সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি দাবি বিভিন্ন নারী সংগঠনের 
jugantor
সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি দাবি বিভিন্ন নারী সংগঠনের 

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ মে ২০২১, ২২:৪৮:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নের প্ল্যাটফরম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমি। সভায় বক্তব্য দেন নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, ব্লাস্ট-এর সিনিয়র স্টাফ ল’ ইয়ার ব্যারিস্টার শারমিন আক্তার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক নিনা গোস্বামী, দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সালমা আলী, সংসদ সদস্য এবং কর্মজীবী নারীর উপদেষ্টা শিরীন আক্তার, এডাবের কাউসার আলম কনক, কর্মজীবী নারীর সানজিদা সুলতানা।

নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমি বলেন, সম্প্রতি রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ম, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন করেছেন। এই আক্রমণ এ ঘটনারই প্রতিহিংসা কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ক্ষমতা ও আইনের অপব্যবহার করার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই শুধু লঙ্ঘিত করা হয়নি, এই ঘটনা প্রশাসনের সুশাসনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নারী সমাজ যখন প্রশাসন, সাংবাদিকতাসহ সব ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তখন একজন উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তার রোজিনা ইসলামের ওপর এহেন বর্বর আচরণ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সাংবাদিক হিসাবে এবং একজন নারী হিসাবে তার মৌলিক অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। এ ঘটনা জেনে শুনে বুঝে করা হয়েছে। সাংবাদিক রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে যে নির্যাতন করা হয়েছে, সেগুলো অপরাধ। যারা এ নির্যাতনগুলো করেছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। জনগণের স্বার্থরক্ষায় যে অধিকার সংক্রান্ত তথ্য উন্মোচন করার কাজ সাংবাদিকরা করছেন, তার জন্য সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ১৯২৩ এর ঔপনিবেশিক আইনকে দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে, যা সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়, এতে ধিক্কার জানাই। এখানে ২০০৯ ও ২০১১-এর তথ্য অধিকার আইন কেন আমলে নেওয়া হবে না, সেটি দেখতে হবে, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বিনা কারণে রোজিনা ইসলাম কেন তিনদিন জেলে থাকলেন এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দৃশ্যমান করার দাবি তোলা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে সঞ্চালকের বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলন। একজন সাংবাদিককে এভাবে হেনস্তা করার ঘটনা নজিরবিহীন। সাংবাদিক রোজিনার প্রতি হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনা শুধু মূল্যবোধের ক্ষয় নয়। এটি একটি ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যে অপরাধগুলো করা হয়েছে, সেসব অপরাধই ফৌজদারি অপরাধ। একজন সাংবাদিককে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক। এ ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে সেটি প্রত্যাখান করা, মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন তদন্ত কমিটি গঠনের আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, নারী নেত্রীবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কর্মকর্তাসহ ৫৪ জন উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি কয়েকটি দাবি পেশ করে :

এ ঘটনায় অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা। অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও শাস্তির দাবি।

অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবি, গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কোনোরকম হয়রানি, ভয়ভীতি ছাড়া নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সরকারসহ সবার প্রতি আহবান, স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ এ নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাদের বিচার ও শাস্তি প্রদান। রোজিনা ইসলামের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ, দুর্নীতির সিন্ডকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, স্টেপস টুয়াডর্স ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, ব্র্যাক, উইমেন ফর উইমেন, কেয়ার বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, জাতীয় শ্রমিক জোট, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, আইইডি, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ, পল­ী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, অক্সফাম জিবি, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, প্রিপ ট্রাস্ট, এডিডি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, গণসাক্ষরতা অভিযান, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র, জাতীয় নারীশ্রমিক জোট, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় নারী জোট, শক্তি ফাউন্ডেশন, বিপিডব্লিউ ক্লাব, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, নারী মুক্তি সংসদ, সেবা নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ডিআরআরএ, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেন, সরেপটেমিস্ট ইন্টারন্যাশন্যাল ক্লাব ঢাকা, আরডিআরএস, বিল্স, এডাব, এসডিএস জয়পুরহাট, এফপিএবি, নাগরিক উদ্যোগ, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ, সারি, বাউশি, পাক্ষিক অনন্যা, এসিডি রাজশাহী, ব্রতী, নারী মৈত্রী, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, ইক্যুয়িটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্র“প, ওয়াইডাব্লিউসিএ অব বাংলাদেশ, দলিত নারী ফোরাম, দীপ্ত এ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ব্লাস্ট, টার্নিং পয়েন্ট, সেন্টার ফর মেন এন্ড মেসকুলিনিটিজ স্টাডিজ, সেভ দ্য চিলড্রেন, অভিযান এবং আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক।

নারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে রেখে নির্যাতন করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিবৃতি

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে রেখে নির্যাতন করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে জানতে পারলাম যে, দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটতে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। তাকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে একজন নারী সাংবাদিকের ওপর সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের এ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং মুক্তি দাবি

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং মুক্তি দাবিতে ১৮ মে এক বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ মে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে বিকাল ৩টার দিকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে একটি কক্ষে আটক করেন। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। রাত সাড়ে ৮টায় তাকে ধরাধরি করে নারী পুলিশ সদস্যরা ওই কক্ষ থেকে বের করে নিচে নামিয়ে আনেন। গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকেরা পুলিশের কাছে জানতে চান, রোজিনাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? তখন পুলিশ জানায়, চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, তাকে হাসপাতালে নয়, শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা বিকালে সচিবালয়ে এবং রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম মনে করে, রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনাকে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি হুমকি বলেই আমরা মনে করি। একজন নারী সাংবাদিকের ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যথোপযুক্ত বিচার ও রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি করছি। আমরা সরকারকে বিষয়গুলো ভেবে দেখার আহবান জানাচ্ছি।

রোজিনার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের মানববন্ধন

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নারী সাংবাদিকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের অবিলম্বে মুক্তি চায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রোজিনাকে আটকে রেখে নিগ্রহ ও নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে।
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আর হক মিনু, দিলরুবা খান, নাদিয়া শারমিন, লাবণ্য লিপি, রীতা নাহার, রেহনুমা আহমেদ প্রমুখ সাংবাদিকরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

বাংলাদেশের মলা মাছ ভিত্তিক গবেষকের বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার জয়!

ড. শকুন্তলা হরাকসিংহ থিলস্টেড ২০২১ সালের বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার জিতেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় মাছ ও জলজ খাদ্যের মাধ্যমে অপুষ্টি দূরীকরণে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে অত্যন্ত সম্মানজনক এ পুরস্কারে ভ‚ষিত করা হয়।

পুষ্টিবিদ ড. শকুন্তলা ১১ মে ‘খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার’ খ্যাত এ সম্ননা লাভ করেন। ত্রিনিনাদ ও টোবাগোয় জন্মগ্রহণকারী এবং ডেনমার্কের বাসিন্দা ড. শকুন্তলা হরাকসিংহ থিলস্টেড বর্তমানে ওয়ার্ল্ডফিশের পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গ্লোবাল লিড হিসাবে কাজ করছেন।

১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আব্দুল ওহাবের সঙ্গে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার জন্য তিনি পুষ্টিকর ডায়েট হিসাবে ছোট দেশীয় মাছের প্রজাতি হিসাবে বাংলাদেশের মলাকে বেছে নেন। তারপরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রয়েল ভেটেরিনারি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির (বর্তমানে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ) অংশীদারিত্বে তারা গবেষণার মাধম্যে মলা-কার্প পলিকালচার পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। যৌথভাবে তারা পুকুরে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ চাষে বাংলাদেশি ও ডেনমার্কের একদল মেধাবী গবেষকদের যুক্ত করেন। পরবর্তীতে পুষ্টিসমৃদ্ধ মলা মাছ চাষের এ প্রযুক্তিটি তিনি দ্রুত মিয়ানমার, নেপাল এবং ভারত, কম্বোডিয়াসহ আরও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ ভ‚মিকা রাখেন।

বর্তমানে ইউএসএআইডি-এর অর্থায়িত ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার হিসাবে কর্মরত ড. মো. আব্দুল ওহাব বলেন, গৌরবময় বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার জয়ে আমরা তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, আমি খুব আনন্দিত যে, শকুন্তলা হারাকসিংহ থিলস্টেডের গবেষণার সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম।

সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি দাবি বিভিন্ন নারী সংগঠনের 

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ মে ২০২১, ১০:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়নের প্ল্যাটফরম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বুধবার সকাল ১১টায় অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমি। সভায় বক্তব্য দেন নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, ব্লাস্ট-এর সিনিয়র স্টাফ ল’ ইয়ার ব্যারিস্টার  শারমিন আক্তার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক নিনা গোস্বামী, দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সালমা আলী, সংসদ সদস্য এবং কর্মজীবী নারীর উপদেষ্টা শিরীন আক্তার, এডাবের কাউসার আলম কনক, কর্মজীবী নারীর সানজিদা সুলতানা।

নারী প্রগতি সংঘের উপ-পরিচালক শাহনাজ সুমি বলেন, সম্প্রতি রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ম, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন করেছেন। এই আক্রমণ এ ঘটনারই প্রতিহিংসা কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ক্ষমতা ও আইনের অপব্যবহার করার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই শুধু লঙ্ঘিত করা হয়নি, এই ঘটনা প্রশাসনের সুশাসনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

নারী সমাজ যখন প্রশাসন, সাংবাদিকতাসহ সব ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তখন একজন উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তার রোজিনা ইসলামের ওপর এহেন বর্বর আচরণ সুষ্ঠু তদন্তের দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন সাংবাদিক হিসাবে এবং একজন নারী হিসাবে তার মৌলিক অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। এ ঘটনা জেনে শুনে বুঝে করা হয়েছে। সাংবাদিক রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে  যে নির্যাতন করা হয়েছে, সেগুলো অপরাধ। যারা এ নির্যাতনগুলো করেছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। জনগণের স্বার্থরক্ষায় যে অধিকার সংক্রান্ত তথ্য উন্মোচন করার কাজ সাংবাদিকরা করছেন, তার জন্য সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ১৯২৩ এর ঔপনিবেশিক আইনকে দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে, যা সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়, এতে ধিক্কার জানাই। এখানে ২০০৯ ও ২০১১-এর তথ্য অধিকার আইন কেন আমলে নেওয়া হবে না, সেটি দেখতে হবে, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বিনা কারণে রোজিনা ইসলাম  কেন তিনদিন জেলে থাকলেন এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দৃশ্যমান করার দাবি তোলা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে সঞ্চালকের বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন,  মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলন। একজন সাংবাদিককে এভাবে হেনস্তা করার ঘটনা নজিরবিহীন। সাংবাদিক রোজিনার প্রতি হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনা শুধু মূল্যবোধের ক্ষয় নয়। এটি একটি ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে যে অপরাধগুলো করা হয়েছে, সেসব অপরাধই ফৌজদারি অপরাধ। একজন সাংবাদিককে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক।  এ ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে সেটি প্রত্যাখান করা, মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন তদন্ত কমিটি গঠনের আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী, নারী নেত্রীবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কর্মকর্তাসহ ৫৪ জন উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি কয়েকটি দাবি পেশ করে :

এ ঘটনায় অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা। অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও শাস্তির দাবি।

অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবি, গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কোনোরকম হয়রানি, ভয়ভীতি ছাড়া নিরপেক্ষভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের  পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সরকারসহ সবার প্রতি আহবান, স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ এ নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাদের বিচার ও শাস্তি প্রদান। রোজিনা ইসলামের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ,  দুর্নীতির সিন্ডকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, স্টেপস টুয়াডর্স ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, ব্র্যাক, উইমেন ফর উইমেন, কেয়ার বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, জাতীয় শ্রমিক জোট, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, আইইডি, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, নিজেরা করি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ঢাকা ওয়াইডব্লিউসিএ, পল­ী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, অক্সফাম জিবি, এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, প্রিপ ট্রাস্ট, এডিডি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন, গণসাক্ষরতা অভিযান, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, নারী উদ্যোগ কেন্দ্র, জাতীয় নারীশ্রমিক জোট, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় নারী জোট, শক্তি ফাউন্ডেশন, বিপিডব্লিউ ক্লাব, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, নারী মুক্তি সংসদ, সেবা নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ডিআরআরএ, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেন, সরেপটেমিস্ট ইন্টারন্যাশন্যাল ক্লাব ঢাকা, আরডিআরএস, বিল্স, এডাব, এসডিএস জয়পুরহাট, এফপিএবি, নাগরিক উদ্যোগ, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ, সারি, বাউশি, পাক্ষিক অনন্যা, এসিডি রাজশাহী, ব্রতী, নারী মৈত্রী, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, ইক্যুয়িটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্র“প, ওয়াইডাব্লিউসিএ অব বাংলাদেশ, দলিত নারী ফোরাম, দীপ্ত এ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ব্লাস্ট, টার্নিং পয়েন্ট, সেন্টার ফর মেন এন্ড মেসকুলিনিটিজ স্টাডিজ, সেভ দ্য চিলড্রেন, অভিযান এবং আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক।

নারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে  রেখে নির্যাতন করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিবৃতি

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে রেখে নির্যাতন করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে  জানতে পারলাম যে, দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটতে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। তাকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে একজন নারী সাংবাদিকের ওপর সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের এ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং মুক্তি দাবি

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং মুক্তি দাবিতে ১৮ মে এক বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ মে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পরে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে বিকাল ৩টার দিকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে একটি কক্ষে আটক করেন। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। রাত সাড়ে ৮টায় তাকে ধরাধরি করে নারী পুলিশ সদস্যরা ওই কক্ষ থেকে বের করে নিচে নামিয়ে আনেন। গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকেরা পুলিশের কাছে জানতে চান, রোজিনাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? তখন পুলিশ জানায়, চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, তাকে হাসপাতালে নয়, শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা বিকালে সচিবালয়ে এবং রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম মনে করে, রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনাকে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি হুমকি বলেই আমরা মনে করি। একজন নারী সাংবাদিকের ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যথোপযুক্ত বিচার ও রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি করছি। আমরা সরকারকে বিষয়গুলো ভেবে দেখার আহবান জানাচ্ছি।

রোজিনার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের মানববন্ধন

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের নারী সাংবাদিকরা মানববন্ধনের মাধ্যমে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের অবিলম্বে মুক্তি চায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রোজিনাকে আটকে রেখে নিগ্রহ ও নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করে।
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আর হক মিনু, দিলরুবা খান, নাদিয়া শারমিন, লাবণ্য লিপি, রীতা নাহার, রেহনুমা আহমেদ প্রমুখ সাংবাদিকরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

বাংলাদেশের মলা মাছ ভিত্তিক গবেষকের বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার জয়!

ড. শকুন্তলা হরাকসিংহ থিলস্টেড ২০২১ সালের বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার জিতেছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় মাছ ও জলজ খাদ্যের মাধ্যমে অপুষ্টি দূরীকরণে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে অত্যন্ত সম্মানজনক এ পুরস্কারে ভ‚ষিত করা হয়।

পুষ্টিবিদ ড. শকুন্তলা ১১ মে ‘খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার’ খ্যাত এ  সম্ননা লাভ করেন। ত্রিনিনাদ ও টোবাগোয় জন্মগ্রহণকারী এবং ডেনমার্কের বাসিন্দা ড. শকুন্তলা হরাকসিংহ থিলস্টেড বর্তমানে ওয়ার্ল্ডফিশের পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গ্লোবাল লিড হিসাবে কাজ করছেন।

১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আব্দুল ওহাবের সঙ্গে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার জন্য তিনি পুষ্টিকর ডায়েট হিসাবে ছোট দেশীয় মাছের প্রজাতি হিসাবে বাংলাদেশের মলাকে বেছে নেন। তারপরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রয়েল ভেটেরিনারি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির (বর্তমানে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ) অংশীদারিত্বে তারা গবেষণার মাধম্যে মলা-কার্প পলিকালচার পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। যৌথভাবে তারা পুকুরে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ চাষে বাংলাদেশি ও ডেনমার্কের একদল মেধাবী গবেষকদের যুক্ত করেন। পরবর্তীতে পুষ্টিসমৃদ্ধ মলা মাছ চাষের এ প্রযুক্তিটি তিনি দ্রুত মিয়ানমার, নেপাল এবং ভারত, কম্বোডিয়াসহ আরও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ ভ‚মিকা রাখেন।

বর্তমানে ইউএসএআইডি-এর অর্থায়িত ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার হিসাবে কর্মরত ড. মো. আব্দুল ওহাব বলেন, গৌরবময় বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার জয়ে আমরা তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই, আমি খুব আনন্দিত যে, শকুন্তলা হারাকসিংহ থিলস্টেডের গবেষণার সঙ্গে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্থা