Logo
Logo
×

সুরঞ্জনা

এই সময়

সাইবার বুলিং ও ট্যাগিং কি শুধু নারীর জন্য?

Icon

নুসরাত রুষা

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাইবার বুলিং ও ট্যাগিং কি শুধু নারীর জন্য?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এক সময় ছিল অনুপ্রেরণার প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সামরিক শাসনবিরোধী গণআন্দোলন-প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নারী শুধু অংশই নেয়নি, বরং নেতৃত্বও দিয়েছে। কিন্তু আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা যেন নারীর সেই অগ্রযাত্রাকে অনেকটাই থামিয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নীতি ও আচরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্র স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেয়ে বরং নারীর চলাচল ও অগ্রগতি রোধ করতে চায়। বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো অনেকটা পুরুষতান্ত্রিক ‘বয়েজ ক্লাব’-এর মতো, যেখানে নারীর প্রবেশাধিকার সীমিত, আর প্রবেশ করলেও টিকে থাকা আরও কঠিন।

সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান ও আন্দোলনে যেসব নারী প্রথম সারিতে ভূমিকা রেখেছিলেন, কিংবা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন, আজ তারা নিজের দলেই যেন প্রান্তিক হয়ে পড়েছেন। তাদের রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায়ও তাদের কদর কতটা তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। দলীয় মঞ্চে তাদের কেউ কেউ থাকেন, কিন্তু নীতি প্রণয়ন বা ক্ষমতার বণ্টনে তাদের অবস্থান আমাদের খুব একটা আশার আলো দেখায় না।

রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করার বড় একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সাইবার বুলিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিবিদরা নিয়মিত আক্রমণের মুখে পড়েন। রাজনৈতিক মতবিরোধের আড়ালে তাদের বিরুদ্ধে চালানো হয় ব্যক্তিগত ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আক্রমণ, চরিত্রহনন ও গুজব ছড়ানো। একজন নারী রাজনীতিতে সক্রিয় হলেই তাকে ‘পতিতা’, ‘অশ্লীল’ বা ‘নষ্ট’ বলে অপমান করা হয়-এ যেন এক প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল, যা নারীদের জনপরিসর থেকে সরিয়ে দিতে চায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। আইনগত ব্যবস্থার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় নিষ্ক্রিয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলেও অনেক সময় গুরুত্ব পান না, আবার আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে অনেকেই নীরব থাকেন। ফলস্বরূপ, অপরাধীরা শাস্তি ছাড়াই একই কাজ বারবার করার সুযোগ পায়, আর নারীর রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ক্রমেই দুর্বল হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং একটি কাঠামোগত নিপীড়নের অংশ। বয়েজ ক্লাব মানসিকতা রাজনীতির ভেতরে ক্ষমতার দরজা নারীদের জন্য বন্ধ রাখে, আর সাইবার সহিংসতা সে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। যদি সাইবার বুলিংকে গুরুত্ব দিয়ে দমন না করা হয়, তবে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু নামমাত্র থেকে যাবে। প্রতীকী উপস্থিতি থাকবে, কিন্তু প্রকৃত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ মিলবে না।

নারীর রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য যেমন সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং দলীয় সমর্থন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান। অনলাইন ও অফলাইনে নারীর কণ্ঠস্বর রক্ষা করা মানে শুধু একটি লিঙ্গের অধিকার রক্ষা নয়, এটি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মূল শর্ত নিশ্চিত করা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম