মাথায় ঘোমটা না দেওয়ায় এবার হেনস্থার মুখে 'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী
jugantor
মাথায় ঘোমটা না দেওয়ায় এবার হেনস্থার মুখে 'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী

  রীতা ভৌমিক  

০৩ জুন ২০২২, ১৮:১৬:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

রেলস্টেশনে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়া তরুণীর ন্যায্য বিচার প্রাপ্তির দাবিতে ‘পোশাকসহ কোনো কারণে নারীর ওপর যৌন হয়রানি মানি না, মানব না’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় নরসিংদী রেলস্টেশনে আমরাই পারি জোট এবং নারী নিরাপত্তা জোটসহ ১৩টি নারী অধিকার সংগঠন এবং প্ল্যাটফরমের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন চলাকালীন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হকের শাড়ির আঁচল টেনে একজন নারী মাথার ঘোমটা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে সরিয়ে নিয়ে গেলেও এ ঘটনাটিকে একটি ষড়যন্ত্রমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন উপস্থিত নারী অধিকারকর্মীরা।

তারা মনে করছেন, ঠিক একইভাবে গত ১৮ মে ভোর পাঁচটায় একজন নারী এ নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রী একজন তরুণীকে তার পরিধেয় পোশাক নিয়ে মৌখিক এবং শারীরিকভাবে যৌন হয়রানি করে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনে এসে আরেকজন নারী যখন ঠিক একই আচরণ করে, তখন তা স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা পোশাক নিয়ে এ একের পর এক নারীর ওপর হয়রানিকে কোনো আকস্মিক ঘটনা ভাবছে না। বরং তারা এটিকে একটি অপশক্তির ষড়যন্ত্র ভাবছেন যেখানে একজন নারীকে দিয়েই নারীর ওপর হয়রানিগুলো করানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, ওই নারী আমার শাড়ির আঁচল ধরে টানাটানি করলে আমি তাকে বলি কি করছেন। সে আমাকে বলে মাথায় ঘোমটা দিন। ইসলামে মহিলাদের মাথায় ঘোমটা দেওয়ার কথা বলা আছে। আমি তার আচরণ এবং কথা শুনে বিস্মিত হয়ে পড়ি।

মানববন্ধন শেষে নারী অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৩ সংগঠনের নারী নেত্রীরা তাদের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।

আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, নারী নিরাপত্তা জোট, নেটজ বাংলাদেশ, ন্যাশনাল কনফ্লিক্ট ট্রান্সফরমেশন, রিসার্চ ইনসিয়েটিভস বাংলাদেশ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক, এমডিএস, মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা, সহায়, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, অন্তরঙ্গ সমাজকল্যাণ সংস্থা ইত্যাদি সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নরসিংদী রেলওয়ের মতো একটি জনবহুল এলাকায় একজন নারীর নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় নারী অধিকারকর্মীরা উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেন।

আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, গত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ভেতর সহিংসতা, মৌলবাদিতা এবং ধর্মান্ধের গোঁড়ামি বেড়েই চলেছে, যা মূলত নারীর পোশাকসহ নারীর নানা ধরনের আচরণের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

তিনি নরসিংদী জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে আরও সুদূরপ্রসারী এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

রিইবের সহযোগী পরিচালক রুহী নাজ বলেন, মৌলবাদিতা প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন নেটজ বাংলাদেশ এর আফসানা বিনতে আমিন প্রমুখ নেতার।

১৩টি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-প্রথমত নরসিংদী রেলস্টেশনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে বিচারের আওতাধীন করতে হবে এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে যাতে পরে এ ঘটনাটি অন্য কোথাও না ঘটে।

দ্বিতীয়ত গণপরিবহণে নারীর হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত নারীর চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী অপশক্তিতে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।

চতুর্থত সাধারণ মানুষের মাঝে জেন্ডার সংবেদনশীল আচরণ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে হবে।

মাথায় ঘোমটা না দেওয়ায় এবার হেনস্থার মুখে 'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী

 রীতা ভৌমিক 
০৩ জুন ২০২২, ০৬:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রেলস্টেশনে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হওয়া তরুণীর ন্যায্য বিচার প্রাপ্তির দাবিতে ‘পোশাকসহ কোনো কারণে নারীর ওপর যৌন হয়রানি মানি না, মানব না’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় নরসিংদী রেলস্টেশনে আমরাই পারি জোট এবং নারী নিরাপত্তা জোটসহ ১৩টি নারী অধিকার সংগঠন এবং প্ল্যাটফরমের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধন চলাকালীন আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হকের শাড়ির আঁচল টেনে একজন নারী মাথার ঘোমটা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। 

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে সরিয়ে নিয়ে গেলেও এ ঘটনাটিকে একটি ষড়যন্ত্রমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন উপস্থিত নারী অধিকারকর্মীরা। 

তারা মনে করছেন, ঠিক একইভাবে গত ১৮ মে ভোর পাঁচটায় একজন নারী এ নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রী একজন তরুণীকে তার পরিধেয় পোশাক নিয়ে মৌখিক এবং শারীরিকভাবে যৌন হয়রানি করে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনে এসে আরেকজন নারী যখন ঠিক একই আচরণ করে, তখন তা স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা পোশাক নিয়ে এ একের পর এক নারীর ওপর হয়রানিকে কোনো আকস্মিক ঘটনা ভাবছে না। বরং তারা এটিকে একটি অপশক্তির ষড়যন্ত্র ভাবছেন যেখানে একজন নারীকে দিয়েই নারীর ওপর হয়রানিগুলো করানো হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, ওই নারী আমার শাড়ির আঁচল ধরে টানাটানি করলে আমি তাকে বলি কি করছেন। সে আমাকে বলে মাথায় ঘোমটা দিন। ইসলামে মহিলাদের মাথায় ঘোমটা দেওয়ার কথা বলা আছে। আমি তার আচরণ এবং কথা শুনে বিস্মিত হয়ে পড়ি।

মানববন্ধন শেষে নারী অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৩ সংগঠনের নারী নেত্রীরা তাদের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। 

আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট, নারী নিরাপত্তা জোট, নেটজ বাংলাদেশ, ন্যাশনাল কনফ্লিক্ট ট্রান্সফরমেশন, রিসার্চ ইনসিয়েটিভস বাংলাদেশ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক, এমডিএস, মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা, সহায়, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, অন্তরঙ্গ সমাজকল্যাণ সংস্থা ইত্যাদি সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নরসিংদী রেলওয়ের মতো একটি জনবহুল এলাকায় একজন নারীর নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় নারী অধিকারকর্মীরা উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেন। 

আমরাই পারি জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, গত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ভেতর সহিংসতা, মৌলবাদিতা এবং ধর্মান্ধের গোঁড়ামি বেড়েই চলেছে, যা মূলত নারীর পোশাকসহ নারীর নানা ধরনের আচরণের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। 

তিনি নরসিংদী জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে আরও সুদূরপ্রসারী এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

রিইবের সহযোগী পরিচালক রুহী নাজ বলেন, মৌলবাদিতা প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন নেটজ বাংলাদেশ এর আফসানা বিনতে আমিন প্রমুখ নেতার।

১৩টি সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-প্রথমত নরসিংদী রেলস্টেশনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে বিচারের আওতাধীন করতে হবে এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে যাতে পরে এ ঘটনাটি অন্য কোথাও না ঘটে। 

দ্বিতীয়ত গণপরিবহণে নারীর হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত নারীর চলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী অপশক্তিতে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে। 

চতুর্থত সাধারণ মানুষের মাঝে জেন্ডার সংবেদনশীল আচরণ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন