ফেসবুক থেকেই আয়-রোজগার: পর্ব-৬

  মো. ইকরাম ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ১০:১১ | অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুক থেকেই আয়-রোজগার। ছবি: যুগান্তর
ফেসবুক থেকেই আয়-রোজগার। ছবি: যুগান্তর

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার বর্তমান বাজারের অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন পেশা

যেহেতু সব ব্যবসায়ীপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দিকে অবশ্যই ঝুঁকতে হচ্ছে, এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। সেই কারণে বর্তমান যুগে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন একটি ক্যারিয়ার হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারকে কি কি কাজ করতে হয়, সেটি এবার জানানোর চেষ্টা করছি। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব শুধুমাত্র প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না, এটুকু কাজের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারকে নিযুক্ত করে না, বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের প্রতিদিন কি কি কাজ করতে হয়, সেই বিষয়ে কিছু আলোচনা করব এবার-

১) সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে সব সময় আপডেট থাকতে হয়। অ্যানগেজিং কনটেন্ট, ছবি, ভিডিও, ব্লগ লিংক, বিভিন্ন কমেন্টে উত্তর দেয়ার মাধ্যমে আপডেট রাখা সবচেয়ে প্রথম কাজ। আর তাই সব ধরনের কনটেন্ট তৈরির দক্ষতা থাকাটা জরুরি। সব ধরনের কনটেন্ট বলতে বোঝাচ্ছি, শর্ট মেসেজ, ইমেজ তৈরি, ভিডিও তৈরি সম্পর্কে দক্ষতা থাকতে হবে।

২) সেই বিজনেস প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডিং হয়, এ রকম ব্লগিংয়ের পরিকল্পনা, ব্লগ পাবলিশ করা, ব্লগ লিংককে প্রমোট করার কাজটিও সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ব্লগিংয়ের দক্ষতাটা সব ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। ডিজিটাল মার্কেটারকে অবশ্যই ব্লগিং দক্ষতাটা থাকতেই হবে।

৩) নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসটি সম্পর্কিত কোন ধরনের কিওয়ার্ডগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, এবং সেই প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ডটি নিয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে কী ধরনের আলোচনা হয়, কেউ রিকমেন্ড কিংবা ম্যানশন করে কিনা, সেই বিষয়গুলো প্রতিদিন অ্যানালাইস করা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের অত্যন্ত জরুরি কাজ।

৪) কম্পিটিটরদের কমিউনিটিগুলো থেকে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লয়েন্সারদের পোস্ট এবং সেখানের কমেন্টগুলো থেকে অ্যানালাইস করে কনটেন্ট প্লান তৈরি করা , সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের অন্যতম দক্ষতা এবং প্রতিদিনের শিডিউল কাজ।

৫) সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারকে তার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কিত অন্যদের পোস্টগুলো নিয়মিত স্টাডি করতে হয়, সেগুলোকে ফিল্টারিং করে নিজের জন্যও কনটেন্ট তৈরি করতে হয়। তাই স্টাডির কাজটিও প্রতিদিনের জরুরি দায়িত্ব। শুধু নিজের মাথা থেকে পোস্ট করলেই হবে না।

৬) একই কমিউনিটির মেম্বারদের সঙ্গে সম্পর্ক মেইনটেইন করাটাও একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের কর্তব্য। এটার কারণে আপনার ব্রান্ডের ব্যাপারে ট্রাস্ট অর্জন হয় এবং অনেক জায়গাতেই আপনার ব্রান্ডকে রেফার করা হয়। এ সম্পর্ক মেইনটেইন হতে পারে, ফেসবুক ফ্রেন্ডশিপের মাধ্যমে, কমিউনিটির বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপগুলো অবশ্যই উপস্থিত হতে হবে, সম্ভব হলে নিজেই উদ্যোগী একই কমিউনিটি বিভিন্ন মানুষের নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে সবার সঙ্গে সম্পর্ক মেইনটেইন করা সম্ভব হবে।

৭) ব্রান্ড সম্পর্কিত নেগেটিভ ইস্যুগুলো কিংবা নেগেটিভ আওয়াজগুলো মনিটরিং করা এবং প্রফেশনাললি মোকাবেলা করা, যাতে ব্রান্ডের অবস্থান অটুট থাকে। এ কাজটিও সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব। একজন অভিজ্ঞ সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার খুব যোগ্যতার সঙ্গেই এ দায়িত্বটুকু পালন করতে পারেন।

৮) কম্পিটিটরদের কমিউনিটি অ্যানালাইস করে ডাটা কালেক্ট করা, বাজারের ডিমান্ডগুলো, সম্ভাব্য ক্রেতাদের মনোস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো সম্পর্কে একটা রিপোর্ট তৈরি করা, সেই অনুযায়ী নতুন নতুন স্ট্যাটেজি তৈরি করতে পারা একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের বড় যোগ্যতা। কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব পেলে এ কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে, এবং তা প্রতিদিনকার রুটিন।

ওপরে বর্ণিত ৮টি কাজ করার যোগ্যতা আপনার রয়েছে কিনা সেটি নিজেকে নিয়ে অ্যানালাইস করলেই পেয়ে যাবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হলে কিংবা কোনো চাকরি করতে আগ্রহী হলে ওপরের ৮টি কাজের দক্ষতাগুলো অর্জন করুন। ৮টি পয়েন্ট মনে রাখার সুবিধার্থে বিষয়গুলো ইনফোগ্রাফিক আকারে এখানে শেয়ার করছি।

ফেসবুক মার্কেটিংয়ের সঠিক পদ্ধতিগুলো জেনে নিন, ভুল মার্কেটিং ক্ষতি করছে আপনাকে

ফেসবুকে অনেককে মার্কেটিং করতে দেখি। দেখলেই বোঝা যায়, না বুঝেই মার্কেটিং করছে। বর্তমান যুগে অনেকের মধ্যেই এ ধারণা তৈরি হয়ে গেছে, ফেসবুকে পোস্ট দিলে, অফিসিয়াল পেজে লাইক বাড়লেই ফেসবুক মার্কেটিং হয়ে গেছে।

আবার ফেসবুক পেইড ক্যাম্পেইন যুগ এসে ৫ ডলার খরচ করে ৩০ হাজার মানুষের কাছে পোস্টটিকে পৌঁছাতে পেরেই অনেকে নিজেকে সফল মার্কেটার হিসেবে মনে করার শুরু করছে কেউ কেউ। হয়তো এটুকু করেই অনেকে সফলও হচ্ছে। তবে ২-১টা প্রজেক্ট সফল হওয়া মানেই আপনি মার্কেটার হয়ে গেছেন ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুললে অনেক বড় ভুল করবেন।

কিছু না জেনেই আপনি সফল হয়েছেন সেটার অনেক কারণ থাকতে পারে-

- প্রোডাক্টটির কম্পিটিটর অনেক দুর্বল

- অলরেডি ব্রান্ড পপুলার হওয়ার কারণেও হয়তো সফল হয়েছে। কিংবা আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে। আমাদের এসব কাজের আগে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিষয়ে বিস্তারিত শেখা দরকার ও জানা দরকার।

ফেসবুক মার্কেটিং করার আগে আমাদের জেনে নেয়া দরকার, কেন ফেসবুক পেজ তৈরি হয়, কেন পেজে নিয়মিত পোস্ট ফেলতে হয়, সেখান থেকে কীভাবে প্রোডাক্ট সেল হয় (SELL BUY CYCLE) বিষয়টি জানা দরকার।

ব্যবসার জন্য কেন ফেসবুক পেজ তৈরি করা হয়?

মূলত লিড তৈরির উদ্দেশ্যেই ফেসবুক পেজ তৈরি করা হয়। লিড মানে সেল না। লিড মানে সেলের আগের ধাপ। অর্থাৎ সম্ভাব্য ক্রেতা যারা আজ হোক কিংবা পরে হলেও প্রোডাক্টটি কিনবেন। যদি সম্ভাব্য ক্রেতাকে খুঁজে বের করতে চান, তাহলে সেটা জোর করে হবে না। বিভিন্ন মিডিয়া হতে খুঁজে বের করতে হবে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতাকে (লিড)।

সে জন্য যা করতে হবে?

- নিজের পেজটিতে মানুষের জন্য কাজে লাগবে এ রকম পোস্ট করে সেই পোস্টটির লিংক অন্যগ্রুপে শেয়ার করতে পারেন।

- মানুষের জন্য কাজে লাগে এ রকম বিভিন্ন আর্টিকেল লিখে সেটি ব্লগে এবং বিভিন্ন গেস্টব্লগিং সাইটে পোস্ট করুন। সেই পোস্টের নিচে ফেসবুক পেজের লিংকটি দিয়ে আসুন।

ওপরের এ পদ্ধতিতে যেসব মেম্বার পাবেন নিজের পেজের কিংবা গ্রুপের জন্য, এরাই হচ্ছে লিড। অর্থাৎ প্রোডাক্টের সম্ভাব্য ক্রেতা।

ফেসবুক পেজের লিড জোগাড় করার আরও কয়েকটি টিপস সংক্ষিপ্তভাবে দিচ্ছি-

১) রিলেটেড গ্রুপগুলোতে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন।

ক) কোনো সমস্যা নিয়ে পোস্টে সমাধান দেয়া। যেমন এখন আমি দিচ্ছি।

খ) সেই গ্রুপগুলোতে টিপস রিলেটেড কিংবা উপকারী বিভিন্ন পোস্ট করা।

এ কাজটি করলে সেই গ্রুপের অন্যদের কাছে আপনার একটা ভ্যালু তৈরি হয়, আর সে তখন লিডে পরিণত হয়।

২) নিজের ফেসবুক গ্রুপটাতে নিয়মিত বাণিজ্যিক পোস্টের চাইতে উপকার হয়, এ রকম পোস্ট করা। তাহলে সেই পোস্টগুলো শেয়ার হবে, সেটা দেখে অনেকেই যারা এ টাইপ উপকারী পোস্ট চাচ্ছে, তারা গ্রুপ বা পেইজে জয়েন করবে। এরাই লিড।

৩) ব্লগিং কিংবা গেস্ট ব্লগিংয়ে ফেসবুক পেজ কিংবা গ্রুপের লিংক থাকলে সেখান থেকে যারা আগ্রহী, অর্থাৎ এ গ্রুপ বা পেজে জয়েন করতে আগ্রহবোধ করবে, তারা জয়েন করবে, এরাই লিড।

৪) ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করলেন, সেই ভিডিওতে শেষে দিয়ে নিজের পেজের লিংক দিয়ে দিলেন, আগ্রহীরা পেজে জয়েন করবে, এগুলোই লিড।

৫) কোনো স্লাইড তৈরি করলেন, সেই স্লাইডে ফেসবুক পেজের লিংক দিলেন, যারা সেই পেজে যুক্ত হবে, তাদেরই এ পেজটি প্রয়োজন ছিল। সে জন্য কারও প্ররোচনা ছাড়াই স্বেচ্ছায় পেজে যুক্ত হয়েছে। এরাই লিড।

৬) ফ্রি ই-বুক তৈরি করে সেটি ফ্রি প্রচার করতে পারেন। সেই ই-বুকটিতে ফেসবুক পেজের লিংক শেয়ার করেন। আগ্রহী হলে অর্থাৎ যাদের প্রয়োজন রয়েছে, তারা আপনার পেজে লাইক দিয়ে যুক্ত হবে। এরাই লিড।

৭) কোনো প্রোগ্রামে স্পিকার হিসেবে গেলেন, বক্তৃতা শেষে নিজের ফেসবুক পেজের লিংক দিয়ে দিলেন, যারা সেটা শুনে সেই পেজে লাইক দেবে, তারাই লিড।

লেখক: মো. ইকরাম, পরিচালক, নেক্সাস আইটি।

ঘটনাপ্রবাহ : ফেসবুক থেকেই আয়-রোজগার

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×