বিটিআরসির কাছে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের ১৫ দফা দাবি
jugantor
বিটিআরসির কাছে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের ১৫ দফা দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:০২:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান জহিরুল হকের সঙ্গে বুধবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কমিশনের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তাই কমিশনকে সকল কিছু ঊর্ধ্বে এসে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে বলা হয়, সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ সেবার মান, ট্যারিফ, কমিশনের কর্মক্ষমতাবৃদ্ধি ও আগামী ৪র্থ শিল্প বিপ্লব ও পঞ্চম প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা চালুর ফলে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতিসহ সকল মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসির অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহকের কাঙ্ক্ষিত সেবা ও অধিকার অর্জিত না হওয়ার ফলে গ্রাহকরা কমিশন ও আমাদের সংগঠনের ওপরেও দায় চাপায়। ইতিপূর্বে গণশুনানিতে বেশকিছু সমস্যা আমরা তুলে ধরে ছিলাম। তাছাড়া বিটিআরসি বরাবর বেশ কিছু লিখিত অভিযোগও প্রেরণ করেছি।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ট্যারিফ নির্ধারণে আমাদের সংগঠন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিইআরসি আমাদের মূল্যায়ন করলে বিটিআরসি আমাদের কোন ভাবেই মূল্যায়ন করেনি। এত বিশাল এ খাতে গ্রাহকদের কোন প্রতিনিধি নাই? ফলে সিদ্ধান্তসমূহে গ্রাহকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।

বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও জনস্বার্থে গঠনমূলক কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি-দাওয়া সম্পর্কে বলেন, আইনের ভিত্তিতেই সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। আইনের সমস্যা সম্পর্কে বলেন, আইন তৈরি করবেন আইন প্রণেতারা, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করি। অতএব যারা আইন তৈরি করছেন তাদেরকেও জনস্বার্থের এবং আইনের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েই আইন তৈরি করতে হবে।

বিটিআরসির কাছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি ও সুপারিশ

১. টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এ কমিশনকে স্বাধীন বলা হয়েছে অথচ এই আইনের ৪৮ ধারা অনুযায়ী সরকারের কাছে ট্যারিফের প্রস্তাব কমিশনকে করার কথা বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকার কমিশনের কাছে প্রস্তাব করবে। আমরা মনে করি এটি একটি সাংঘর্ষিক আইন। তাই ইহা পরিবর্তন জরুরী।

২. ট্যারিফ নির্ধারণে কমিশন কর্তৃক গণশুনানি করে স্টেক হোল্ডারদের মতামত যাচাইবাছাই পূর্বক কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্যারিফ নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

৩. আইএসপি এনটিটিএন’র কোন ট্যারিফ আজ অবধি নির্ধারণ করা হয় নাই। তাই দ্রুত এই সেবার ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরী। সেইসঙ্গে আইএসপি গ্রাহক পর্যায়ে সেবা প্রদানে নৈরাজ্য বিরাজমান। এই নৈরাজ্য নিরসনে কমিশনের ভূমিকা জরুরী।

৪. গ্রাহকদের সেবার মান নির্ধারণ করা হয়েছে কোয়ালিটি অব সার্ভিস। অথচ বর্তমান সময়ে এই গাইডলাইন প্রতিপালিত হচ্ছে না। বর্তমান সময়ে কলড্রপের মাত্রা অত্যন্ত বেশি (বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী ২ শতাংশের অধিক)। তাছাড়া নেটওয়ার্ক দুর্বলতা, ধীরগতির ইন্টারনেট, ডাটা ব্যবহারে নানাবিধ সমস্যা, যত্রতত্র বাণিজ্যিক ম্যাসেজ, রিচার্জে রিটেলারদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগের কোন নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

৫. অপারেটররা গ্রাহক বা গ্রাহকদের প্রতিনিধিদের কাছে কোন প্রকার জবাবদিহিতা করে না। এ ব্যাপারে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

৬. কমিশন একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে গ্রাহকদের অভিযোগ বা টেলিযোগাযোগ আইন ভঙ্গের কারণে বিচার করার এজলাস বা শুনানির ব্যবস্থা নাই। বিইআরসি’তে প্রতি মঙ্গলবার গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে শুনানি হয়। তাই বিটিআরসি’তেও সপ্তাহে একদিন শুনানির ব্যবস্থা একান্ত আবশ্যক।

৭. ৫৯ ধারায় গ্রাহকের অভিযোগ ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা ও ৬৩ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ এমনকি আদেশ অমান্যের কারণে ৪১ (ক) উপধারা অনুযায়ী ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করার মতো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ১ বছর ধরে গ্রাহক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি এমন দৃষ্টান্তও আমরা দেখেছি।

