মানুষকে বদলে দিতে গত এক বছরে ১০ প্রযুক্তি

  যুগান্তর ডেস্ক ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

মানুষকে বদলে দিতে গত এক বছরে ১০ প্রযুক্তি
ছবি: গালফ নিউজ

মানুষের জীবনকে সাবলীল করে তুলতেই প্রযুক্তির আবিষ্কার। নতুন বছর এলে নতুন প্রযুক্তিরও দেখা মেলে। আর কয়েক দিন পরেই নতুন একটি বছরে পা রাখছি আমরা। তবে গত একটি বছরে মানুষ বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। পাঠকের কাছে যা না তুলে ধরলেই নয়।

১. ড্রোনে করে টিকা বিতরণ

চলতি ডিসেম্বরে ভ্যানুটুতে এক মাস বয়সী একটি শিশুকে বাণিজ্যিক ড্রোন ব্যবহার করে নিয়ে আসা টিকা দেয়া হয়েছে। বিশ্বে এই প্রথম ড্রোন সরবরাহকৃত টিকা দেয়ার ঘটনা ঘটল। এতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, এতে বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে মানুষের জীবন বাঁচানো সহজ করে দিয়েছে।

২. বলপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে উপগ্রহ

কোটি কোটি ডলারের মৎস্যশিল্পে বলপ্রয়োগে শ্রমিকদের ব্যবহার প্রতিরোধে উপগ্রহের সহায়তা নিয়েছে থাইল্যান্ড। শ্রমিকদের জোর করে কাজে লাগালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মৎস্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার হুমকি দিলে দেশটি এমন প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্রয় নেয়। উপগ্রহের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ সমুদ্রে দীর্ঘসময় অবস্থান করা জাহাজের সঠিক স্থান নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়। জাহাজ দীর্ঘসময় সাগরে অবস্থান করা বলতে সেখানে শ্রমিকদের বলপূর্বক কাজে লাগানোর ইঙ্গিত বহন করে।

৩. শস্য খাদক পতঙ্গ শনাক্ত করতে অ্যাপ

শস্যের ক্ষতিকর পতঙ্গ ও রোগ শনাক্ত করতে একটি অ্যাপ ব্যবহার শুরু হয়েছে। ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাধান খুঁজতে আফ্রিকাজুড়ে আয়োজিত প্রথম হ্যাকাথনে এ অ্যাপটি বিজয়ী হয়। অ্যাপটি ফসলে পতঙ্গে আক্রমণের আগাম সতর্কতা দিতে পারে। বিশেষ করে ঝাঁক বেঁধে ফসলে হানা দেয়া সর্বগ্রাসী পতঙ্গ সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারে অ্যাপটি। সাব-সাহারান অঞ্চলগুলো ও ভারতে এই ফসলবিনাসী পতঙ্গ কৃষকদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।

৪. যৌন হয়রানির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানচিত্রের অ্যাপ

ভারতে জনপরিসরে নারীদের নিরাপদ থাকতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে সাহায্য চাইতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে নতুন একটি অ্যাপ। সেফসিটির মতো অ্যাপ ব্যবহার করে হয়রানিপ্রবণ অঞ্চল শনাক্ত করতে নারীরা পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন। এতে সেসব অঞ্চলে পুলিশি টহল বাড়ানো সহজ হয়।

৫. জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মশাভর্তি ড্রোন

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের একটি অংশে জিকা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ড্রোন থেকে লাখ লাখ জীবাণুমুক্ত বন্ধ্যা মশা স্প্রে করে দেয়া হয়। জিকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ পদ্ধতি খুবই উপকারী হিসেবে কাজ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে-মুক্ত, বন্ধ্যা, পরীক্ষাগারে উৎপাদিত পুরুষ এডিস এইজিপটি মশা, যার কামড়ে মানুষ জিকা, ডেঙ্গু ও জ্বর আক্রান্ত হয়; কিন্তু নতুন করে কোনো ডিম ছাড়তে পারে না।

৬. ভারতীয় বস্তির মানচিত্রের উপগ্রহ

বস্তিবাসীর ভূমির অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবার গতি বাড়াতে ড্রোন এবং উপগ্রহ ব্যবহার করছে ভারতীয় রাজ্যগুলো। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ শহুরে লোক বস্তিতে বাস করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অধিবাসীদের জীবনের মান উন্নয়ন ও ভূমির ভোগদখল নিশ্চিত করতে বস্তিবাসীদের পর্যবেক্ষণ ও শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

৭. প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করার যন্ত্র

প্লাস্টিকের আবর্জনাকে ডিজেল ও পেট্রলে রূপান্তরিত করতে নতুন এক যন্ত্র আবিষ্কার করা হয়েছে। এতে একদিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিচ্ছিন্ন জনপদে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ যন্ত্রের নকশা তৈরি করেছেন ফরাসি অভিনেতা স্যামুয়েল লি বিহান। তিনি বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ করতে উৎসাহ বাড়াতেই এমন উদ্যোগের কথা ভাবা হয়েছে। যাতে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে ফেলে না দিয়ে যন্ত্রে ঢুকিয়ে জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

৮. কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি রোধে ভার্চুয়াল বাস্তবতা

মার্কিন প্রশিক্ষণ ফার্ম ভ্যানটিজ পয়েন্ট একটি নতুন ভার্চুয়াল বাস্তবতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। এতে কর্মক্ষেত্রে যখন কেউ অসঙ্গত কিংবা হয়রানিমূলক আচরণের মুখোমুখি হন, তখন কীভাবে এমন ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাবে, তার প্রশিক্ষণ দিতেই এ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

৯. পাচারকারীদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষায় আবদ্ধশেকল

মানবপাচার রোধে বিশ্বের প্রথম আবদ্ধশেকলের পরীক্ষামূলক ব্যবহার করেছে মালডোভা। গত মার্চে আবদ্ধশেকল ব্যবস্থার নকশা করে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার কোম্পানি কনসেনসিস। এই ব্লকচেইন বা আবদ্ধশেকল ব্যবস্থায় সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় শিশুদের চোখের স্ক্যান ও হাতের ছাপ নেয়া এবং তাদের বৈধ অভিভাবকের অনুমতি চাওয়া হয়। অনুমতি ছাড়া কোনো শিশুকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তা ডেটাবেসে স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত করে রাখা হয়।

১০. নকল বীজ শনাক্তে মোবাইল ফোন

কেনিয়ায় নিম্নমানের ও জাল বীজ শনাক্ত করতে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি সহায়তা করছে। ফসল ঘরে তোলার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাঁচাতে এ প্রযুক্তি উপকারী হিসেবেই দেখা দিচ্ছে। এতে বীজের ব্যাগের ভেতরে স্টিকার রাখা হয়, যেটিতে একটি কোড নম্বর থাকে। এতে কৃষক দ্রুতই মোবাইলে ওই কোডটি পাঠিয়ে বীজ নকল কিংবা ভালো কিনা তা জানতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×