ডাকসু নির্বাচন ২০২৫
নারী প্রার্থী : বাধার প্রাচীর ভেঙে প্রত্যাশার আলো
ইমন চৌধুরী ও ফরিদুল ইসলাম নির্জন
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর। এ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর উপস্থিতি পুরুষ প্রার্থীর তুলনায় কম হলেও যোগ্যতায় পিছিয়ে নেই তারা। ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, হলের সুষ্ঠু আসনবিন্যাসসহ অসংখ্য ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে চান এই নারী প্রার্থীরা। যদিও নারীর লড়াই অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে আলাদা। নারীকে বরাবরই নানা বাধার প্রাচীর ভেঙে এগিয়ে যেতে হয় সামনের দিকে। ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী প্রার্থীর সঙ্গে আমরা কথা বলি সুরঞ্জনার পক্ষ থেকে। নারী প্রার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন ইমন চৌধুরী ও ফরিদুল ইসলাম নির্জন
নারীর জন্য কাজ করার মতো প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই
উমামা ফাতেমা
ভিপি প্রার্থী, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল
ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেশে নারীর অগ্রযাত্রায় কী ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন?
- এবারের ডাকসু নির্বাচনে তো প্রায় ৩০ ভাগই মেয়ে। মেয়েদের অংশগ্রহণ অবশ্য আরও বেশি হতে পারত। তবে অন্য যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে ৩০ ভাগ বেশি এটি আমাদের একটি প্রত্যাশার জায়গা। তবে অভ্যুত্থানে মেয়েদের যে অংশগ্রহণ ছিল, সে তুলনায় বিবেচনা করলে কিন্তু এ ডাকসু নির্বাচনে মেয়েদের এ অংশগ্রহণ যথেষ্ট বলা যাচ্ছে না। বলতে পারেন সীমিত অংশগ্রহণ। তবে নারী প্রার্থীরা যদি জয়ী হয়ে আসতে পারে তবে তা ইতিহাসে নারীর অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলেই আমি মনে করি।
ডাকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করেন?
- আমি যদি বিজয়ী হয়ে আসি তবে ইউনির্ভার্সিটির একাডেমিক সমস্যাগুলো, আবাসান সমস্যা, খাদ্য সমস্যা-এগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৭ ভাগ শিক্ষার্থী নারী। সেক্ষেত্রে নারীর জন্য কাজ করার মতো প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। সে জায়গা থেকে নারীদের ভয়েস হয়ে ওঠা দরকার। আমাকে যদি মেয়েরা ভিপি পদে নির্বাচিত করেন তবে নারীর নিরাপত্তা, নারীর স্বাস্থ্য, তাদের আবাসন-এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের আলাদা করে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থী হিসাবে কোন বিষয়গুলো নারী প্রার্থীদের জন্য বাধা বা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন?
- আমি মনে করি মেয়েদের নানাভাবে অনুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়, হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়, সাইবার বুলিং করা হয় এগুলো একটি বড় বাধা। যেহেতু মেয়েরা রাজনীতির অঙ্গনে খুব একটা যুক্ত থাকে না, দেখা যায় মেয়েদের যে উৎসাহ বা স্পিরিট সেটাকে অনেকভাবে দমন করে ফেলার চেষ্টা করা হয়। নারী প্রার্থীদের ডিমোটিভেট করার জন্য সাইবার বুলিং বা হেনস্তা করার যে চেষ্টা, এটাকে আমি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করি।
আমাদের সমাজে নারীর জন্য সাইবার বুলিং একটি বড় সমস্যা। ডাকসু নির্বাচনেও সে চিত্র আমরা দেখছি নিয়মিত। সাইবার বুলিং রোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
- অবশ্যই সাইবার বুলিং প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে সাইবার বুলিং বা যে কোনো রকম যৌন হয়রানি রোধে যেসব আইন বা বিধি আছে সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ থাকতে হবে। নিরাপদ ক্যাম্পাসের উদ্যোগ নিতে হবে।
আগামী দিনের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ডাকসু নির্বাচন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
- যদি নারী প্রতিনিধি ডাকসু থেকে নির্বাচিত হয়ে আসে তবে অবশ্যই একটা বড় ধরনের সম্ভাবনা আছে বলে আমি মনে করি। সামনের দিনগুলোয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। আর যদি ডাকসু ইলেকশনে নারীরা জয়ী হয়ে আসতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে নারীদের জন্য এটা একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা বা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কেমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন?
- অবশ্যই নিরাপদ ও সমতার ভিত্তিতে একটা দেশ চাই। সামনের দিনগুলোতে যদি নারীর অগ্রযাত্রার জন্য নারীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা যায়, তবে অবশ্যই নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে।
নারী প্রার্থীদের আলাদা করার আসলে কিছু নেই
চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা
পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেল
ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেশে নারীর অগ্রযাত্রায় কী ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন?
- ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের আলাদা করার আসলে কিছু নেই। কোনো রকমভাবে তারা তো সুবিধা পাচ্ছে না সেটার কারণে। বরং এটা এলার্মিং ব্যাপার। মাত্র থার্টি পারসেন্ট নারী এ ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এ সংখ্যাটা আরও একটু বেশি হতে পারত। এটা বেশি হচ্ছে না, তার পেছনের কারণ হলো সাইবার বুলিং। আমরা যারা ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেছি, তারা সাইবার বুলিংয়ের এত বেশি প্রভাব দেখতে পাচ্ছি যে, তাতে মনে হচ্ছে অন্যরা ভয় পাচ্ছে এখানে অংশগ্রহণ করতে। ডাকসুর মতো জায়গায় আসতে। এ জায়গায় আসলে ইতিবাচক পরিবর্তন খুব বেশি প্রয়োজন। নারীর ক্ষমতায়ন বলব না, মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য নারী-পুরুষ সমান যে সাম্যের ব্যাপার রয়েছে, সেটার জন্য একটা ইতিবাচক ভূমিকা অন্যান্য ডাকসুর তুলনায় এ বছরের সংখ্যটা একটু বেশি। তারপরও ইচ্ছা থাকবে পরবর্তী ডাকসুতে যেন নারীর অংশগ্রহণ আরও বেশি হয়। সে আশাবাদ থাকবে।
ডাকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করেন?
- আমার কাজ করার জায়গাটা বা পদ হলো কমনরুম, ক্যাফেটেরিয়া এবং পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক। ক্যাফেটেরিয়ার কথা যদি বলতে চান, তাহলে বলব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া, বাথরুমের এবং খাবারের সমস্যা। স্যোশাল সাইন্স ফ্যাকাল্টি, ল ফ্যাকাল্টিসহ আর কিছু জায়গায় খাবারের এত সংকট যে, আমাদের এটা নিয়ে এখনই কাজ করতে হবে। এ ছাড়া আমার পাশপাশি আরও অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ টিউশননির্ভর। কীভাবে তাদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রেখে টিউশনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় ক্যাম্পাসে সে ভাবনা আছে। এ ছাড়া ছেলেদের কমনরুম নেই। সে ব্যাপারে অনেকদিন হলো কথা চলছিল। কমনরুমের পাশাপাশি তাদের ইনডোর গেমের ব্যবস্থা প্রয়োজন। আমাদের ওয়াইফাই ব্যবস্থা একদমই নেই। ল্যাপটপ নিয়ে বসে কাজ করার মতো জায়গা নেই। সবকিছু তো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এক বছরের পরিকল্পনায়, যেটা পরিবর্তন করা যায় সেটা করব। শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই জানতে পারবে যে, কোন সিটে উঠতে পারছে বা সিটটি ফাঁকা আছে কি না। পাঠাগারে কত বই আছে, অনলাইনে কত বই আছে, কোন তাকে কী বই পাওয়া যাবে এ কাজগুলো করতে চাই।
এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থী হিসাবে কোন বিষয়গুলোকে নারী প্রার্থীদের জন্য বাধা বা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন?
- নারী প্রার্থী হিসাবে নিজেকে মনে হয় না। ডাকসুর নির্বাচন সারা দেশব্যাপী একটা আগ্রহের জায়গা। কিন্তু মানুষের কাছে বা সোশ্যাল প্ল্যার্টফর্মে নারী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। ফলে অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সাইবার বুলিংয়ের জন্য দূরে সরে গেছেন। যার কারণে সংখ্যাটা অনেক বেশি কম। শতকরা হিসাবে ৩০ ভাগ মাত্র এবার আমরা পেয়েছি। সংখ্যায় এটি খুব কম। সাইবার বুলিংয়ের মতো সমস্যা না থাকলে এটি হয়তো আরও বাড়ত।
আগামী দিনের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ডাকসু নির্বাচন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
- ডাকসুকে দ্বিতীয় সংসদ বলা হয়। আগামী নির্বাচনে ডাকসু একটা বড় ভূমিকা পালন করবে। যদি আপনি প্রিভিয়াস সময়গুলো দেখতে চান, ডাকসু নির্বাচন যারা করেন, তারাই জাতীয় নির্বাচনের দিকে যান।
নারীর ক্ষমতায়ন আসলে নারীকে নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি দেবে
শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি
ভিপি প্রার্থী, প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেল
ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেশে নারীর অগ্রযাত্রায় কী ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন?
- ডাকসু নির্বাচনে নারীর উপস্থিতি সম্প্রতি মেয়েদের যেভাবে কোণঠাসা করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে শক্ত একটা প্রতিবাদ। ডাকসুতে যেভাবে নারী প্রার্থী হয়ে নেতৃত্বের জানান দিয়েছেন, আশা করব নারী শিক্ষার্থীরা সব পরিবেশে এভাবে নের্তৃত্বের দিকে এগিয়ে আসবেন।
ডাকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করেন?
- কোথাও কোথাও যেভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমার মনে হয়েছে নির্বাচন করা উচিত। এছাড়া নারীর হয়ে কাজ করার চাই। একজন নারীর সমস্যাগুলো নারী যেভাবে অনুধাবন করতে পারেন, পুরুষ সহকর্মী সেভাবে পারেন না। আমাদের ক্যাম্পাসটি কোনোভাবেই নারীবান্ধব নয়। আমি ২০১৯ সালে শামসুন্নাহার হলে স্বতন্ত্রভাবে ভিপি নির্বাচিত হই, তখন অনেক কাজ করেছিলাম। যেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছে। যদি বলি মেয়েরা আইডি কার্ড জমা দিয়ে প্রবেশ করতে পারতেন, অবস্থান করতে পারতেন, ছাত্রীর মা-বোনেরাও হলে আসতে পারতেন-এগুলো কোনো কিছুর আর কার্যক্রম নেই। শামসুন্নাহার হলে যেগুলো আমি করেছিলাম, আবারও করতে চাই মেয়েদের সব হলে। নারীর নিরাপত্তা বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ক্যাম্পাসে আপনারা দেখেছেন যে, ইতোমধ্যে একজন ছাত্র খুন হয়েছেন। তাই নারীর নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে নারীর প্রশ্নে শতভাগ আপসহীনভাবে কাজ করতে চাই। সর্বোপরি নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে চাই। নারীদের শৌচাগার খুব হাতেগোনা। আমার ইচ্ছা আছে প্রতিটি ফ্যাকাল্টিতে ডে কেয়ার সেন্টার খোলা, একটা কর্নার দেওয়া। প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে একটি ফার্মেসি দেওয়া। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য সচেতন খাবারের খুব অপ্রতুলতা রয়েছে। নারীর পুষ্টিটা একটু বেশি লাগে। সেক্ষেত্রে নিরাপদ খাবার যেন সব শিক্ষার্থী পায় তা নিশ্চিত করতে চাই। সর্বোপরি প্রথম বর্ষের নারীরা যে ক্যারিয়ারে যেতে চান, সেক্ষেত্রে সবাইকে সাপোর্ট যেন দেওয়া যায়। আবাসন সংকট নিয়ে প্রায়োরিটি দিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ হলের সংখ্যা ছেলেদের অর্ধেকেরও কম।
এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থী হিসাবে কোন বিষয়গুলোকে নারী প্রার্থীদের জন্য বাধা বা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন?
- আসলে নারীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি। ছেলেদের হলে তো বাদই দিলাম, মেয়েদের হলেই এক হলের নারী আরেক হলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারছে না। নানা রকম বাধ্যবাধকতা। যারা অনাবাসিক নারী প্রার্থী আছেন, তারাও আসলে স্বতঃসফূর্তভাবে পারছেন না প্রচারণা চালাতে। অনলাইনে যেভাবে গণধর্ষনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে সেগুলো তো আপনারা দেখছেন। সাইবার বুলিংয়ে যেভাবে হ্যারেজ করা হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না দিলে বঞ্চিত হতে হয় আমাদের। নারীদের চ্যালেঞ্জগুলো তাই বেশি।
আমাদের সমাজে নারীর জন্য সাইবার বুলিং একটি বড় সমস্যা। ডাকসু নির্বাচনেও সেই চিত্র আমরা দেখছি নিয়মিত। সাইবার বুলিং রোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
- বিগত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, সাইবার নিরপাত্তা আইনের নামে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করত সরকার। নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাইবার আইন কার্যকর করতে দেখিনি তাদের। সাইবার স্পেসে যদি কেউ হ্যারেজ করে, সেটা সুষ্ঠুভাবে বিচার করতে দেখিনি। এ বিচারহীনতা সাইবার বুলিং করার সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা শক্ত আইন করে দমন করতে হবে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
আগামী দিনের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ডাকসু নির্বাচন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
- ডাকসুটাকে আমি আসলে আগামী দিনের রাজনীতির চেয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ডাকসুর যে অচলায়তন বা রাজনৈতিক অস্থিরতা তা ভাঙার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। সারা দেশের চিন্তাটা এক বছর পর করতে পারব। যিনি বা যারা ডাকসুতে নির্বাচিত হচ্ছেন তারা কতটুকু কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তা আসলে এখনই আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয়। আমি মনে করি এখন এটা ফোকাস করা উচিত, ডাকসুতে যোগ্যতাবলে নির্বাচিত হতে পারে যে কেউ। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারগুলোতে সবচেয়ে বেশি ফোকাস রাখতে হবে বলে মনে করি আমি।
রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা বা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কেমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন?
- ডাকসুতে যেভাবে নারী প্রার্থীরা এগিয়ে এসেছেন এটি একটি আশার দিক। যেভাবে নারীদের কোণঠাসা করতে চেয়েছিল সমাজের একটি অংশ, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান জানান দিয়েছেন ডাকসুর নারী প্রার্থীরা। সারা দেশে মেয়েরা যখন ফাইট ব্যাক করতে থাকবেন, দেশে নারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক যে অস্থিরতা তার সবচেয়ে বড় ভিক্টিম কিন্তু নারীই। আমরা কন্যাশিশুকে নির্যাতিত হতে দেখেছি, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হচ্ছেন। নারীদের নানা রকমভাবে যে হেনস্তা করা হচ্ছে আমি মনে করি নারীর ক্ষমতায়ন আসলে নারীকে নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি দেবে। অনেক নারী নির্যাতিত হয়েও মুখ খোলেন না, সমাজের ভয়ে। মান-সম্মানের ভয়ে। তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষিত করে তোলা, উন্নয়ন কাঠামোতে নিয়ে আসা এবং তাদের সব সময় রাষ্ট্র থেকে নিরাপত্তা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নারীদের সক্ষমতা জুলাই আন্দোলনে কিন্তু দেখিয়েছেন তারা। নারী তাদের সক্ষমতার জানান দিয়েছেন। এখন কাজ হলো সমাজে তাদের বরণ করে নেওয়া।
আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি
রিফতি আল জাবেদ, সদস্য প্রার্থী, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল
ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেশে নারীর অগ্রযাত্রায় কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন?
- ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেশে নারীর অগ্রযাত্রার জন্য একটি যুগান্তকারী ও গেম-চেঞ্জিং ঘটনা বলে মনে করি। প্রথমত, ডাকসুকে জাতীয় নেতৃত্বের প্রাথমিক ধাপের মতো, সবাই ‘সেকেন্ড পার্লামেন্ট’ হিসাবে বিবেচনা করেন। এবার নারী প্রার্থীরা এ কেন্দ্রীয় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তা একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা পাঠাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিরা ডাকসুর মতো প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম থেকে নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে পারবেন। বর্তমানে মব কালচার এবং মোরাল পুলিসিংয়ের মতো ঘটনা দেখছি আমরা, নারী হেনস্তার অভিযোগ আরও বেড়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নারীরা এসব নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
ডাকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করেন?
- আমার প্রধান লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও মননের বিকাশে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে। শিক্ষার্থী অধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসাবে কাজ করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে নারী প্রার্থী হিসাবে কোন বিষয়গুলোকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন?
- আমার দৃষ্টিতে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো সাইবার বুলিং, নারী প্রার্থীদের চরিত্রহনন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ চালানো হয়, যা নির্বাচনি প্রচারণায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া প্রচারণায় সীমাবদ্ধতা থাকে আমাদের। ছেলেদের হল, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে প্রচারণার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের কাছে পৌঁছানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামী দিনের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ডাকসু নির্বাচন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
- আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি। ডাকসু নির্বাচনকে জাতীয় রাজনীতির পূর্বচিত্র বলতে পারেন। এখানে নারী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় এবং সফল অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ নির্বাচনটি নারী নেতৃত্বের জন্য একটি যুগান্তকারী বা ‘চেইঞ্জমেকিং’ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখান থেকে উঠে আসা নারী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং তা রাজনীতিতে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা বা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কেমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন?
- আমি এমন একটি সুন্দর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হবে। আমি দীর্ঘদিন প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করছি। প্রতিবন্ধী অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ দেখতে চাই। আমার প্রত্যাশার বাংলাদেশ হবে এমন, যেখানে পোশাক, ধর্ম, জাতিসত্তা বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নারীকে বৈষম্য বা সামাজিক বিচারের শিকার হতে হবে না। নারীর ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর যে কোনো ধরনের ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিক খবরদারি হবে না এবং সামাজিক বিচার বা হয়রানির অবসান ঘটবে। নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারবে এবং রাজনীতি, অর্থনীতি তথা সমাজের সব ক্ষেত্রে তাদের সমান অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে।
নিজেকে ‘নারী প্রতিনিধি’ নয়, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি’ হিসাবে দেখতে চাই
আনিকা তাহসিন হাফসা
সমাজসেবা সম্পাদক পদপ্রার্থী (স্বতন্ত্র), রোকেয়া হল
সংসদ নির্বাচন
ডাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেশে নারীর অগ্রযাত্রায় কী ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন?
- নারী প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি মানে এই নয় যে, নারী প্রার্থীরা শুধু অংশ নিচ্ছেন; এর মানে হলো নারী পুরুষের সমান হকদার হয়ে নেতৃত্বের ময়দানে দাঁড়াচ্ছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী সব সময় রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে তাদের উপস্থিতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সীমিত করে রাখা হয়েছে। ডাকসু নির্বাচনে নারীর উপস্থিতি দেখায় যে আমরা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীরাও কোনো দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই। এ উপস্থিতি শুধু নারী অগ্রযাত্রাই নয়, দেশের গণতন্ত্রকেও সুদৃঢ় করবে।
নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করেন?
- আমার কাজ হবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে তাত্ত্বিক বক্তব্য নয়, বাস্তব সমাধানের চেষ্টা করা। বর্তমানে রোকেয়া হলে আবাসনের সংকট, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, নিরাপত্তা-এসব জরুরি বিষয় দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। নির্বাচিত হলে আমি শিক্ষার্থীদের হয়ে কথা বলব এবং এ সমস্যাগুলো সমাধানে চাপ সৃষ্টি করব। একজন নারী প্রতিনিধি হিসাবে আমি বিশেষভাবে মেয়েদের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করব। নিজেকে ‘নারী প্রতিনিধি’ নয়, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি’ হিসাবে দেখতে চাই।
এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থী হিসাবে কোন বিষয়গুলোকে নারী প্রার্থীদের জন্য বাধা বা বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন?
- সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানসিকতার বাধা। অনেকেই এখনো মনে করেন নেতৃত্ব দেওয়া পুরুষের বিষয়, নারী এখানে শুধু দর্শক। নির্বাচনি প্রচারণায় নারী প্রার্থীরা প্রায়শই বিদ্রুপ, গুজব কিংবা চরিত্রহননের শিকার হন। অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক দিক থেকেও নারী প্রার্থীরা পিছিয়ে থাকেন, কারণ বড় বড় ছাত্র সংগঠনগুলোয় নারীদের নেতৃত্ব তুলনামূলক কম। তবে আমি এটাকে ভয় পাই না। বরং এ চ্যালেঞ্জ প্রমাণ করে, কেন নারীর উপস্থিতি অপরিহার্য। যদি নারী প্রার্থীরা এসব প্রতিকূলতা জয় করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতের নারী নেতৃত্ব আরও দৃঢ় ভিত্তি পাবে।
সমাজে নারীর জন্য সাইবার বুলিং একটি বড় সমস্যা। ডাকসু নির্বাচনেও সে চিত্র আমরা দেখছি নিয়মিত। সাইবার বুলিং রোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে মনে করেন?
- সাইবার বুলিং শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি নারীদের জনজীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি অস্ত্র। দুঃখজনকভাবে, রাষ্ট্র এ বিষয়ে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয় না। আইন আছে, কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ নেই। ভুক্তভোগীকে অভিযোগ জানাতে গেলে উলটো নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। রাষ্ট্রের উচিত হবে-প্রথমত শক্তিশালী আইন প্রয়োগ করা, দ্বিতীয়ত ভুক্তভোগীকে দ্রুত প্রতিকার দেওয়া, তৃতীয়ত জনসচেতনতা তৈরি করা। একজন নাগরিক হিসেবে আমি চাই রাষ্ট্র নারীদের বলতে শিখুক-‘তুমি চুপ করো না, আমরা তোমার পাশে আছি’। নারীর কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা যত বাড়বে, রাষ্ট্রের গণতন্ত্র তত দুর্বল হবে।
আগামী দিনের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ডাকসু নির্বাচন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?
- ডাকসু নির্বাচন হলো নেতৃত্বের পাঠশালা। এখান থেকে যে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, সেটিই ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। তাই এখানে নারীর অংশগ্রহণ শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতিতে নারীর অবস্থান তৈরির ভিত্তি। ডাকসুতে যদি নারী প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারেন, তবে জাতীয় রাজনীতিতেও নারীরা শুধু সংসদে ‘সংরক্ষিত আসনে’ নয়, বরং সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবেই উঠে আসবেন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা বলতে চাই-আগামী দিনের বাংলাদেশে নারী নেতৃত্ব আর ব্যতিক্রম নয়, বরং স্বাভাবিক।
রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রা বা ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কেমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেন?
- এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন স্লোগান নয়, বাস্তবতা। যেখানে একজন মেয়ে রাজনীতি করলে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না, বরং তার কর্মক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হবে। আমি চাই এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে মেয়েরা নেতৃত্ব দিতে পারবে বিনা ভয়ে এবং ছেলেরা সেই নেতৃত্বকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করবে। সংক্ষেপে বললে-একটি বাংলাদেশ, যেখানে সমতা কাগজে-কলমে নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবে দৃশ্যমান হবে।