৮. ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর মতো গ্রাহকদের অভিযোগের ধারাও পরিবর্তন করে ৩০০ কোটি টাকা থেকে ২৫ শতাংশ অভিযুক্ত গ্রাহককে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রদান করার আবেদন করছি।

৯. গ্রাহক অনুপাতে তরঙ্গ অনেক কম। আবার তরঙ্গের দামও বেশি। অথচ রাষ্ট্রীয় এ সম্পদ রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রয়োজনেই। তাই তরঙ্গের মূল্য কমিয়ে অপারেটরদের অধিক তরঙ্গ ব্যবহারে বাধ্য করতে আহ্বান জানাচ্ছি।

১০. মোবাইল ব্যাংকিং এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ বিশাল এ ব্যাংকিং সেবার দেখভাল কেউ করে না। এমনকি ট্যারিফ নির্ধারণ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই। আমাদের দাবি গণশুনানির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং এর ট্যারিফ নির্ধারণ করা হোক।

১১. আইসিএক্স, আইআইজি, আইজিডব্লিউ ও এমএনপি’কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

১২. প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সড়কের উপরিভাগে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর তারের জঞ্জাল দূর করার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

১৩. হ্যান্ডসেটের মান নির্ধারণে কমিশনের একটি নিজস্ব ল্যাব থাকা আবশ্যক। যার মাধ্যমে আমদানি ও উৎপাদনের পর বিএসটিআই’র ন্যায় পরীক্ষাপূর্বক স্টিকার যুক্ত করে বাজারজাতের অনুমতি প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী হ্যান্ডসেট ডিভাইসের ওপর এসআর ভ্যালু যুক্ত করা আবশ্যক।

১৪. এক্সেসরিজের মান ও বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরী।

১৫. করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জনসচেতনতা তৈরি ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের টেলিমেডিসিন ও ম্যাসেজের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করতে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। সেই সাথে টেলিকম খাতে অনেক চীনা নাগরিক যুক্ত রয়েছে। তাদের দিক নির্দেশনা অত্যন্ত জরুরী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু বকর ছিদ্দিক, সহ-সভাপতি অ্যাড. রাশেদুল হাসান, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাড. শাহেদা আক্তার, কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ ও বিটিআরসির সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান।

বিটিআরসির কাছে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের ১৫ দফা দাবি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০৭:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান জহিরুল হকের সঙ্গে বুধবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কমিশনের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। তাই কমিশনকে সকল কিছু ঊর্ধ্বে এসে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। 

বৈঠকে বলা হয়, সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ সেবার মান, ট্যারিফ, কমিশনের কর্মক্ষমতাবৃদ্ধি ও আগামী ৪র্থ শিল্প বিপ্লব ও পঞ্চম প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা চালুর ফলে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতিসহ সকল মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসির অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহকের কাঙ্ক্ষিত সেবা ও অধিকার অর্জিত না হওয়ার ফলে গ্রাহকরা কমিশন ও আমাদের সংগঠনের ওপরেও দায় চাপায়। ইতিপূর্বে গণশুনানিতে বেশকিছু সমস্যা আমরা তুলে ধরে ছিলাম। তাছাড়া বিটিআরসি বরাবর বেশ কিছু লিখিত অভিযোগও প্রেরণ করেছি। 

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ট্যারিফ নির্ধারণে আমাদের সংগঠন ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিইআরসি আমাদের মূল্যায়ন করলে বিটিআরসি আমাদের কোন ভাবেই মূল্যায়ন করেনি। এত বিশাল এ খাতে গ্রাহকদের কোন প্রতিনিধি নাই? ফলে সিদ্ধান্তসমূহে গ্রাহকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না।

বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও জনস্বার্থে গঠনমূলক কাজ করার পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সঙ্গে তিনি দাবি-দাওয়া সম্পর্কে বলেন, আইনের ভিত্তিতেই সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। আইনের সমস্যা সম্পর্কে বলেন, আইন তৈরি করবেন আইন প্রণেতারা, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করি। অতএব যারা আইন তৈরি করছেন তাদেরকেও জনস্বার্থের এবং আইনের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েই আইন তৈরি করতে হবে।

বিটিআরসির কাছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ১৫ দফা দাবি ও সুপারিশ

১. টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এ কমিশনকে স্বাধীন বলা হয়েছে অথচ এই আইনের ৪৮ ধারা অনুযায়ী সরকারের কাছে ট্যারিফের প্রস্তাব কমিশনকে করার কথা বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকার কমিশনের কাছে প্রস্তাব করবে। আমরা মনে করি এটি একটি সাংঘর্ষিক আইন। তাই ইহা পরিবর্তন জরুরী।

