এআই বা সফটওয়্যার দিয়ে কি করোনা সনাক্ত সম্ভব?

  আনোয়ার হোসেন রানা ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১৮:২১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

জ্বি হ্যাঁ। এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) বা সফটওয়্যার দিয়ে কি করোনা সনাক্ত সম্ভব। ডিপ-লার্নিং, টেন্সরফ্লো, বড় আকারের ডাটাশীট দিয়ে করোনাভাইরাস সনাক্ত করা সম্ভব। সিটি স্ক্যান অথবা বুকের রেডিওগ্রাফির ইমেজ, এক্স-রে নিয়ে এআই নিজের তথ্য ভাণ্ডার থেকে যাচাই করে সনাক্ত করবে করোনাভাইরাস।

এই প্রযুক্তি নিয়ে কারা কাজ করছে?

কানাডা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডারউইন এআই নিয় কাজ করছে ফটোটাইপের।

তাহলে কানাডা এই প্রযুক্তি দিয়ে করোনা সনাক্ত শুরু করছে না কেন?

কারণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে প্রথমে ট্রেইন করতে হবে, হাজার হাজার রোগীর এক্স-রে ইনপুট করতে হবে তাদের প্রোগ্রামে।

একজন আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক স্টেজ টু লাস্ট স্টেজ পর্যন্ত শ্বাস যন্ত্রে যেসব ক্ষতি সাধন হয় তার স্টেপ বাই স্টেপ ইমেজ লাগবে, যাতে পরবর্তীতে যেকোন স্টেজের ইমেজ দেখে এআই বুঝতে পারে করোনা আক্রান্ত কিনা।

এখানে সমস্যা কোথায়?

সমস্যার মধ্যে একটি হলো অনেক মানুষেরই শ্বাসযন্ত্রে নানা ধরনের রোগ থাকতে পারে। তাই সন্দেহভাজন রোগী আগে ঠিক করে তার রোগের ইতিহাস জেনে এক্স-রে করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে।

যেহেতু করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত নানা-রূপ পাল্টেছে তাই ক্রিটিক্যাল ইনফেকশনসগুলোর ইমেজ দিয়ে এই প্রোগ্রামকে আরো বেশি স্বয়ংক্রিয় করতে হবে।

আবার অনেক রোগীর মধ্যে কোন প্রকার শারীরিক লক্ষণ ছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হবার খবর শোনা গেছে। তাই এক্স-রে ইমেজে বোঝা কঠিন হয়ে যাবে রোগী করোনা পজিটিভ কিনা।

এআই-এর সুবিধা কি তাহলে?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বর্তমানে কেমিক্যাল, কীট, স্বাস্থ্যকর্মীর পেষাক সংকট। তাই এআই ব্যবহারে স্বল্প সময়ে অধিক মানুষকে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এই প্রযুক্তি/সোর্স কি শুধু কানাডা পাবে?

না। কানাডার ওই স্টার্টআপ কোম্পানি এই প্রযুক্তির সোর্স কোড (কোভিড-নেট সিস্টেম) উন্মুক্ত করছে এবং এ পর্যন্ত সারাবিশ্বের ডাটা সাইন্টিস্ট, মেডিকেল প্রফেশনালরা মিলে প্রায় ১৭ হাজার এক্স-রে ইমেজের ডাটা শীট তৈরি করেছে। সেখানে প্রায় ১৪ হাজার রোগী থেকে বুকের স্ক্যান করা ইমেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

আমেরিকা কি বলছে বা করছে এআই দিয়ে?

আমেরিকার সেন্ট্রাল ফর ডিজিস (সিডিসি) বলছে, এক্স-রে দিয়ে রোগীর ইমেজ নেওয়া খুব ঝুঁকির কাজ। এতে করে ভাইরাস ইমেজিং যন্ত্রাংশের মাধ্যমে ছড়িয়ে যেতে পারে। তবে কীট স্বল্পতার কারণে হয়তো ব্যবহার করতে পারেন তারাও।

তবে কি এই প্রযুক্তি দিয়েই করোনা মোকাবেলা বা সনাক্ত হবে?

না। এটি একটি সাপোর্টিং টুলস। পুরোপুরি সঠিক পদ্ধতি নয়। নানান সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সাপোর্টিং টুলস হিসেবে কাজে লাগবে।

লেখক: আনোয়ার হোসেন রানা, কম্পিউটার প্রকৌশলী

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত