গ্রামীণফোনের আয় বেড়েছে চাকরিজীবীর সংখ্যা কমেছে

  সুব্রত দাশ খোকন ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

গ্রামীণফোনের আয় বেড়েছে চাকরিজীবীর সংখ্যা কমেছে। ছবি: যুগান্তর
গ্রামীণফোনের আয় বেড়েছে চাকরিজীবীর সংখ্যা কমেছে। ছবি: যুগান্তর

বাংলাদেশ শ্রম আইন কি মেনে চলছে গ্রামীণফোন? উত্তরটি হচ্ছে গ্রামীণফোন শ্রম আইনের তোয়াক্কা করে বলে প্রতীয়মান হয় না। উদাহরণ হিসাবে আমরা বলতে পারি, আইনানুসারে গ্রামীণফোনে ট্রেড ইউনিয়ন থাকার কথা, ট্রেড ইউনিয়ন না থাকলে আইনানুসারে পার্টিসিপেশন কমিটি থাকার কথা। কিন্তু সত্যি হচ্ছে এর কিছুই নেই। ট্রেড ইউনিয়ন বিভিন্ন তালবাহানা করে রেজিস্ট্রেশন আটকে দেওয়া হয়েছে। দুটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করলেও তা বিচারাধীন আছে। পার্টিসিপেশন কমিটি গঠন করা হয় নাই।

গত বৃহস্পতিবার ৮ জন নারী সহকর্মীকে ঢাকার বাইরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। কেন এই বদলি? বদলি করা হয়েছে যাতে করে এসব নিরীহ নারী কর্মীরা চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যান। কারণ এসব নারীরা পরিবার পরিজন ছেড়ে ঢাকার বাইরে গিয়ে চাকরি করতে পারবে না এই বিষয়ে কোম্পানি অবগত আছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন প্রচুর কাজ ঢাকাতেই আছে যেখানে চুক্তিভিত্তিক কিংবা শিক্ষানবিশ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনানুসারে গ্রামীণফোন শ্রমিকদের মুনাফা বণ্টন তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) মুনফার ৫% চাকরিজীবীদের প্রদান করতে বাধ্য। কিন্তু গ্রামীণফোন বেআইনিভাবে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের ডব্লিউপিপিএফ চাকরিজীবীদের প্রদান করেনি।

২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের ডব্লিউপিপিএফ প্রদান করতে বাধ্য হয় চাকরিজীবীদের আন্দোলনের মুখে। কিন্তু আইনানুসারে সেই টাকার উপর প্রাপ্য ইন্টারেস্ট থেকে চাকরিজীবীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে কয়েকশত চুক্তি ভিত্তিক চাকরিজীবীকে আইন না মেনেই বিদায় করে দেয় কোম্পানি।

আপনারা জানেন আইনানুসারে ৬ মাসের বেশি কোন ব্যক্তিকে চাকরিরত রাখলে সেই ব্যক্তিকে স্থায়ীকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক শ্রম আইন অনুযায়ী। কিন্তু গ্রামীণফোন বছরের পর বছর কয়েকশত চাকরিজীবীকে চুক্তিভিত্তিক কাজে বহাল রেখে ২০০৯ সালে বিদায় করে দেয়।

২০১২ সালে কয়েকশত স্থায়ী কর্মীকে বিদায় করে দেয়। রাত ১২ টায় সেই কমিউনিকেশন ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করে। ২০১৫ সালে বেশকিছু চাকরিজীবীকে অন্যায়ভাবে বিদায় করে দেয়। ২০১৮ সালে কলসেন্টারের চাকরিজীবীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদায় করে দেয়।

২০১৮ সালে সিডিসি প্রজেক্ট ঘোষণা করে। এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে পারলে ছয় শতাধিক চাকরিজীবীকে বিদায় করে দিতে পারবে। চাকরিজীবীদেরকে একটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই যে এতকিছু হচ্ছে গ্রামীণফোনে তা হচ্ছে তার একমাত্র কারণ হচ্ছে কর্পোরেট সুশাসন অনুপস্থিত তাই।

গ্রামীণফোন এখন প্রায় সাড়ে সাত কোটি কাস্টমারকে সার্ভিস দেয়। দেশব্যাপী ব্যবসা চালাতে প্রচুর স্থায়ী কর্মী দরকার অথচ মাত্র ২ হাজার ২০০ স্থায়ী কর্মী দিয়েই কাজ করিয়ে নিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে কাজ হচ্ছে? কাজ হচ্ছে কারণ স্থায়ী কাজগুলো কোম্পানি করাচ্ছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে। যদিও স্থায়ী প্রকৃতির কাজ অস্থায়ী কর্মী দিয়ে করানো আইনসম্মত নয়।

আউটসোর্সিং নিয়েও প্রশ্ন আছে। গ্রামীণফোন শিক্ষানবিশ হিসেবে প্রচুর পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা তরুণ-তরুণীকে নিয়োগ দিয়ে স্থায়ী প্রকৃতির কাজ করাচ্ছে যা আইনের উদ্দেশ্যের বিপরীতধর্মী। ৩ বছরব্যাপী এসব শিক্ষানবিশদের কাজ করিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে যা কোনভাবেই নৈতিক চর্চা বলে গণ্য হতে পারেনা।

আমরা ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে চাকরির নিশ্চয়তা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ৬০০ চাকরিজীবীর চাকরিচ্যুত করার প্রজেক্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কোম্পানির ভিতরে বাহিরে প্রতিবাদ শুরু করি। সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিটি ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে আমরা অবহিত করি এই বেআইনি এবং অনৈতিক প্রজেক্ট সম্পর্কে।

প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন ৯ ডিসেম্বর। যেখানে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন অফিসাররা, গ্রামীণফোনের ম্যানেজমেন্টের লোকজন এবং আমরা উপস্থিত ছিলাম।

দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা খোলামেলা আলোচনার পরে শ্রম মহাপরিচালকের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন যে, দুপক্ষ কোম্পানির ভিতরে আলোচনা করে যেন শান্তিপূর্ণ কর্মপরিবেশ বজায় রাখেন। শ্রম মহাপরিচালক আরও নির্দেশ প্রদান করেছিলেন যে, কোম্পানি যেকোনো প্রযুক্তি আনতে পারে এবং প্রযুক্তি পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু যাই করুক না কেন তা স্থায়ীকর্মীদের চাকরিতে বহাল রেখেই করতে হবে।

আমরা শ্রম মহাপরিচালক মহোদয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকায় আশান্বিত হয়ে অপেক্ষা করেছিলাম যে, কোম্পানি নিশ্চয়ই সেইমতো উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি। উল্টো আমরা শুনতে পাচ্ছি সিডিসি তথা টেকনোলজি ডিভিশনের ৬০০ মানুষের চাকরিচ্যুত করবার সকল আয়োজনই জোরেশোরে চলছে।

বাংলাদেশের একদল মেধাবী তরুণ-তরুণী যে গ্রামীণফোনকে আজকে বাংলাদেশ সর্ববৃহৎ এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে তারাই আজ চাকরি করতে পারবে কি-না সেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এই দুরবস্থা এবং অনিশ্চয়তা থেকে একমাত্র রক্ষা করতে পারেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

কারণ আপনারা জানেন গ্রামীণফোনের অনেক ক্ষমতা এবং অর্থ। গ্রামীণফোন অনেককিছুকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পারবে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এবং বর্তমান মাননীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে গ্রামীণফোনে প্রভাবিত করতে পারবে না। এই ভরসা আমাদের চিরন্তন।

আপনারা জানেন গ্রামীণফোন প্রতিবছর মুনাফায় রেকর্ড করে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে মুনাফা অর্জন করেছে ৩ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এখানে চাকরিজীবীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০ মাত্র। ২০১৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে গ্রামীণফোন রাজস্ব এবং নীট মুনাফা প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। কোম্পানির প্রদত্ত টার্গেট অর্জনে প্রতিটি কর্মী রাতদিন পরিশ্রম করে এই ব্যবসায়িক জয় জয়কার অবস্থা বজায় রেখেছে।

কিন্তু ২০১৩ সালে গ্রামীনফোনে স্থায়ীকর্মীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬০০ জন। ২০১৯ সালে এসে স্থায়ীকর্মীর সংখ্যা ২ হাজার ২০০ জন। গ্রামীণফোন শুধু স্থায়ীকর্মীর সংখ্যা কমিয়েছে তাই নয়। ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য সুবিধা কমিয়েছে। ৫০০ এর মতো মানুষ বছরের পর বছর পজিটিভ আউটলেয়ারের নামে ১-২ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পেয়েছে।

বাকীদের খুবই কম ইনক্রিমেন্ট হয়েছে। ২০১৭ সালের ইনক্রিমেন্ট ছিল গ্রামীণফোনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এই সর্বনিম্ন ইনক্রিমেন্ট চাকরিজীবীদের সংক্ষুব্ধ করলে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের ফলে কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট একটি নাটকীয় আলোচনার প্রস্তাব দেয় এবং কয়েকমাস আলোচনার পরে মাত্র আধা শতাংশ (.৫%) ইনক্রিমেন্ট প্রদান করে যা চাকরিজীবীদের আন্দোলনের বিপরীতে একটি তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।

উপরে প্রদত্ত তথ্য থেকে এইটি পরিষ্কার গ্রামীণফোনের আয় এবং মুনাফা প্রতিবছর বেড়েছে কিন্তু চাকরিজীবীদের সংখ্যা কমেছে এবং একইসঙ্গে ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য সুবিধাও কমেছে। এই যে বিপরীত যাত্রা তার কারণ হচ্ছে সুশাসন ও নৈতিক চর্চার অভাব। শুধুমাত্র মুনাফাধর্মী হবার ফলেই গ্রামীণফোনের ভিতরে চাকরিজীবীদের মধ্যে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা বিরাজমান। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার।

গ্রামীণফোনকে একটি দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আচরণ করতে হবে। সরকার এবং গ্রামীণফোনের শেয়ার হোল্ডারদের নিকট আমাদের প্রত্যাশা এই যাদের শ্রমে মেধায় গ্রামীণফোন আজকে সবচেয়ে বড় কর্পোরেট সেই চাকরিজীবীদের অধিকার বঞ্চিত করে টেকসই প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

বরং একটি লাভজনক এবং বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোনের উচিত হবে এখনই উদ্যোগ নেওয়া। সকল অনিশ্চয়তা দূর করা। চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিন্ত করা। সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে আমরা আমাদের দাবীগুলি আবার উপস্থাপন করতে চাই-

১. সিডিসি বাতিল করতে হবে। সিডিসি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে ছয় শতাধিক মানুষ যারা বেশিরভাগ প্রকৌশলী তাদের চাকরিচ্যুতি ঘটবে।

২. ইনক্রিমেন্ট যৌক্তিক হারে দিতে হবে। ইনক্রিমেন্ট নিয়ে একটি নীতি থাকা উচিত।

৩. ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে অথবা পার্টিসিপেশন কমিটি দিতে হবে।

৪. ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সালের ডব্লিউপিপিএফ দিতে হবে ইন্টারেস্টসহ। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ডব্লিউপিপিএফ-এর উপরে প্রাপ্য ইন্টারেস্ট দিতে হবে।

৫. আউটসোর্সিং বন্ধ করে স্থায়ীকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।

৬. কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে আইনানুসারে।

৭. বদলি নীতিমালা থাকা উচিত। যাকে যখন ইচ্ছা বদলি করে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার অনৈতিক প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, গ্রামীণফোনের চাকরিজীবীদের চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করতে সরকার প্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই। আমাদের চাওয়া খুবই সামান্য। আমরা চাই আমাদের চাকরিটা করে সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে।

বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরে দেড় কোটি শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে যখন সরকার কাজ করছে তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তার মেধাবী চাকরিজীবীদের বিভিন্ন অবৈধ, অনৈতিক এবং অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্ট নামিয়ে চাকরিচ্যুত করবার চেষ্টা করে চলছে। আমরা জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন গ্রামীনফোন এই অবস্থার অবসান চাই।

[শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন গ্রামীণফোনের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আহমদ মঞ্জুরুদ্দৌলা। সঞ্চালনা করেন মীর ইফতিয়ার হোসেন ইফতি, সাংগঠনিক সম্পাদক। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ সোহাগ, বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, ফারিয়ার, কেন্দ্রীয় সভাপতি সফিক রহমান। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ খোকন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সেটাই এখানে প্রকাশ হলো।]

লেখক: সুব্রত দাশ খোকন, সাধারণ সম্পাদক, জেনারেল এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন গ্রামীনফোন (জিইইউজিপি)।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×