২. ট্যারিফ নির্ধারণে কমিশন কর্তৃক গণশুনানি করে স্টেক হোল্ডারদের মতামত যাচাইবাছাই পূর্বক কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্যারিফ নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

৩. আইএসপি এনটিটিএন’র কোন ট্যারিফ আজ অবধি নির্ধারণ করা হয় নাই। তাই দ্রুত এই সেবার ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরী। সেইসঙ্গে আইএসপি গ্রাহক পর্যায়ে সেবা প্রদানে নৈরাজ্য বিরাজমান। এই নৈরাজ্য নিরসনে কমিশনের ভূমিকা জরুরী।

৪. গ্রাহকদের সেবার মান নির্ধারণ করা হয়েছে কোয়ালিটি অব সার্ভিস। অথচ বর্তমান সময়ে এই গাইডলাইন প্রতিপালিত হচ্ছে না। বর্তমান সময়ে কলড্রপের মাত্রা অত্যন্ত বেশি (বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী ২ শতাংশের অধিক)। তাছাড়া নেটওয়ার্ক দুর্বলতা, ধীরগতির ইন্টারনেট, ডাটা ব্যবহারে নানাবিধ সমস্যা, যত্রতত্র বাণিজ্যিক ম্যাসেজ, রিচার্জে রিটেলারদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগের কোন নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

৫. অপারেটররা গ্রাহক বা গ্রাহকদের প্রতিনিধিদের কাছে কোন প্রকার জবাবদিহিতা করে না। এ ব্যাপারে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

৬. কমিশন একটি বিচারিক প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে গ্রাহকদের অভিযোগ বা টেলিযোগাযোগ আইন ভঙ্গের কারণে  বিচার করার এজলাস বা শুনানির ব্যবস্থা নাই। বিইআরসি’তে প্রতি মঙ্গলবার গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে শুনানি হয়। তাই বিটিআরসি’তেও সপ্তাহে একদিন শুনানির ব্যবস্থা একান্ত আবশ্যক।

৭. ৫৯ ধারায় গ্রাহকের অভিযোগ ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা ও ৬৩ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ এমনকি আদেশ অমান্যের কারণে ৪১ (ক) উপধারা অনুযায়ী ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করার মতো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ১ বছর ধরে গ্রাহক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি এমন দৃষ্টান্তও আমরা দেখেছি।

৮. ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর মতো গ্রাহকদের অভিযোগের ধারাও পরিবর্তন করে ৩০০ কোটি টাকা থেকে ২৫ শতাংশ অভিযুক্ত গ্রাহককে প্রমাণ সাপেক্ষে প্রদান করার আবেদন করছি।

৯. গ্রাহক অনুপাতে তরঙ্গ অনেক কম। আবার তরঙ্গের দামও বেশি। অথচ রাষ্ট্রীয় এ সম্পদ রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রয়োজনেই। তাই তরঙ্গের মূল্য কমিয়ে অপারেটরদের অধিক তরঙ্গ ব্যবহারে বাধ্য করতে আহ্বান জানাচ্ছি।

১০. মোবাইল ব্যাংকিং এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ বিশাল এ ব্যাংকিং সেবার দেখভাল কেউ করে না। এমনকি ট্যারিফ নির্ধারণ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই। আমাদের দাবি গণশুনানির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং এর ট্যারিফ নির্ধারণ করা হোক।

১১. আইসিএক্স, আইআইজি, আইজিডব্লিউ ও এমএনপি’কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

১২. প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সড়কের উপরিভাগে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর তারের জঞ্জাল দূর করার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

১৩. হ্যান্ডসেটের মান নির্ধারণে কমিশনের একটি নিজস্ব ল্যাব থাকা আবশ্যক। যার মাধ্যমে আমদানি ও উৎপাদনের পর বিএসটিআই’র ন্যায় পরীক্ষাপূর্বক স্টিকার যুক্ত করে বাজারজাতের অনুমতি প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী হ্যান্ডসেট ডিভাইসের ওপর এসআর ভ্যালু যুক্ত করা আবশ্যক।

১৪. এক্সেসরিজের মান ও বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরী।

১৫. করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জনসচেতনতা তৈরি ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের টেলিমেডিসিন ও ম্যাসেজের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করতে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। সেই সাথে টেলিকম খাতে অনেক চীনা নাগরিক যুক্ত রয়েছে। তাদের দিক নির্দেশনা অত্যন্ত জরুরী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু বকর ছিদ্দিক, সহ-সভাপতি অ্যাড. রাশেদুল হাসান, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাড. শাহেদা আক্তার, কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ ও বিটিআরসির সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান।