আইটি পণ্য রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা হবে: ফারহানা এ রহমান

  এম. মিজানুর রহমান সোহেল ২১ মার্চ ২০১৮, ১৮:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

আইটি পণ্য রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা হবে: ফারহানা এ রহমান

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ রহমান।

প্রায় ১৬ বছর আগে মাত্র দুইজন কর্মী নিয়ে ফারহানার ইউওয়াই সিস্টেমসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বেশিদিন লাগেনি নামের পাশে সফল তাকমা জুড়াতে। শুধু আউটসোর্সিং নির্ভর প্রতিষ্ঠানেই নির্ভার থাকেননি, ধীরে ধীরে পরিধি বাড়িয়েছেন ব্যবসার। কাজ করছেন সামাজিক উন্নয়নেও। আর তাতে পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড সাস্টেইনাবল ডেভেলপমেন্ট থেকে পেয়েছেন ‘উইমেন এক্সপোর্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেও ‘সেরা নারী উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান ফারহানা এ রহমান। এছাড়াও দেশে এবং বিদেশে আরও নানান পুরস্কার পেয়েছেন ফারহানা এ রহমান।

বেসিসের বর্তমান নির্বাহী কমিটিতেও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শুধু এই কমিটিতে নয়, বেসিসের একাধিক পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী। তিনি মনে করেন, সফল ব্যবসায়ী হলেই হয় না। সংগঠন চালানো কিংবা এতে যুক্ত থেকে নিয়মিত কাজ করতে চাইলে আগ্রহ থাকাটা খুব বেশি প্রয়োজন।

তাঁর দাবি, ‘টিম হরাইজন’ নামের যে প্যানেল থেকে তিনি নির্বাচন করছেন সেই প্যানেলের সবারই এই আগ্রহটা আছে। ইতিমধ্যে তাঁরা নাকি তা করিয়ে দেখিয়েছেনও। আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বেসিসের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন ফারহানা এ রহমান।

যুগান্তর: এবারের নির্বাচনে আপনার ইশতেহার কী?

ফারহানা এ রহমান: তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছি বেশি। এক, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানীর জন্য নতুন বাজার খোঁজা। শুধু ইউরোপ, আমেরিকা নয়; পার্শ্ববর্তী দেশ কিংবা যেসব দেশ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হতে চাচ্ছে সেসব দেশেও বাংলাদেশের আইটি পণ্য পৌঁছে দিতে চাই। যেমন হতে পারে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান কিংবা জাপানও। জাপানের কথা বলছি, কারণ দেশটির বাজার অনেক বড়। এটি আমাদের ধরার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য বায়িং হাউস বা মার্কেটিং এজেন্সীর একটা মডেল তৈরি করতে চাই। ওই ধরনের প্রতিষ্ঠান দেশে গড়ে উঠলে সেসবের মাধ্যমে সহজেই পণ্য রপ্তানী করা যাবে। দ্বিতীয়ত, আইটি খাতে আমাদের বর্তমান অবস্থা আসলে কী? সেটা খুঁজে বের করতে একটি জরিপ চালানো হবে। যাতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির তথ্য উঠে আসে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, দিনদিন প্রযুক্তি ট্রেন্ড পরিবর্তন হচ্ছে। আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্রা, মেশিন লার্নিংয়ের যুগ শুরু হচ্ছে। তাই যারা এখানে কাজ করছেন তাঁরা যেন এসব প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, এজন্য কৌশল খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া, ইথিক্যাল হ্যাকিংয়ে জোর দিতে চাই। এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে চাই।

যুগান্তর: এর আগেও বেসিসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন, আগের ইশতেহার অনুযায়ী কাজ কী করতে পেরেছিলেন?

ফারহানা এ রহমান: হ্যা, অনেকগুলোই করেছি।

যুগান্তর: আপনি একজন নারী উদ্যোক্তা, বলতে গেলে দেশের আইটি খাতের শুরুর দিকের উদ্যোক্তা। বেসিসের উইমেন ফোরামের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করছেন। নারীদের জন্য বিশেষ কোনো কিছু কী করবেন?

ফারহানা এ রহমান: উইমেন ফোরামে শুধু বেসিসের নারী সদস্যরা থাকেন তা নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হতে পারেন। তাই এতে এমন অনেকেও আছেন যারা ছোট-ছোট স্টার্টআপ শুরু করতে চাচ্ছেন। অনেকে আবার শুরু করেছেন, এমন পর্যায়ে আছেন। তাঁরা কীভাবে ব্যবসা শুরু করবে, ব্যাংক থেকে ঋন পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের পরিচয় করিয়ে দেওয়া কিংবা যোগাযোগটা কীভাবে হবে তার জন্য মেন্টরিং ব্যবস্থা চালু করা। এছাড়া দেশের আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মক্ষেত্র হিসেবে অতটা নারীবান্ধব হয়ে উঠেনি। তাই এ ব্যপারে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করব।

যুগান্তর: টিম হরাইজন প্যানেলের বিশেষত্ব কী?

ফারহানা এ রহমান: এই প্যানেল গড়ায় ৩-৩-৩ কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। নয়জনের তিনজন বর্তমান বেসিস নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন। কারণ আগের কাজগুলো যেন আগায় নিয়ে যাওয়া যায়। তিনজন আগের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাবে। পুরাতনদের বাদ দিয়ে আগানো অসম্ভব। কারণ উনাদের সবার কারণে আমরা আজ এ অবস্থানে এসেছি। আবার তিনজন একেবারে নতুন, যারা বয়সে তরুণও বটে। যাতে নতুন নেতৃত্বও তৈরি হয়। সব মিলিয়ে এটি একটি সংমিশ্রিত প্যানেল।

ঘটনাপ্রবাহ : বেসিস নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter