ভিওআইপি ব্যবসায়ী ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

ভিওআইপি ব্যবসায়ী ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল
ভিওআইপি ব্যবসায়ী ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

অবৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান বন্ধের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) লাইসেন্স দেয়া হয়। কিন্তু লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও তা নবায়ন না করায় ১২৪টি ভিএসপি লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

মঙ্গলবার বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের পরিচালক এম এ তালেব হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিটিআরসি থেকে ইস্যু করা ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় বাতিল করা হলো।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৬টি প্রতিষ্ঠান সরকারের বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও যথাসময়ে নবায়নের আবেদন করেনি এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে আবেদন করেনি বিধায় উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিএসপি লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনুকূলে ইস্যু করা ভিএসপি লাইসেন্সের কোনও বৈধতা নেই বিধায় ভিএসপি সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। লাইসেন্সগুলোর অধীনে কার্যক্রম অবৈধ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

২০১৩ সালের মার্চে ৮৪০টি ও একই বছরের আগস্টে আরও ৪১টিসহ মোট ৮৮১টি প্রতিষ্ঠানকে ভিএসপি লাইসেন্স দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী গত বছর ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। গত বছরেই তা নবায়নের জন্য আবেদন করতে নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এতে সাড়া দিয়ে নির্ধারিত সময়ে আবেদন করে ৫৯৮টি প্রতিষ্ঠান। আবেদন করেনি ২৮২টি ভিএসপি প্রতিষ্ঠান।

২০১৭ সালের নভেম্বরে দেয়া এক নির্দেশনায় ভিএসপিগুলোকে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করতে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। এতে সাড়া না পাওয়ায় আবেদনের সময় আরও সাতদিন বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এ সময় শেষে আর কোনো আবেদন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আবেদন করে ৫৯৮টি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের পরেও কিছু প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ১২৪টি প্রতিষ্ঠান নিষ্ক্রিয় থাকায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করে বিটিআরসি।

বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভিএসপি লাইসেন্সের এককালীন ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে আড়াই লাখ টাকা করে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এর সঙ্গে রয়েছে ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর। এছাড়া বার্ষিক লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য দেয়া এ লাইসেন্স পরবর্তীতে দুই বছর পর পর নবায়ন করা যাবে।

লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুযায়ী আয়ের ১০ শতাংশ সরকারকে দেয়ার কথা ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর। কিন্তু ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি মওকুফের পাশাপাশি আয় ভাগাভাগির অংশ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করে এসব প্রতিষ্ঠান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম বছরের লাইসেন্স ফি মওকুফ ও দ্বিতীয় বছরের লাইসেন্স ফি কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য একাধিকবার চিঠিও দেয় কমিশন। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ভিএসপির দ্বিতীয় বছরের লাইসেন্স ফি ৫০ হাজার ও আয় ভাগাভাগি ১০ শতাংশ হারে আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এর আগে ২০১২ সালের জুলাইয়ে ভিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিটিআরসি। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ আবেদন গ্রহণ করা হয়। লাইসেন্স নিতে মোট ১ হাজার ৫০৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে এক হাজার চারটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য অনুমোদন দেয় কমিশন। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে ৮৮১টি প্রতিষ্ঠান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×