বাবলুকে নিয়ে আ’লীগ-বিএনপির টানাহেঁচড়া

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুকে দলে নিতে টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে। তার স্বাক্ষর জাল করে দলে যোগদানের বিষয় নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি করেছে একটি মহল।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রেজাউল করিম বাবলু এমন অভিযোগ করে জানান, তিনি কোনো দলে যোগ দেননি। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

রেজাউল করিম বাবলু প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, তিনি বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। কোনো কোনো মহল আমার স্বাক্ষর জাল করে তাদের দলে যোগদানের বিষয় নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে। মূলত আমি কোনো দলে যোগদান করিনি। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে যখন যা প্রয়োজন সময় সাপেক্ষে সে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করব।

এদিকে বিএনপির সমর্থন নিয়ে বিপুল ভোটে রেজাউল করিম বাবলু সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে তাকে দলে নিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি টানাহেঁচড়া শুরু করেছে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, বাবলু আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থার বগুড়া জেলা সহসভাপতি। বাবলু আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আর আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন।

শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থার বগুড়া জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বাবলুকে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। আর কৌশলগত কারণে বিএনপির সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছেন। আমরা মনে করি বাবলু আমাদেরই লোক।

বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল আলম হিরু জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর রোববার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বাবলু আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। নেতারাও তাকে আওয়ামী লীগে নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

এ ছাড়া শাজাহানপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল হান্নান দাবি করেন, শওকত আলী গোলবাগী ওরফে রেজাউল করিম বাবলু তার সংগঠনের এখনো তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

এ প্রসঙ্গে গাবতলী উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ মিল্টন দাবি করে জানান, ২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১টা পর্যন্ত ঢাকায় বৈঠকের পর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে সমর্থন দেন। এ বিষয়ে তাকে (মিল্টন) দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। দলের মেনুফেস্ট অনুযায়ী যে অঙ্গীকারনামা এবং ফরমে স্বাক্ষর করা প্রয়োজন তার সবগুলো রেজাউল করিম বাবলু করেছেন। তিনি বিএনপিতে যোগদানের পরই তাকে সমর্থন দেয়া হয়েছে।