গণপরিবহণে নারীর নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন
jugantor
গণপরিবহণে নারীর নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৩ আগস্ট ২০২২, ২২:১৬:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবহণে নারীর প্রতি সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার বিষয়টি খুবই পুরোনো। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিরোধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির কথা বলা হলেও এর বাস্তবিক প্রয়োগ নেই। এর ফলে একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আবার আরও অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে (৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম) বুধবার ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকাল সাড়ে ৩টায় ‘গণপরিবহণে অব্যাহতভাবে ধর্ষণের ঘটনা ও নারীর নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদ ও প্রতিকারের দাবিতে’ এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতনের নতুন ধরন যুক্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় পুরোনো আইন দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় বিচারের কাজ পরিচালনা করা যাবে কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। ধর্ষণের যে কলঙ্ক তা কে বহন করবে? গণপরিবহণে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে গণপরিবহণ মালিক, গণপরিবহণ শ্রমিক ও গণপরিবহণমন্ত্রীসহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে নিজ নিজ দায়বদ্ধতা থেকে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে। নারী কোথাও নিরাপদ নয়, নারীকে কেউ নিরাপত্তা দেবে না, তার নিজেকেই নিরাপত্তা আদায় করতে হবে। সব ধরনের ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে সামাজিক আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে।

গণপরিবহণে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, প্রতিটি ঘটনার মামলার বিচার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। টহলরত পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা সড়কপথে আছে তাদের আচরণগত পরিবর্তনের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রকৃত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘটনা প্রতিহত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের শামসুন্নাহার পলি, ওয়াইডব্লিউ সিএ অব বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর বীণা অধিকারী, একশন এইড-এর নুরুন্নাহার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির অন্যতম সদস্য দিলশাত আরা, ব্লাষ্টের শাহরিয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আইনজীবী রুমা সুলতানা, বাংলাদেশ ট্র–ডে ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেকুলাল ঘোষ কমল। এ ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোবারক হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণপরিবহণে নারীর নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৩ আগস্ট ২০২২, ১০:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবহণে নারীর প্রতি সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার বিষয়টি খুবই পুরোনো। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিরোধে  শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির কথা বলা হলেও এর বাস্তবিক প্রয়োগ  নেই। এর ফলে একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আবার আরও অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। 

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে (৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম) বুধবার ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকাল সাড়ে ৩টায় ‘গণপরিবহণে অব্যাহতভাবে ধর্ষণের ঘটনা ও নারীর নিরাপত্তাহীনতার  প্রতিবাদ ও প্রতিকারের দাবিতে’ এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। 

ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া  মোসলেম। 

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতনের নতুন ধরন যুক্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় পুরোনো আইন দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় বিচারের কাজ পরিচালনা করা যাবে কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। ধর্ষণের যে কলঙ্ক তা কে বহন করবে? গণপরিবহণে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে গণপরিবহণ মালিক, গণপরিবহণ শ্রমিক ও গণপরিবহণমন্ত্রীসহ সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, সবাইকে নিজ নিজ দায়বদ্ধতা থেকে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে। নারী কোথাও নিরাপদ নয়, নারীকে কেউ নিরাপত্তা  দেবে না, তার নিজেকেই নিরাপত্তা আদায় করতে হবে। সব ধরনের ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে সামাজিক আন্দোলনকে  জোরদার করতে হবে।

গণপরিবহণে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, প্রতিটি ঘটনার মামলার বিচার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। টহলরত পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা সড়কপথে আছে তাদের আচরণগত পরিবর্তনের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রকৃত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘটনা প্রতিহত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়  থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।  

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের শামসুন্নাহার পলি, ওয়াইডব্লিউ সিএ অব বাংলাদেশের  কো-অর্ডিনেটর  বীণা অধিকারী, একশন এইড-এর নুরুন্নাহার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির অন্যতম সদস্য দিলশাত আরা, ব্লাষ্টের শাহরিয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আইনজীবী রুমা সুলতানা, বাংলাদেশ ট্র–ডে ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভাইস  প্রেসিডেন্ট ফেকুলাল ঘোষ কমল। এ ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোবারক হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন