‘লুনা শামসুদ্দোহা বিরাট ষড়যন্ত্র করতে বসেছেন’

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১৩:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

লুনা শামসুদ্দোহা

বেসিসের ভোটারদের জন্য কিছু কথা বলছি লুনা শামসুদ্দোহা এবং বেসিস নিয়ে! আমার মনে হচ্ছে উনি এক বিরাট ষড়যন্ত্র করতে বসেছেন বেসিস এবং বেসিস মেম্বারদের স্বার্থ ধ্বংস করতে। 

অবশ্যই আমি এই কথাটাই বলবো। কারণ বেসিসের সদস্যরা ব্যাংক থেকে লোন নিতে যাবেন ব্যবসার স্বার্থে, আর উনি একটি সরকারি ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক চেয়ারম্যান। 

তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে? কার স্বার্থ উনি দেখবেন আগে? নিজের, ব্যাংকের, নাকি বেসিসের সদস্যদের। ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়ে উনাকে ব্যাংকের মুনাফার দিক দেখতে হবে, তাতে ব্যাংকের স্বার্থ। 

বেসিসের প্রেসিডেন্ট হলে বেসিস সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লবিং করতে হবে, সেটা বেসিস সদস্যদের স্বার্থ। 

আর যেখানেই থাকুন নিজের ক্যারিয়াররে সিঁড়ি ঠিক রাখতেই হবে, একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থ। 

পুরো ব্যাপারটাতেই কিন্ত একটা conflict of interest থাকছে। দোহাটেকের কর্ণধার হয়ে উনি বেসিসে আসলে আমরা অবশ্যই উনার আসাটাকে বেসিসের স্বার্থ হিসেবে দেখতাম। 

কিন্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে থেকে বেসিস প্রেসিডেন্ট (!) ব্যাপারটা আসলেই উনার এবং যারা উনাকে আনতে চাইছেন, তাদের সবারই দুরভিসন্ধিপূর্ণ এক চিন্তারই প্রতিফলন। 

আরেকটা কথা বিডব্লিউআইটিতে উনি আট বছর ধরে একই পদে; তাহলে কি ধরে নেবো, আপনি অন্য কোন মহিলাকে বা কাউকেই উত্তরসূরি করতে চান না? নাকি কাউকেই সামনে আসতে দিতে চান না? 

ব্যাপারটা আসলেই ভীষণ রকম গোলমেলে। উনি বেসিসে আসলে তো তাহলে এখানে মহিলারা একেবারেই কোণঠাসা হয়ে যাবেন, সামনে আগানোর পরিবর্তে। অবশ্যই তা কারোই কাম্য না।

লুনা শামসুদ্দোহা, আমি বয়সে ও অভিজ্ঞতায় আপনার তুলনায় অনেক কম হয়তো বুঝি, কিন্ত বেসিসের স্বার্থ আর বেসিস সদস্যদের স্বার্থ এবং সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার চেয়ে বেশি অবশ্যই বুঝি এবং বুঝবোও। 

প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এর সাথে আছি, থাকবোও। আমার বলা কথাগুলো যদি ভুল প্রমাণ করতেই চান তাহলে নিজেকে প্রশ্নগুলো করে সিদ্ধান্ত নিন। 

ক্ষমতার স্বাদ সবাই পেতে বুভুক্ষু থাকে, আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। 

তাই বলবো ক্ষমতা পাওয়ার জন্য যদি বেসিসে আসতে চান, তাহলে জনতা ব্যাংকের পদ এবং বিডব্লিউআইটির প্রেসিডেন্ট পদ দুটো থেকেই সরে তারপরে আসেন।

নাহলে ভোটাররাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে বেসিস প্রেসিডেন্ট পদ আপনার জন্য কিনা! বেসিস এর সদস্যরা আর যাই হোক মেধাবী, বুদ্ধিমান এবং দুরদরশী। 

মোস্তাফা জব্বার চাচাকে সেজন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীত্ব দিয়েছেন, মেধা না থাকলে দিতেন না। কমন সেন্স। 

আমার চোখে বেসিস সদস্যদের কমন সেন্স বেশ ভালই আছে আর সেই কমন সেন্স দিয়েই তারা নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করেই ভোটের সমর্থন করবে। 

যারা উনাকে সমর্থন দিচ্ছেন, তারা দয়া করে ভোটের রাজনীতি বুঝে, নিজেদের স্বার্থ বুঝে সামনে ভোট দিয়েন।

যা কিছু বলেছি, তাতে একটা জিনিষ খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, সৈয়দ আলমাস কবীর ভাই অন্তত উনার মতন কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে সদস্যদের স্বার্থ ধ্বংস করতে বা পরস্পর বিরোধী বা স্ববিরোধী কোন কাজ করছেন না। 

উনি শুধুই বেসিসের নির্বাচনে এসেছেন, স্বার্থ সংঘাতময় আর কোন পদেই উনি নেই। বেসিস সদস্য হয়ে আপনারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে পছন্দ করবেন প্রেসিডেন্ট পদে। 

লুনা ম্যাডামের মতন স্ববিরোধী কাউকে নাকি বেসিস সদস্যদের স্বার্থ দেখার জন্য আলমাস ভাইয়ের মতন কাউকে!

জব্বার চাচার পরে, সফটওয়্যার শিল্পের এবং এর সাথে যুক্ত সবার স্বার্থ উদ্ধার করতে বলিষ্ঠ হিসেবে, আমি আমার সমর্থন আবারও পরিষ্কার করে আলমাস ভাইয়ের জন্যই দিলাম, দিবোও। 

জয় হবে ভোটারদের, জয় হবে বেসিস সদস্যদের, বেসিসের সবার। জয় বেসিস! জয় আলমাস ভাই!

[সুহৃদ তৌফিকুল করিমের (পরিচালক, ফিঙ্গারটিপস ইনোভেশন লিমিটেড) ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে]