তরুণীর পোশাক নিয়ে উচ্চ আদালতের মন্তব্যে মহিলা পরিষদের বিবৃতি
jugantor
তরুণীর পোশাক নিয়ে উচ্চ আদালতের মন্তব্যে মহিলা পরিষদের বিবৃতি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ আগস্ট ২০২২, ২২:৩০:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

১৭ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের জন্য তরুণীকে হেনস্তা প্রসঙ্গে উচ্চ আদালত প্রশ্ন রেখেছেন, সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কিনা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ আদালতের বক্তব্য যেভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে তা যদি যথার্থ হয় তবে তা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত সাংবিধানিক অধিকার, নারীর সমানাধিকার, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের নীতিমালা, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বর্তমান সরকারের গৃহীত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। নারীরা দৃপ্ত পদে এগিয়ে চলেছে। নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারীর পছন্দ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার, নারীর স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার সাংবিধানিক অধিকার। যে স্থানে নারীর ব্যক্তি অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ পর্যবেক্ষণ জনপরিসরে নারীর স্বাধীন চলাচল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অন্তরায় হবে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির নারীর মানবাধিকারের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্য পক্ষান্তরে নারীর ন্যায় বিচার প্রাপ্তিকে অসম্ভব করে তুলবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল ও আস্থাশীল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সম্মান ও আস্থা রেখে প্রত্যাশা করে মানুষের অধিকার, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়, নারীর অধিকার সমুন্নত রাখতে প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সমন্বয়ে এ মহান প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

তরুণীর পোশাক নিয়ে উচ্চ আদালতের মন্তব্যে মহিলা পরিষদের বিবৃতি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ আগস্ট ২০২২, ১০:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

১৭ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি নরসিংদী রেলস্টেশনে পোশাকের জন্য তরুণীকে হেনস্তা প্রসঙ্গে উচ্চ আদালত প্রশ্ন রেখেছেন, সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে  রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কিনা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ আদালতের বক্তব্য যেভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে তা যদি যথার্থ হয় তবে তা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত সাংবিধানিক অধিকার, নারীর সমানাধিকার, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের নীতিমালা, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বর্তমান সরকারের গৃহীত নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। নারীরা দৃপ্ত পদে এগিয়ে চলেছে। নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারীর পছন্দ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার, নারীর স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার সাংবিধানিক অধিকার। যে স্থানে নারীর ব্যক্তি অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেখানে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ পর্যবেক্ষণ জনপরিসরে নারীর স্বাধীন চলাচল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অন্তরায় হবে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির নারীর মানবাধিকারের প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও বক্তব্য পক্ষান্তরে নারীর ন্যায় বিচার প্রাপ্তিকে অসম্ভব করে তুলবে। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল ও আস্থাশীল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সম্মান ও আস্থা রেখে প্রত্যাশা করে মানুষের অধিকার, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়, নারীর অধিকার সমুন্নত রাখতে প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সমন্বয়ে এ মহান প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন