলীয় ১৬৫ রানে অল্পের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। কুলদ্বীপ যাদবের বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬৬ বলে ২ চারে ৪৪ রান করেন পাক অধিনায়ক। এতে মালিকের সঙ্গে তার ১০৭ রানের জুটি ভাঙে।

সরফরাজ ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন শোয়েব মালিক। আর ক্রিজে এসেই ঝড় তোলেন আসিফ আলি। এতে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে থাকে পাকিস্তান। কিন্তু ২০৩ রানে জাসপ্রীত বুমরাহর বলে উইকেটের পেছনে মহেন্দ্র সিং ধোনির তালুবন্দি হয়ে মালিক ফিরলে সেই স্বপ্ন ভেস্তে যায়। ফেরার আগে ক্যারিয়ারের ৪৩তম ফিফটি তুলে নেন এ মাস্টার ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৭৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি।

আসিফের ঝড়ও বেশিক্ষণ চলেনি। মালিকের পরপরই তার টর্নেডোও থামে। যুজবেন্দ্র চাহালের দুর্দান্ত গুগলিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ২১ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৩০ রানের ক্যামিও খেলেন এ তরুণ। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৩৭ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। মোহাম্মদ নওয়াজ ১৫ ও হাসান আলি ২ রানে অপরাজিত থাকেন। খানিক আগে বুমরাহর শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন শাদাব খান। ভারতের হয়ে বুমরাহ, চাহাল ও কুলদ্বীপ প্রত্যেকে নেন ২টি করে উইকেট।