ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সময় বাজার যাচাই করে নিন

  মো. ইকরাম ৩১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সময় বাজার যাচাই করে নিন। ছবি: যুগান্তর
ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সময় বাজার যাচাই করে নিন। ছবি: যুগান্তর

আমরা পুরানোদের দেখানো পথেই সব সময় হাটতে পছন্দ করি। নতুন কিছু সবার শেষে গ্রহণ করি। এটার খারাপ দিক হচ্ছে- যেকোন বাজারে সবার শেষে আমরা এন্ট্রি করি, তাই নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারি না।

একটা লাভজনক বাজারে সবাই মিলে ঢুকি এবং বাজারটাকে নষ্ট করে ফেলি। সেজন্য নতুন বাজারে নিজেদের অবস্থানটা আগেই তৈরি করতে পারি না। পুরাতন বাজারে ঢুকি, স্বাভাবিকভাবেই সেই বাজারে আগেই অবস্থানকারীদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হতেই হবে।

এ বিষয়ে কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। তাহলে নতুন বাজারে ঢুকার গুরুত্বটা নতুনদের ব্রেইনে গুরুত্ব সহকারে ঢুকবে।

১) পত্রিকাগুলো কাগজের পত্রিকা ছেড়ে অনলাইনে আসতে চাচ্ছিলো না। শেষে গত বছর হতে সকল ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলো অনলাইন ভার্সনে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে বাজারে নেমেছে। ততদিনে গুগলের কাছে লিস্টেড জনপ্রিয় আরও অনেক সাইটের নাম চলে এসেছে। পড়লো কঠিন প্রতিযোগীতাতে।

২) ট্রেডিশনাল মার্কেটিং ছেড়ে অনলাইনে প্রমোশন চালালে সেটা খরচ কম, প্রফিট বেশি। এ বিষয়টা সারা দুনিয়া অনেক আগেই বুঝলে ২০১১-১২ থেকে আমিসহ অনেকেই বিভিন্ন কনটেন্ট লিখে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকগুলোকে বুঝানো শুরু করি। শুরুতে কেউ গুরুত্ব না দিলেও এখন সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছে অনলাইন মার্কেটিংয়ে এবং সকল প্রতিষ্ঠানে অনলাইন মার্কেটার রাখার ধারনাটাও আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

৩) শুধু লোকাল চাকরিটাই স্মার্ট চাকরির ধারণা হতে পারেনা। অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংটাও হতে পারে নিরাপদ ক্যারিয়ার। এ ধারণা তৈরির জন্য ব্যাপক ব্লগিং, সেমিনার, সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরুতে তেমন কেউ পাত্তা না দিলেও এখন অনেক স্মার্ট স্যালারি চাকরিজীবিরাও এখন ফ্রিল্যান্সিং পেশাতে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে। সামনে আরও ভাল অবস্থানে যাবে এ পেশা।

৪) এক সময় শুধুমাত্র ওডেস্ককেই (বর্তমান নাম আপওয়ার্ক) মার্কেটপ্লেস হিসেবে মানতো। আমার মনে আছে, যখন শুরুর দিকে ফাইভারকে জনপ্রিয় করার জন্য অনেক সেমিনার করেছি, লিখালিখি করেছি, কেউ পাত্তাই দিচ্ছিল না। ভাবছে ৫ ডলারের কাজ করায়। তখন যারা কাজ শুরু করেছে, তারা অল্প প্রতিযোগীতাতেই একটা ভাল অবস্থান তৈরি করেছে। পরে এ বাজারটাতেই সবাই ঢুকে এমন কঠিন করে ফেলেছে, এখন আর নতুনরা সেখানে কাজ টিকে থাকাটাই অনেক কঠিন এবং অসাধ্য একটা বিষয়। এরপর আসলো টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন, ইউটিউবসহ আরও নানাবিধ ইনকাম মার্কেটপ্লেস। নতুন এ বাজারগুলো আমাদের কাছে জনপ্রিয় করা না গেলে এদেশে নতুন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার আগ্রহটাই হয়ত কমে যেত।

৫) ২০১৬ থেকে অনেক বেশি প্রচার শুরু করেছি, অনেক লিখালিখি শুরু করেছি, কোর্স করিয়েছি। বুঝাতে চেষ্টা করেছি, ফেসবুক মার্কেটিংটাই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার। কেউ তেমন পাত্তা দেয়নি। ট্রেডিশন্যাল নিয়মে এসইও কোর্স করার প্রতি আগ্রহ। এ বছর দেখছি, অনেক পরিবর্তন। ফেসবুক মার্কেটিং বিষয়ে অনেক কোর্স, ওয়ার্কশপ হচ্ছে। মানুষজন সেই সব জায়গাতে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন আরেকটা বিগ বাজার তৈরি হতে যাচ্ছে।

যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, ঐতিহ্যের পথে না হেটে বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জনপ্রিয় বাজারে ঢুকবেন, তাহলে আপনার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। ভবিষ্যতের সবচেয়ে ডিমান্ডেবল বাজার সম্পর্কে আইডিয়া। আমি এখানে নতুন মার্কেটপ্লেসগুলো বলবো না। যে স্কিলগুলো বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাজারে খুবই চাহিদাসম্পন্ন হবে, সেগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করছি।

গ্রাফিক ডিজাইন হলে- লোগো ডিজাইন, বিজনেস কার্ড ডিজাইন এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে, ইতিমধ্যে যারা বাজারে ঢুকেছে, তাদের জন্য বাজারটা ছেড়ে দিন, সেই বাজারে ঢুকে যুদ্ধ করে খুব বেশি লাভবান হবেন না। ইনফোগ্রাফিক ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ ডিজাইন নিয়ে কাজ করুন। বিশাল বাজার, সামনে আরও বিশাল বাজার হতে যাচ্ছে। আগেই নিজের অবস্থানটা তৈরি করে রাখুন।

অনলাইন মার্কেটার হলে- পুরো এসইও কোর্স করে এ যুগে কিছুই করতে পারবেন না। যেকোন একটা টপিকসের উপর স্পেশাল কোর্সগুলোতে জয়েন করুন। হট টপিকস বলে দিচ্ছিঃ লিংক বিল্ডিং, আর্টিকেল রাইটিং, কী-ওয়ার্ড রিসার্চ, ফেসবুক মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।

প্রোগ্রামিং সেকশনে- মোবাইল অ্যাপস ও গেমস ডেভেলপমেন্ট, আইওটি, ওয়েব সিকিউরিটি।

অন্যান্য- ব্লগিং, অ্যানিমিটেড কনটেন্ট ইত্যাদি।

এগুলো নতুন বাজার বলছি, কিন্তু এগুলো আদৌ নতুন বাজার নয়। ইতিমধ্যেই অনেক দামী বাজার। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কাছে এখনও এটি অপেক্ষাকৃত নতুন বাজার। এ বাজারগুলোতে ঢুকলে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিযোগীতাতে পড়তে হবে, এবং ইনকাম অনেক ভাল করবেন।

লেখক: মো. ইকরাম, পরিচালক, নেক্সাস আইটি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×