আইসিটি শিল্প এগিয়ে নেবে টিম দুর্জয়ের সদস্যরা

  এম মিজানুর রহমান সোহেল ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৮:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

আইসিটি শিল্প এগিয়ে নেবে টিম দুর্জয়ের সদস্যরা

আর কদিন পরই তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের প্রচারণাও বেড়ে চলছে।

আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বেসিসের এই নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে ‘টিম দুর্জয়’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে। তাঁরা হলেন ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম, এটম এপি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আহমেদুল ইসলাম, সল্যুশন নাইন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সহিবুর রহমান খান এবং চালডালের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ। বেসিস নিয়ে তাঁরা তাঁদের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

আর্থিক বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে: মোস্তফা রফিকুল ইসলাম

তরুণ প্রজন্মকে এবং ছোট ও মাঝারি আইটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে টেকসই করতে এবং দ্রুত আর্থিক বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিন্তে জরুরী ও সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন মোস্তফা রফিকুল ইসলাম। তিনি মনে করছেন, দেশের সফটওয়্যার খাতে তিনটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, ফান্ডিং। দ্বিতীয়ত স্থানীয় শিল্পকে প্রোটেক্ট করা আর সবশেষে পলিসিগত সমস্যা।

মোস্তফা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে অনেক সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অন্যান্য সফটওয়্যার থেকে আলাদা করে একটি ইউনিক আইডিন্টি তৈরি করেছে। তবে এই সফটওয়্যার রেখে বাইরে থেকে সফটওয়্যার নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় সফটওয়্যারগুলো হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

এছাড়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত সরকারের অনেক কঠিন পলিসি রয়েছে। এটি একটি বড় সমস্যা। আমার কাজ হবে এই সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচিত হলে ২০১৯ সালের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। যদি নাও জেতেন, তিনি চান এই বিষয়টি সবার মনে গেঁথে যাক। ইতিপূর্বে বেসিসের একাধিক নির্বাহী কমিটিতে যুক্ত থেকে সাংগঠনিক কাজের অভিজ্ঞতাটাও বেশ রপ্ত করেছেন মোস্তফা রফিকুল ইসলাম।

আইসিটি শিল্পের অবস্থান সুসংগত করত চাই: এ কে এম আহমেদুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষত জাপানে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং, বৈদেশিক অনুদান সহায়তা ও বাজার সম্প্রাসরণের মাধ্যমে আইসিটি শিল্পের অবস্থান সুসংগত করা। বেসিসের সব সদস্যদের জন্য স্থায়ী অফিস এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেসিসের এ নির্বাচনে লড়ছেন এটম এপি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম আহমেদুল ইসলাম। এছাড়া ছোট ও মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরবে এ ব্যপারেও কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসার পাশপাশি এ কে এম আহমেদুল ইসলামের সাংগঠনিক দক্ষতা দীর্ঘদিনের। নিজেকে যুক্ত রেখেছেন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রত্যাশা, বেসিস সদস্যরা এমন একটি গ্রুপকে নির্বাচন করবে যারা তরুণ ও অভিজ্ঞ। যাতে দলটি বেসিস সদস্যদের জন্য সকল সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে।

সফটওয়্যার মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তুলতে চাই: সহিবুর রহমান খান রানা

নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে নয় বছর আগে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন সহিবুর রহমান খান রানা। তার মতে, তাঁকে সফল হতে খুব বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে কাজ করছেন সফলভাবে। তাই নতুন উদ্যোক্তারা যেসব বাঁধার সম্মুখ হন সেসব বিষয় এবং তা থেকে কীভাবে ‍উতরে যাওয়া সম্ভব তা তিনি জানেন। আর এ কারণে বেসিসের মাধ্যমে নতুন ও তরুণ আইটি ব্যবসায়ীদের জন্য কাজ করতে তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে সহিবুর রহমান খান রানাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দুইটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশে সফটওয়্যার মার্কেটিং এজেন্সি গড়ে তোলা এবং অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স ব্যবস্থা আরও সহজ করা। এছাড়া বেসিস সদস্যদের চাওয়া-পাওয়া কী, তা তালিকা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ঘটাতে চাই: জিয়া আশরাফ

বেসিস নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা নাকি একাধিক। তাঁর মতে, বর্তমানে অনেক তরুণ তাঁদের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে এ খাতে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি চান, তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে বেসিসের বিভিন্ন কর্মকান্ডে।

নির্বাচনে চালডালের এই প্রধান পরিচালন কর্মকর্তার প্রতিশ্রুতি, ই-কমার্স ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নবীন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও ক্রমবিকাশ করতে চাই। সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা ও কনসেপ্টগুলোকে সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চান এবং সহায়তা করতে চাই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অর্থ প্রাপ্তিতে।

প্রসঙ্গত, টিম দুর্জয় প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন মোস্তফা রফিকুল ইসলাম। তাঁর আত্ববিশ্বাস, তিনি হারতে আসেননি, জেতার জন্য এসেছেন। প্যানেলটি সাজানোয় গুরুত্ব দিয়েছেন, যারা আইসিটি খাতে ইনোভেটিভ কিছু করেছেন তাঁদের যুক্ত করতে। টিম দুর্জয় প্যানেলে তিনজন বয়স্ক আর তিনজন করে মাঝ বয়সী ও তরুণ। এমন প্যানেলের কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, বয়সের পাশাপাশি আমরা সবাই আইসিটি শিল্পে একেক ধরনের ব্যবসা করি। এমন প্যানেল করার কারণ, যাতে পুরো শিল্পটাকে আমরা কাভার করে এগিয়ে নিতে পারি।

ঘটনাপ্রবাহ : বেসিস নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter