সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদের সামনে মন্ত্রিত্বের হাতছানি!

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  এ টি এম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। পরবর্তীতে ক্রীড়া সচিব হিসেবেও চাকরি করেন। এ দুই শীর্ষ পদে সরকারি চাকরি শেষে ডাক পড়ে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের। তারপর অবসর জীবনে বাড়িতে ফেরার পর তার সামনে রাজনীতির মাধ্যমে নতুন করে সমাজ ও রাষ্ট্রসেবার হাতছানি দেখা দেয়। এবার সে সুযোগও লুফে নিলেন তিনি। বলছিলাম নূর মোহাম্মদের কথা।

ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনকে পুঁজি করে বর্তমান এমপিকে টেক্কা দিয়ে ছিনিয়ে নিলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট। নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি দলীয় প্রার্থী সাবেক বহুল আলোচিত সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে হাসলেন বিজয়ের হাসি।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের মীরের পাড়ার মরহুম লুন্দর আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নকালে জড়িত হন জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে যোগ দেন পুলিশে। ন্যায়-নিষ্ঠা আর অদম্য মেধা ও প্রজ্ঞার পাখায় ভর করে একে একে সিঁড়ি বেয়ে লাভ করেন পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পদ আইজিপির মুকুট।

যোগ্যতা, আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি সব রেকর্ড ভঙ্গ করে আইজিপি পদে সুদীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এ পদে থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ দুটি শীর্ষ পদে চাকরি শেষেও বর্তমান সরকারের ইচ্ছায় তাকে দায়িত্ব পালন করতে হয় মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ একান্ত আলাপচারিতায় যুগান্তরকে জানান, ‘আমি জীবনের সুদীর্ঘ সময় পুলিশে থেকে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক পুলিশ বাহিনী গঠনে কাজ করেছি। কাজ করেছি ক্রীড়া সচিব ও দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে। কর্মজীবন শেষে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করে কাছে থেকে মানুষের নানা সমস্যা, হাসি-কান্না ও দুঃখ-বেদনার কথা শুনেছি। জেনেছি সমাজের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সম্ভাবনার কথা। আর এ কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সুযোগটি হাতছাড়া করার কোনো উপায় ছিল না।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘অবসর জীবনেও মানুষ ও সমাজের সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমি কাছে থেকে দেখা এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই। সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গড়ার লক্ষে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনেও ভূমিকা রাখতে চাই। আর এসব কাজ করার পাশাপাশি জাতীয় সংসদের একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে আমি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সেবা করতে চাই।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হয়েছে নির্বাচনে বিজয়ী এই সাবেক আইজিপিকে নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন। এসব আলোচনা-সমালোচনা ও গুঞ্জনে উঠে আসছে এবারের সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায়ও তিনি ঠাঁই পাচ্ছেন এমন কথা।

কেউ বলছেন, স্বরাষ্ট্র আর কেউ বলছেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কোনো না কোনো মন্ত্রিত্ব তিনি পাবেনই। এমন খবরের কৌতূহল নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জবাসী।