যে কারণে ফাইভজি সেবা ঝুঁকির মুখে পড়বে

  আইটি ডেস্ক ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে ফাইভজি সেবা ঝুঁকির মুখে পড়বে
যে কারণে ফাইভজি সেবা ঝুঁকির মুখে পড়বে

জিএসএমএ বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল অবস্থানে থেকে মনে করে, অধিক গতি সম্পন্ন ‘ফাইভজি-সার্ভিস’ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করাটা নির্ভর করছে মূলত পর্যাপ্ত পরিমান স্পেকট্রাম প্রাপ্তির উপর।

এক্ষেত্রে ‘ফাইভজি সার্ভিস’ উদ্বোধনী প্রতিযোগিতায় সফলভাবে এগিয়ে থাকার জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ। ফলে এর জন্য বাংলাদেশ সরকার, নীতিনির্ধারক এবং সকল মোবাইল কোম্পানির একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

ফাইভজি স্পেকট্রামে জিএসএমএর পাবলিক পলিসি পজিশন থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাপি বিভিন্ন দেশে ফাইভজি নেটওয়ার্কের নিলাম শুরু হয়েছে।

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের স্পেকট্রামের পরিমাণ, অবস্থান এবং মূল্যের উপর নির্ভর করে নেটওয়ার্কের গতি, প্রকৃতি এবং মানের দিক থেকে ভিন্নতা দেখা যাবে।

প্রথম সারির স্পেকট্রাম গ্রাহক দেশগুলো ফাইভজি নেটওয়ার্কের সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধা পাবে। যেমন- ফাইবার, মোবাইল ব্রডব্যান্ড স্পিড, স্বনিয়ন্ত্রিত গাড়ি এবং অত্যাধুনিক ফ্যাক্টরি স্মবলিত স্মার্ট শহর।

এছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। জিএসএমএর বিশেষজ্ঞ দল অনুমান করছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপি ১.৩ মিলিয়ন ৫জি সংযোগ চালু হবে।

এর মধ্যে ৭৫০ মিলিয়নই হবে এশিয়া মহাদেশে। কিন্তু এর সবটুকুই নির্ভর করছে অপারেটররা কতটুকু স্পেকট্রাম পাচ্ছে তার উপর।

জিএসএমএর স্পেকট্রা নির্বাহী ব্রেট টার্নুজার বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফাইভজি নেটওয়ার্কের অবিরাম এবং অবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে শিগগির অপারেটরদের আরও বেশি স্পেক্ট্রাম প্রয়োজন।

আমরা যখন ডব্লিউআরসি-১৯ (ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশান কনফারেন্স-১৯)-এর দিকে এগিয়ে চলছি তখন মূলত সরকারের সিদ্ধান্তের উপরই আমাদের ফাইভজি সার্ভিসের ভবিষ্যত নির্ভর করছে।

সরকারের সহায়তা ছাড়া পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল সেবা সহজভাবে এবং নিশ্চিন্তে সবার কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব না। কাজেই, ফাইভজি সার্ভিসের প্রতিষ্ঠার ফলে যে ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে তার পুরোটাই নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার উপর।

এক্ষত্রে প্রয়োজন সহজলভ্যতা নির্ধারণ এবং স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের উদ্দেশ্যে স্পেকট্রামের নিলামের বাজারে রাজস্ব না বাড়ানো।

ডব্লিউআরসি-১৯ এর প্রস্তুতি পর্বে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আসন্ন এপিটি কনফারেন্স প্রিপারেটরি গ্রুপ মিটিংয়ের মূলেই রয়েছে এশিয়া মহাদেশের জন্য যৌথ প্রস্তাবনা তৈরি এবং সকল পরিকল্পনার সমতা স্থাপন।

জিএসএমএ-এর মতে সরকার এবং নীতিনির্ধারকরা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে সেগুলো হলো-

১। সর্বোচ্চ গতি এবং অধিক ট্রাফিক নিশ্চিতে ৫জির সর্বাধিক ফ্রিকুয়েজি ব্যান্ড প্রয়োজন। প্রত্যেক অপারেটরকে প্রাইম ফাইভজি মিড ব্যান্ডের জন্য ৮০-১০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম এবং ভাইটাল মিলিমিটার ওয়েভব্যান্ডের জন্যে ১ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম প্রদানের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকরা সর্বাধিক গতি সম্পন্ন ৫জি সার্ভিস নিশ্চিত করতে পারবে।

২। সর্বাধিক কভারেজ নিশ্চিতে ফাইভজির প্রধান তিনটি স্পেকট্রাম ফ্রিকুয়েন্সি রেঞ্জের প্রয়োজন যা ব্যবহারিক বিষয়েও সহায়তা করবে। যেমন-

ক। সাব-১ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম শহরে, গ্রামে এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে হাই স্পিডে ফাইভজি মোবাইল ব্রডব্যান্ডের বিস্তার এবং ইন্টারনেট অফ থিংস সেবার প্রসার ঘটাবে।

খ। ১ থেকে ১৬ গিগাহার্টজ স্পেকট্রাম সর্বাধিক কভারেজ এবং ফাইভজি সেবা নিশ্চিত করবে।

গ। ৬ গিগাহার্টজের বেশি স্পেকট্রাম আল্ট্রা হাই স্পিড মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত করবে।

৩। ডব্লিউআরসি-১৯ মোবাইলের জন্য ২৬ গিগাহার্টজ, ৪০ গিগাহার্টজ এবং ৬৬-৭১ গিগাহার্টজ ব্র্যান্ড প্রাপ্তিতে সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। এ সকল ব্যান্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইভজি স্পেকট্রাম, সর্বাধিক গতিসম্পন্ন ফাইভজি নেটওয়ার্ক, স্বল্পমূল্যের ডিভাইস, ইন্টারন্যাশনাল রোমিং এবং ক্রস বর্ডার ইন্টারফেয়ারেন্স কমাতে যথাযথ ভূমিকা রাখবে।

৪। সরকার ও নীতি নির্ধারকদের ফাইভজি স্পেকট্রামের মূল্যস্ফীতি রধ করা উচিত। কারণ, অত্যধিক মূল্য যেমন নেটওয়ার্ক বিনিয়োগ কমাবে তেমনি সেবার মূল্যও বাড়াবে।

৫। নীতি নির্ধারকদের মূল মোবাইল স্পেকট্রাম ব্যান্ডের জন্য আলাদা আলাদা ‘ভার্টিকাল লাইন’ না করে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা বা লিজ নেয়া একটা ভালো উপায় হতে পারে। কারণ ‘ভার্টিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোরও আলাদা আলাদা স্পেকট্রাম প্রয়োজন হতে পারে।

টারনুজার আরও বলেন, ভোক্তাদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট সেবা নিশ্চিত করতে সরকার এবং নীতিনির্ধারকের ভূমিকা চমৎকার। আগের অভিজ্ঞতা বলে, ডব্লিউআরসি (ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশান কনফারেন্স) থেকে মোবাইল স্পেকট্রাম বরাদ্দ হওয়ার পরেও জাতীয় পর্যায়ে লাইসেন্স পেতে ১০ বছর লেগে যায়। সুতরাং, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডব্লিউআরসি-১৯-এর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া বিশেষ দরকার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×