টেকসই টেলিকম টাওয়ার নির্মাণের পথ প্রশস্ত করছে ইডটকো

  আইটি ডেস্ক ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

ইডটকো গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পরিচালক আইআর কুমারী নালিনি
ইডটকো গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পরিচালক আইআর কুমারী নালিনি

নেত্বস্থানীয় সমন্বিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো ২০১৭ সাল থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনছে। ২০১৭ সালে কোম্পানিটি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ৪৪ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসে এবং ২০১৮ সালে এই মাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ৪৮ শতাংশে।

পৃথিবীব্যাপী দেশগুলো ডিজিটাল এজেন্ডা মেটাতে তাদের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করছে। এর ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ স্থাপনের চাহিদা এবং পরিবেশবান্ধব শেয়ারযোগ্য টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর চাহিদা।

ইডটকো গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের পরিচালক আইআর কুমারী নালিনি বলেন, ইডটকোয় স্থায়িত্ব একটি মূল নীতি যা আমাদের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে পথ দেখায়। প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তির টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা এই চাহিদা পূরণ করতে চাই এবং আমরা একই সঙ্গে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই, যেন এই টাওয়ারগুলো আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি যথেষ্ট পরিবেশবান্ধব হয়।

টাওয়ার অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ইডটকো অনেকগুলো টেকসই ডিজাইন সম্বলিত টাওয়ার স্থাপন করেছে এবং এসকল টাওয়ার সচল রাখার জন্য ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার। এছাড়াও সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে কোম্পানিটি চার স্তম্ভ বিশিষ্ট টাওয়ার তৈরি করা থেকে সরে এসে তিন স্তম্ভের টাওয়ার স্থাপন করছে। এর ফলে ৩০ শতাংশ কম ষ্টীল ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সাইটপ্রতি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমছে ২৫ শতাংশ।

এর বাইরে সরু এবং নতুন উদ্ভাবনী নকশা প্রদানের মাধ্যমে টাওয়ারের আকার ছোট করে নিয়ে আসায় সাইটপ্রতি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমেছে প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। নতুন এই ডিজাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাসথেতিক মনোপোল, ল্যাম্প পোল টাওয়ার, ইন বিল্ডিং সল্যুশনস, স্ট্রিট ফার্নিচার্স এবং আরও অনেক কিছু।

কুমারী নালিনি আরও বলেন, সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে আমরা আমাদের টাওয়ার নির্মাণ করার জন্য অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করছি। উদাহরণস্বরূপ, অবকাঠামো তৈরিতে আমরা তুলনামূলক হালকা কার্বন ফাইবার ব্যবহার করছি, যা সাইটপ্রতি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়াও আমরা বাংলাদেশে বাঁশ দিয়ে টাওয়ার নির্মাণ করেছি। এক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ কমেছে ৭০ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত ইডটকো ১৫টি বাঁশের টাওয়ার এবং ৯টি কার্বন ফাইবার টাওয়ার নির্মাণ করেছে। এছাড়াও, অন্যান্য বাজার যেমন, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, কম্বোডিয়াতে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত বাঁশ দিয়ে টাওয়ার নির্মাণ করা যায় কিনা সে সংক্রান্ত বিষয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাঁশ দিয়ে নির্মাণকৃত এসকল টাওয়ার ষ্টীলের তৈরি অবকাঠামোর তুলনায় ৮০ শতাংশ হালকা এবং এটি সহজেই বিল্ডিং এ স্থাপন করা যায়।

এছাড়াও টাওয়ার সচল রাখার জন্য কোম্পানিটি বৈদ্যুতিক গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ এবং ডিজেল জেনারেটর ব্যবহারের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করছে। এর ফলে সাইটপ্রতি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা ১০০ শতাংশ কমে যায়। এখন পর্যন্ত ইডটকোর ১০০০টি সাইট নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের কিছু দুর্গম এলাকার সাইটগুলো সচল রাখতে ডিজেল জেনারেটরের পরিবর্তে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় এবং জেনারেটর ব্যবহার না করায় এসকল সাইট প্রতি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমেছে ৪১ শতাংশ।

গ্রিন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠায় প্রতিস্রুতিবদ্ধ ইডটকো ২০১৯ সালে স্থাপনকৃত সমস্ত সাইটগুলোকে কার্বন নিরপেক্ষ সাইট হিসেবে তৈরি করতে চায়। এছাড়াও সংস্থাটি বিদ্যমান প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি তাদের পরিচালনাক্ষেত্রের সমাজ এবং পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×