লাইভ, স্লো-মো, হাইপারল্যাপসের ফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫০

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আইটি ডেস্ক

স্যামসাংয়ের নতুন স্মার্টফোন গ্যালাক্সি এ৫০। ছবি: যুগান্তর

নতুনত্বের এই যুগে গ্যালাক্সি এ সিরিজ নতুনভাবে ক্রেতাদের জন্য নিয়ে এলো স্যামসাং। স্বল্প বাজাটে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের স্মার্টফোন কেনার কথা যারা ভাবছেন তাদের প্রথম পছন্দ হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে গ্যালাক্সি এ সিরিজের এ৫০। 

কেনো এত আগ্রহ, কেনো এত সাড়া, কি আছে ফোনটিতে সেটিই দেখে নেয়া যাক। 

গ্যালাক্সি এ৫০-তে আছে ৪ জিবি র‌্যাম ও ৬৪ জিবি রম, যার ফলে মাল্টিটাস্কিং হয় কোনো ধরনের বাঁধা ছাড়াই। দেশের বাজারে ডিভাইসটির খুচরা মূল্য মাত্র ২৬ হাজার ৯৯০ টাকা। 

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লাইভে আসা, স্লো-মো ও হাইপারল্যাপস ভিডিও ক্যাপচারের বিষয়গুলো এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দিকগুলো বিবেচনা করেই ডিভাইসটিতে চমৎকার ক্যামেরা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। 

ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফিচার হচ্ছে এর এফ২.২ অ্যাপারচারের ৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। গ্রুপে ছবি তুলতে গেলে কিংবা ল্যান্ডস্ক্যাপ ভিডিও ক্যাপচার করতে গেলে প্রশ্বস্ত জায়গা নেয়ার ক্ষেত্রেই ঝামেলা বাঁধে। 

তখন কোনো না কোন অংশ বাদ পড়ে যায়। এ সমস্যা অনায়াসে দূর করে দেয় ডিভাইসটির ১২৩ ডিগ্রির আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। এছাড়া এফ১.৭ অ্যাপারচারের ২৫ মেগাপিক্সেলের মূল লেন্স ছবিকে করে আরো বেশি প্রাণবন্ত। 

রাজধানীর হাতিরঝিলে চলার পথে ফোনটির ক্যামেরা দক্ষতার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া এফ২.২ অ্যাপারচারের ৫ মেগাপিক্সেলের লাইভ ফোকাস দিয়ে পোর্ট্রেট ছবি তোলা যায় দুর্দান্ত। অন্যদিকে সেলফিপ্রেমিদের জন্য ফোনটি আরও চমৎকার। 

ফ্রন্টে দেয়া হয়েছে এ২.০ অ্যাপারচারের ২৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডিসপ্লের দিক দিয়ে বরাবরের মতো স্যামসাং অন্য সবার থেকে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করে, আর এখানেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। 

ফোনটির ৬.৪ ইঞ্চির ফুলএইচডি+ ইনফিনিটি-ইউ ডিসপ্লে সত্যিই মনো-মুগদ্ধকর। ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা নেটফ্লিক্সে হাই ডেফিনেশন ভিডিও দেখতে ব্যবহারকারীরা পাবেন দুর্দান্ত ডিসপ্লের অভিজ্ঞতা। 

ডিসপ্লের পিক্সেল এতটাই নিখুঁত যে প্রতিটি কন্টেন্ট দেখা যায় অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে। সাশ্রয়ী দামে স্যামসাং ব্যবহারকারীদের জন্য ফোনটিতে দিয়েছে এক্সিনস ৯৬১০ অক্টা-কোর প্রসেসর। 

এছাড়া র‌্যাম ও রমের ক্ষেত্রে ফোনটিতে রয়েছে যথাক্রমে ৪জিবি র‌্যাম ও ৬৪জিবি রম। ফলে মাল্টিটাস্কিং হবে অনায়াসে। ফোনটিতে একই সময়ে জনপ্রিয় সব অ্যাপ ব্যবহার ও গেম খেলা যায় কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই। 

এর প্রসেসিং ইউনিট খুব দ্রুত ও দক্ষতার সাথে কর্ম সম্পাদনে সক্ষম। ফোনটিতে প্রসেসর, র‌্যাম ও রমের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে চমৎকারভাবে।  

এই ফোনে স্যামসাং ব্যবহার করেছে অ্যান্ড্রয়েড পাই ৯.০ ভিত্তিক ভিন্নধর্মী ও দ্রুত গতির স্যামসাং ওয়ান ইউআই। 

স্যামসাং ওয়ান ইউআই-এর বিশেষ দিক হচ্ছে এটি অত্যন্ত হালকা ঘরাণার, ফলে ফোনের ব্যাটারি খরচ হয় অনেক কম। বলা বাহুল যে, ইন্টারফেসটি সাজানো হয়েছে ট্রেন্ডি ফ্যাশনের বিষয়টিকে মাথায় রেখে। 

ফোনটিতে দেয়া হয়েছে চার হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, ১৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিংসহ ইউএসবি-সি এবং এতে সফটওয়্যারের সমন্বয় এমনভাবে করা হয়েছে যাতে পুরোদমে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারী পাবেন বাধাহীন অভিজ্ঞতা।