কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আধুনিক প্রযুক্তি
jugantor
কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আধুনিক প্রযুক্তি

  আইটি ডেস্ক  

১৩ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৪৯:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

যখন একটি দেশের আনুমানিক ৬০% লোকসংখ্যা কোন এক রোগের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ হয়ে যায়, তখন রোগতত্ত্ব অনুযায়ী, সেই পর্যায়কে "হার্ড ইমিউনিটি" বলে। অর্থাৎ সেই পর্যায়ে রোগের সংক্রমণ এতটাই বিলম্বিত হয়ে যায় যে, সেটা জনস্বাস্থ্যের জন্য আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকে না।

কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে "হার্ড ইমিউনিটি" পর্যায়ে পৌঁছোতে মাসখানেক বা বছরখানেক সময়ও লাগতে পারে। কার্যকরী টীকা আবিষ্কার করতে তার থেকেও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এমনও আছেন, যারা অবগত বা অজ্ঞাতভাবে রোগসংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ এবং এরকম লোকের সংখ্যা ক্রমে বেড়ে চলছে।

এরূপ নিরাপদ ব্যক্তিদের সনাক্ত করা দেশের সামাজিক ও অর্থনীতিক পরিস্থিতির জন্য অতিশয় জরুরী এবং তা পরবর্তীতে যে কোন বড় আকারের সংক্রমণও রোধ করতে পারে। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ থেকে নিরাপদ ব্যক্তিরা দেশ ও সমাজের স্বার্থে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হতে পারবেন।

যেমন হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, বিমানবন্দর, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসরবরাহ ইত্যাদি। এতে যারা নিরাপদ নন, তারা বাইরের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত না হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারবেন অথবা "হোম কোয়ারেন্টিনে" থাকতে পারবেন।

কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডি পরীক্ষা দ্বারা সংক্রমণ থেকে নিরাপদ এমন ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এখন সম্ভব। সংক্রমণরোধী পরিস্থিতি প্রদর্শন করার সহজ একটি উপায় ধারণ করেছে বাংলাদেশের স্থানীয় সফটওয়্যার রপ্তানিকারক কোম্পানি 'সেলিস'। এই সমাধানটির সকল অংশের সত্ত্বাধিকারী সেলিস।

তবে এমন সমাধান বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সার্ক-অন্তর্ভুক্ত দেশে প্রয়োগ করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেলিসের ধারণাকৃত সমাধানটি পাঁচ ধরনের মানুষের সম্মিলিত স্বার্থের ওপর নির্ভর করে-

১। জনগণ- যারা প্রকৃতভাবে নিজেদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পেতে চান

২। ডায়াগনস্টিক সেন্টার- যেকোন প্রকৃত অবস্থান অথবা চলমান স্টল, যেখানে জনগণ তাদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন

৩। জনসমাগম যুক্ত প্রতিষ্ঠান- হাসপাতাল, রেস্তোরা, অফিস, বিভিন্ন শপিং মল অথবা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, যারা তাদের ভোক্তাদের শারীরিক অবস্থা যাচাই করার পর তাদের সুযোগসুবিধা দিতে চান

৪। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ- যারা কিউআর কোড এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সমন্বয়ে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বৈধতা যাচাই করতে পারবেন

৫। নীতি নির্ধারক সংস্থা- যারা প্রকৃত তথ্য দিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরি করতে পারবেন।

জনগণের জন্য ধারণাকৃত সাইনআপ পদ্ধতি

যেকোন ব্যক্তি শুধুমাত্র মোবাইল নম্বর দিয়েই একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা পেয়ে যাবেন একটি ইউনিক টেস্টিং নম্বর, যা দিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন।

প্রতিটি ফলাফলের সঙ্গে এই টেস্টিং নম্বরটি যুক্ত থাকবে। নম্বর দ্বারা ব্যক্তি চিহ্নিত করার পদ্ধতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে আরও দ্রুতভাবে সম্পন্ন করাও সম্ভব।

বৈধতা যাচাই করার পদ্ধতি

প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার একটি সমন্বিত ডাইরেক্টরিতে লগইন করে প্রবেশ করতে পারবেন। যেখানে তারা রেজিস্টার করা ব্যক্তিবর্গদের দেখতে পারবেন অথবা একই ডাইরেক্টরি থেকে তারা নতুন ব্যক্তির রেজিস্ট্রেশনও করতে পারবেন।

গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে রেজিস্টার করা ব্যক্তিবর্গদের তাদের ব্যক্তিগত টেস্টিং নম্বর ছাড়া দেখা যাবে না। এই সমাধানটির ডাটাবেজে গোপনীয় তথ্য রক্ষা করার স্বার্থে আচরণভিত্তিক ট্র্যাকিং ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ কিউআর কোড দ্বারা জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফলের বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। যেকোন জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যক্তিগত নম্বরের সমন্বয়ে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ আরও নিরাপদ করা সম্ভব।

সাইনআপের সময় ব্যবহৃত ছবি যদি পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলে যায়, তাহলেই শারীরিক পরিস্থিতি অথবা "হেলথ স্ট্যাটাস"-এর বৈধতা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সমস্ত প্রক্রিয়ার সার্বিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডাটাবেজে নিয়মিত টাইমস্ট্যাম্প থাকবে।

সেলিসের ধারণাকৃত সম্পূর্ণ সমাধানটির সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে ভিজিট করতে পারেন https://selise.ch/selise-introduces-covid-19-mitigation-technology-for-bangladesh/ এই ঠিকানায়।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আধুনিক প্রযুক্তি

 আইটি ডেস্ক 
১৩ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যখন একটি দেশের আনুমানিক ৬০% লোকসংখ্যা কোন এক রোগের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ হয়ে যায়, তখন রোগতত্ত্ব অনুযায়ী, সেই পর্যায়কে "হার্ড ইমিউনিটি" বলে। অর্থাৎ সেই পর্যায়ে রোগের সংক্রমণ এতটাই বিলম্বিত হয়ে যায় যে, সেটা জনস্বাস্থ্যের জন্য আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকে না। 

কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে "হার্ড ইমিউনিটি" পর্যায়ে পৌঁছোতে মাসখানেক বা বছরখানেক সময়ও লাগতে পারে। কার্যকরী টীকা আবিষ্কার করতে তার থেকেও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এমনও আছেন, যারা অবগত বা অজ্ঞাতভাবে রোগসংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ এবং এরকম লোকের সংখ্যা ক্রমে বেড়ে চলছে। 

এরূপ নিরাপদ ব্যক্তিদের সনাক্ত করা দেশের সামাজিক ও অর্থনীতিক পরিস্থিতির জন্য অতিশয় জরুরী এবং তা পরবর্তীতে যে কোন বড় আকারের সংক্রমণও রোধ করতে পারে। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ থেকে নিরাপদ ব্যক্তিরা দেশ ও সমাজের স্বার্থে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত হতে পারবেন। 

যেমন হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, বিমানবন্দর, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসরবরাহ ইত্যাদি। এতে যারা নিরাপদ নন, তারা বাইরের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত না হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারবেন অথবা "হোম কোয়ারেন্টিনে" থাকতে পারবেন। 

কোভিড-১৯ অ্যান্টিবডি পরীক্ষা দ্বারা সংক্রমণ থেকে নিরাপদ এমন ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এখন সম্ভব। সংক্রমণরোধী পরিস্থিতি প্রদর্শন করার সহজ একটি উপায় ধারণ করেছে বাংলাদেশের স্থানীয় সফটওয়্যার রপ্তানিকারক কোম্পানি 'সেলিস'। এই সমাধানটির সকল অংশের সত্ত্বাধিকারী সেলিস। 

তবে এমন সমাধান বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সার্ক-অন্তর্ভুক্ত দেশে প্রয়োগ করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেলিসের ধারণাকৃত সমাধানটি পাঁচ ধরনের মানুষের সম্মিলিত স্বার্থের ওপর নির্ভর করে-
 
১। জনগণ- যারা প্রকৃতভাবে নিজেদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য পেতে চান 

২। ডায়াগনস্টিক সেন্টার- যেকোন প্রকৃত অবস্থান অথবা চলমান স্টল, যেখানে জনগণ তাদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবেন 

৩। জনসমাগম যুক্ত প্রতিষ্ঠান- হাসপাতাল, রেস্তোরা, অফিস, বিভিন্ন শপিং মল অথবা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, যারা তাদের ভোক্তাদের শারীরিক অবস্থা যাচাই করার পর তাদের সুযোগসুবিধা দিতে চান

৪। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ- যারা কিউআর কোড এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সমন্বয়ে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বৈধতা যাচাই করতে পারবেন 

৫। নীতি নির্ধারক সংস্থা- যারা প্রকৃত তথ্য দিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরি করতে পারবেন। 

জনগণের জন্য ধারণাকৃত সাইনআপ পদ্ধতি

যেকোন ব্যক্তি শুধুমাত্র মোবাইল নম্বর দিয়েই একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা পেয়ে যাবেন একটি ইউনিক টেস্টিং নম্বর, যা দিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে পারবেন। 

প্রতিটি ফলাফলের সঙ্গে এই টেস্টিং নম্বরটি যুক্ত থাকবে। নম্বর দ্বারা ব্যক্তি চিহ্নিত করার পদ্ধতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে আরও দ্রুতভাবে সম্পন্ন করাও সম্ভব। 

বৈধতা যাচাই করার পদ্ধতি 

প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার একটি সমন্বিত ডাইরেক্টরিতে লগইন করে প্রবেশ করতে পারবেন। যেখানে তারা রেজিস্টার করা ব্যক্তিবর্গদের দেখতে পারবেন অথবা একই ডাইরেক্টরি থেকে তারা নতুন ব্যক্তির রেজিস্ট্রেশনও করতে পারবেন। 

গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে রেজিস্টার করা ব্যক্তিবর্গদের তাদের ব্যক্তিগত টেস্টিং নম্বর ছাড়া দেখা যাবে না। এই সমাধানটির ডাটাবেজে গোপনীয় তথ্য রক্ষা করার স্বার্থে আচরণভিত্তিক ট্র্যাকিং ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালানো হবে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ কিউআর কোড দ্বারা জনগণের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফলের বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। যেকোন জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যক্তিগত নম্বরের সমন্বয়ে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ আরও নিরাপদ করা সম্ভব। 

সাইনআপের সময় ব্যবহৃত ছবি যদি পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলে যায়, তাহলেই শারীরিক পরিস্থিতি অথবা "হেলথ স্ট্যাটাস"-এর বৈধতা নিশ্চিত হয়ে যাবে। সমস্ত প্রক্রিয়ার সার্বিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ডাটাবেজে নিয়মিত টাইমস্ট্যাম্প থাকবে। 

সেলিসের ধারণাকৃত সম্পূর্ণ সমাধানটির সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে ভিজিট করতে পারেন https://selise.ch/selise-introduces-covid-19-mitigation-technology-for-bangladesh/ এই ঠিকানায়। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

২৬ অক্টোবর, ২০২১
২০ অক্টোবর, ২০২১