দেলোয়ার হোসেন ফারুক কে? বেসিসে আসলো কীভাবে?
jugantor
দেলোয়ার হোসেন ফারুক কে? বেসিসে আসলো কীভাবে?

   

৩০ মার্চ ২০১৮, ০৫:১৮:০৪  |  অনলাইন সংস্করণ

আগামীকাল ৩১ মার্চ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) নির্বাচন। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বেসিসনির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্বাচন বন্ধের নেপথ্যে কে কাজ করেছেন তা খুঁজতে অনেকেই দেলোয়ার হোসেন ফারুকের নাম উল্লেখ করেছেন।

তিনি নিজেও এবারের নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন এবং এখনও বেসিসের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাঁর আইসিটি খাতে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা আছে কিনা সে বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বেসিসে তাঁকে কে বা কারা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়েও কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন। বহুমাত্রিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেলোয়ার হোসেন ফারুক এবার নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

'আমি যেভাবে বেসিসে' শিরোনামে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে তৎকালীন সভাপতি শামীম আহসান ও রাসেল টি আহমেদের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বেসিস নির্বাচনে আসেন। নিম্নে দেলোয়ার হোসেন ফারুকের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমি আইটি ব্যবসা করি ১২ বছর। ২০১৬ সালের আগে কখনও বেসিসে সক্রিয় ছিলাম না। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন সভাপতি শামীম আহসান ভাই ও রাসেল টি আহমেদের ডাকে সাড়া দিয়েই বেসিস নির্বাচনে আসি। পরবর্তীতে পরিচয় হয় ফাহিম মাসরুর ভাইয়ের সাথে। বেসিসে নতুন হওয়ায় অনেক চেস্টা করেও তারা আমাকে পাশ করাতে ব্যর্থ হন। আমি পরাজয় করলেও বেসিসের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখি।

আজকে অবাক হচ্ছি যারা আমাকে বেসিসে নিয়ে আসছেন তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। কোন ধরণের তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আমার দিকে তীর ছোঁড়া হলো (মনে রাখতে হবে ফেসবুকের স্ক্রিন-শট অকাট্য যুক্তি নয়, একই বিল্ডিংয়ের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড অফিস থাকাটাও একটা অস্বাভাবিক নয়।) তারপরও নির্বাচনকে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার স্বার্থে আমি সরে গেলাম।

কিন্তু ফাহিম মাসরুর বলেছে আমি প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি নির্বাচন করছেন। এখন আমি প্রত্যাহার করার পরেও তিনি মাঠে। ফাহিম সাহেব এমনি সুশীল।

এখন প্রশ্ন হলো, গত নির্বাচনের আগে আমি বেসিসের কিছুই জানতাম না। বোর্ডে আসার ব্যাপারে আমার তেমন আগ্রহও ছিলো না। শামীম ভাই আর রাসেল ভাই-ই আমাকে জোড় করেই বেসিসে নিয়ে আসলেন! আমি কোন প্যানেল থেকে গত ইলেকশন করেছিলাম? এখন তারাই আমাকে কালপ্রিট বানাচ্ছেন। এর দায়িত্ব কি তারা নিবেন? নাকি তখন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য আমাকে নিয়ে এসেছিলেন? এখন তাঁদের স্বার্থে আমি বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছি বলেই কি এত নাটক? অ্যাপিকটা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে অডিট করানোই কি আমার দোষ! ২০১২ থেকে বেসিসের প্রত্যেকটি ইভেন্টের অডিট করতে চাওয়াই কি আমার অপরাধ? গেমস প্রজেক্ট নিয়ে সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে কথা বলাই কি আমার অপরাধ?

আর ফাহিম ভাইয়ের সাথে আইসিটি ডিভিশনের এলইডিপি প্রজেক্টের একটি কাজ নিয়ে ফাহিম ভাইয়ের সাথে ঝামেলার সূত্রপাত। ফাহিম ভাই তখন বহুবার আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তারপর মতের মিল হলো না। তারপর থেকেই তো সব গন্ডগোল। এই রাগ এখানে নিয়ে আসছেন কেন ভাই? গতবার আপনিও তো আমাকে সাপোর্ট করেছিলেন। এখন কিভাবে এত ভদ্র সাজলেন ভাই?

‘উইন্ড অব চেঞ্জ’-এর রাইট-ব্রেনের নূর ভাই, মধুমতি টেকের মালিক রকিব তো আপনার বিভিন্ন ব্যবসার এক্সিকিউট পার্টনার। ঠিক বলেছি ভাই? এখন ঘটনা কি দাড়ালো ভাই? সৎ সাহস থাকলে আমাকে চ্যালেঞ্জ করুন।

সবাই চোখ-কান খোলা রাখুন। আসল রাঘব-বোয়ালরা ইলেকশনে নাই। তারা ভালো মানুষের চেহারা ধরে পাশে থেকে খেলছেন। সাধারণ ভোটার সাবধান। আমি চাই সুন্দর ভাবে ইলেকশন হোক, সাথে সাথে মিথ্যা বন্ধ হোক, মুখোশ খুলে যাক। আপনাদের মতো আমিও ১১ জনের নাম জানতে চাই।

দেলোয়ার হোসেন ফারুক কে? বেসিসে আসলো কীভাবে?

  
৩০ মার্চ ২০১৮, ০৫:১৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আগামীকাল ৩১ মার্চ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) নির্বাচন। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বেসিস নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে নির্বাচন বন্ধের নেপথ্যে কে কাজ করেছেন তা খুঁজতে অনেকেই দেলোয়ার হোসেন ফারুকের নাম উল্লেখ করেছেন। 

তিনি নিজেও এবারের নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন এবং এখনও বেসিসের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তাঁর আইসিটি খাতে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা আছে কিনা সে বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বেসিসে তাঁকে কে বা কারা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়েও কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন। বহুমাত্রিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেলোয়ার হোসেন ফারুক এবার নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন। 

'আমি যেভাবে বেসিসে' শিরোনামে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে তৎকালীন সভাপতি শামীম আহসান ও রাসেল টি আহমেদের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বেসিস নির্বাচনে আসেন। নিম্নে দেলোয়ার হোসেন ফারুকের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- 

আমি আইটি ব্যবসা করি ১২ বছর। ২০১৬ সালের আগে কখনও বেসিসে সক্রিয় ছিলাম না। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন সভাপতি শামীম আহসান ভাই ও রাসেল টি আহমেদের ডাকে সাড়া দিয়েই বেসিস নির্বাচনে আসি। পরবর্তীতে পরিচয় হয় ফাহিম মাসরুর ভাইয়ের সাথে। বেসিসে নতুন হওয়ায় অনেক চেস্টা করেও তারা আমাকে পাশ করাতে ব্যর্থ হন। আমি পরাজয় করলেও বেসিসের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখি।

আজকে অবাক হচ্ছি যারা আমাকে বেসিসে নিয়ে আসছেন তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। কোন ধরণের তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আমার দিকে তীর ছোঁড়া হলো (মনে রাখতে হবে ফেসবুকের স্ক্রিন-শট অকাট্য যুক্তি নয়, একই বিল্ডিংয়ের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড অফিস থাকাটাও একটা অস্বাভাবিক নয়।) তারপরও নির্বাচনকে বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার স্বার্থে আমি সরে গেলাম। 

কিন্তু ফাহিম মাসরুর বলেছে আমি প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি নির্বাচন করছেন। এখন আমি প্রত্যাহার করার পরেও তিনি মাঠে। ফাহিম সাহেব এমনি সুশীল।

এখন প্রশ্ন হলো, গত নির্বাচনের আগে আমি বেসিসের কিছুই জানতাম না। বোর্ডে আসার ব্যাপারে আমার তেমন আগ্রহও ছিলো না। শামীম ভাই আর রাসেল ভাই-ই আমাকে জোড় করেই বেসিসে নিয়ে আসলেন! আমি কোন প্যানেল থেকে গত ইলেকশন করেছিলাম? এখন তারাই আমাকে কালপ্রিট বানাচ্ছেন। এর দায়িত্ব কি তারা নিবেন? নাকি তখন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য আমাকে নিয়ে এসেছিলেন? এখন তাঁদের স্বার্থে আমি বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছি বলেই কি এত নাটক? অ্যাপিকটা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে অডিট করানোই কি আমার দোষ! ২০১২ থেকে বেসিসের প্রত্যেকটি ইভেন্টের অডিট করতে চাওয়াই কি আমার অপরাধ? গেমস প্রজেক্ট নিয়ে সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে কথা বলাই কি আমার অপরাধ?

আর ফাহিম ভাইয়ের সাথে আইসিটি ডিভিশনের এলইডিপি প্রজেক্টের একটি কাজ নিয়ে ফাহিম ভাইয়ের সাথে ঝামেলার সূত্রপাত। ফাহিম ভাই তখন বহুবার আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তারপর মতের মিল হলো না। তারপর থেকেই তো সব গন্ডগোল। এই রাগ এখানে নিয়ে আসছেন কেন ভাই? গতবার আপনিও তো আমাকে সাপোর্ট করেছিলেন। এখন কিভাবে এত ভদ্র সাজলেন ভাই? 

‘উইন্ড অব চেঞ্জ’-এর রাইট-ব্রেনের নূর ভাই, মধুমতি টেকের মালিক রকিব তো আপনার বিভিন্ন ব্যবসার এক্সিকিউট পার্টনার। ঠিক বলেছি ভাই? এখন ঘটনা কি দাড়ালো ভাই? সৎ সাহস থাকলে আমাকে চ্যালেঞ্জ করুন। 

সবাই চোখ-কান খোলা রাখুন। আসল রাঘব-বোয়ালরা ইলেকশনে নাই। তারা ভালো মানুষের চেহারা ধরে পাশে থেকে খেলছেন। সাধারণ ভোটার সাবধান। আমি চাই সুন্দর ভাবে ইলেকশন হোক, সাথে সাথে মিথ্যা বন্ধ হোক, মুখোশ খুলে যাক। আপনাদের মতো আমিও ১১ জনের নাম জানতে চাই।