কর নীতিমালা সহজকরণে কাজ করবো: মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মার্চ ২০১৮, ১৭:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

কর নীতিমালা সহজকরণে কাজ করবো: মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ

তথ্য-প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনকরপেশন সার্ভিসেস (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন হচ্ছে ৩১ মার্চ। এই নির্বাচনে “টিম দূর্জয়” প্যানেলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এলিয়েন টেকনোলজি মিলিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ। তিনি তাঁর গত ২৩ বছরের পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বেসিসকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক উত্তর ডিগ্রী নেন। পরবর্তীতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি আইন বিষয়েও ডিগ্রী অর্জন করেন। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের একটি ইউংয়ে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ ছয় বছরের অভিজ্ঞতাও তিনি অর্জন করেন। পর্যায়ক্রমে ট্রেডিং ব্যবসা, গার্মেন্টস, ইনডেন্টিং এগ্রো ও আইটিএস ব্যবসাসহ বহু ব্যবসার সফল একজন উদ্যোক্তা।

তিনি মনে করেন বর্তমানে দেশের গার্মেন্টস খাত আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে উন্নত বিশ্বে রূপান্তর করতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে। আইটিই হলো তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প। আর এই শিল্পের সবচেয়ে বড় সংগঠন হলো বেসিস। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই সংগঠন বেসিস। নির্বাচনে তাঁর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন যুগান্তরের সাথে।

যুগান্তর: বেসিস নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: বেসিস নির্বাচন নিয়ে ভাবছি এবার খুব ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বেসিস সদস্যদের মধ্যে মনে হচ্ছে দীর্ঘ দিন পর বেসিস সদস্যদের মধ্যে প্রাণ ফিরে আসছে। এটা পূর্বে এতটা ছিল না। শুধুমাত্র এবারই প্রথম বেসিসে গত ২০ বছরর মধ্যে প্রথমবারের মতো তিনটি প্যানেলে নির্বাচন হচ্ছে যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এটা থেকেই বুঝা যায় বেসিস সদস্যরা এবার খুব বেশি উৎসাহি। আমার মনে হয় দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ বেসিস সদস্যরা বেসিসের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে মনে হচ্ছে এবার আমাদের সবার প্রিয় সংগঠন বেসিসকে নিয়ে সবাই ভাবছে বলেই এবারের নির্বাচনে বেশিরভাগ সদস্যদের সমাগম ও উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। নির্বাচনে প্যানেল তিনটি হওয়াতে যোগ্যলোক নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই শতভাগ। এটা আমাদের জন্য আমাদের সংগঠনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

যুগান্তর: নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: আশাতীত সাড়া পাচ্ছি। যা কখনও আমি আশা করিনি। কারণ মনে হচ্ছে সিংহভাগ সদস্যরাই নতুন নেতৃত্ব চায়।

যুগান্তর: আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কি কি? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে যে দিকগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই সেগুলো হলো- স্থানীয় বাজারে দেশীয় সফটওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের মেধাস্বত্ব আইন, কর ও সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন করাসহ সকল প্রকার আইন ও নীতিমালার উপযোগী সংশোধন এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসিসের পক্ষে সরকারকে সরাসরি সহযোগীতা করবো। সরকারের অভ্যান্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যবসায়ীক নীতিমালাগুলোতে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিসহ সরকারের উদ্যোগগুলোর সাথে কাজ করতে চাই। আমি মনে করি আপার সম্ভাবনাময় এই দেশ গার্মেন্টস শিল্পের পর এই একমাত্র সফটওয়্যার শিল্পই দেশের অর্থনীতিতে বিল্পব ঘটাতে পারে। যেখানে আমাদের আছে প্রচুর সম্ভাবনাময় তরুণ মানব সম্পদ। একটা প্রবাদ আছে Man behind the Machine এই সফটওয়্যার শিল্পের সবচেয়ে বড় কাঁচামাল হলো মেধাসম্পন্ন ও সঠিক প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত তরুণরা। এই তরুণদের আরও বেশি করে এই সেক্টরে সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকারের নীতিমালা ও আইনগুলো আরও সহজ ও শিথিল করতে হবে। আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়ক পলিসি করতে হবে যাতে করে নতুন নতুন উদ্যোক্ত তৈরি হতে পারে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতে হবে। দক্ষ করে তুলতে হলে এই সফটওয়্যার শিল্পের জন্য প্রয়োজন প্রচুর উন্নত প্রশিক্ষণ। তাছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে কম্পিউটার জ্ঞান প্রশিক্ষণ, প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে পাঠ্য জ্ঞানের সাথে সাথে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টার্নশীপের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে একটা ছাত্র পড়াশুনা শেষ করেই তার কিছুটা বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ পেয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠে। এভাবে ধীরে ধীরে একদিন আমাদের দেশের সফটওয়্যার শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত এই দক্ষ জনবলই অর্থনীতির চাকাকে রাতারাতি বেগবান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই সফটওয়্যার শিল্পখাত তথা তথ্য ও প্রযুক্তি খাতই দেশের অর্থনীতির বিল্পব ঘটাবে। সুতরাং আমরাও উন্নত আয়ের দেশের সারিতে জায়গা করে নিব।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী পুরোপুরি দেশকে ডিজিটাল করার যে স্বপ্ন দেখছেন আমি মনে করি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হলো বেসিস তথা বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানের মেধাস্বত্ব, সংরক্ষণ, পেটেন্ট, কপিরাইট কর ও নীতিমালা, সরকারের অভ্যান্তরীন ও বৈদেশিক পলিসি, দেশীয় সফটওয়্যারের ব্যবহার, বৈদেশিক সফটওয়্যার পরিহার বা বৈদেশিক সফটওয়্যারকে নিরুৎসাহিত করার পলিসিগতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দেশীয় এই সফটওয়্যার শিল্পকে সঠিক মূল্যায়ন ও সুনির্দ্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের দেশ যেমন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল দেশে রূপান্তর হবে অন্যদিকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও ভিত্তি মজবুত হবে। আর যখনই দেশীয় সফটওয়্যার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মেরুদন্ড শক্ত হবে তখনই বিশ্বের প্রতিযোগীতাপূর্ণ বাজারে সহজেই আমাদের সফটওয়্যার শিল্প ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা করে নিবে আর তখন নিঃসন্দেহে আমাদের দেশ হবে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী। যেখানে মাইক্রোসফটের প্রধান বিল গেটস একারই সম্পদের পরিমান ৮৭ বিলিয়ন ডলার; যেখানে আমরা কেন ১০ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখতে পারছি না। আজকে যা পৃথিবীতে বাস্তব গতকাল তা স্বপ্নই ছিল। স্বপ্ন দেখতে জানতে হবে তবেই তো একদিন বাস্তবে রূপ নেবে আমাদের স্বপ্নগুলো। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অবকাঠামো তৈরি করে যেতে হবে; তারা যেন আরও বড় বড় স্বপ্ন দেখতে পারেও স্বপ্নগুলোকে সত্যতে রূপান্তরিত করতে পারে।

যুগান্তর: বেসিস নির্বাচনে কেন আসলেন? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: মূলত কয়েকটি কারণে নির্বাচনে আসা। আমার কাছে মনে হয়েছে এই সফটওয়্যার শিল্পকে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যাবে যা দ্বারা দেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে। আর সেটার জন্য প্রয়োজন আমাদের প্রিয় সংগঠন বেসিসের প্রিয় সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা। আমি দেখছি আমাদের এই সফটওয়্যার শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনেক মেধাবী উদ্যেক্তা আছেন যারা সুযোগের অভাবে নিজেদের নতুন নতুন ধারণাগুলোকে সম্প্রসারিত করতে পারছেন না। বেসিস সদস্যরা সহজ শর্তে মূলধন নিজেদের উদ্ভাবনী সফটওয়্যারকে সহজভাবে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, কর নীতিমালা প্রয়োগ, সরকারের পলিসি, আইন ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পলিসিগুলোতে কাজ করতে পারবো বলে মনে করি। স্থানীয় বাজারে দেশীয় সফটওয়্যার মূল্যায়ন, পলিসিগত দিকগুলো নিয়ে কাজ করতে পারলে স্থানীয় সফটওয়্যার শিল্পগুলো মূল্যায়িত হবে এবং বাজার সম্প্রসারিত হবে। মোট কথা আমি সরকারের সাথে স্থানীয় ও বৈদেশিক নীতিমালা ও পলিসিগুলোতে সরকারের সাথে কাজ করতে চাই। যা দ্বারা বেসিস মেম্বাররা বিশদভাবে উপকৃত হবে।

যুগান্তর: এই নির্বাচনে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: এই নির্বাচনে প্রথমত চ্যালেঞ্জ হলো তিনটি প্যানেলে প্রতিযোগীতা করে নির্বাচিত হয়। দ্বিতীয়ত ভোটারা এখানে সবাই শিক্ষিত ও স্মার্ট। সুতরাং এখানে ভোট প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তৃতীয়ত সময় স্বল্পতার কারণে সকল ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত করা অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার।

যুগান্তর: নির্বাচিত হলে আপনার প্রথম কাজ কী হবে? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে সকল বেসিস সদস্যদের ব্যবসায়ীক আইন, কর নীতিমালা, কপিরাইট, মেধাস্বত্ব, সংরক্ষণ, সরকারের পলিসি, ব্যবসায়ীক লিগ্যাল ডকুমেন্টস তৈরি করা ও সংরক্ষণ এবং সকল প্রকার ব্যবসায়ীক আইন ও সাধারণ নীতিমালা নিয়ে একটি কর্মশালা করা এবং এটাকে ধারাবাহিকভাবে একটি সাব কমিটি করে সকলের মতামত বিনিময় করা এবং সকলের মতামত ও সমস্যার আলোকে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা শুরু করা এবং মেম্বারদের সহায়ক সুবিধাগুলো ও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

যুগান্তর: বেসিসকে নিয় আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ: বেসিস যেহেতু একটি সফটওয়্যার তথা তথ্য ও প্রযুক্তিখাতের দেশের শীর্ষ সংগঠন; সেহেতু দেশের সবচেয়ে বড় কার্যকর অর্থবহ ও একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করা। সরকারের সাথে আলোচনা করে ব্যবসায়ীক সকল সুবিধাগুলো আদায় করা। এই শিল্পের সাথে প্রযোজ্য আইন ও কর নীতিমালার সহজ করা। এই শিল্পের সাথে সকল প্রকার পলিসিগুলো নিয়ে বেসিসের পক্ষে সরকারকে সহযোগীতা করা। দেশীয় সফটওয়্যারগুলোর বাজার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পলিসিগত দিক নিয়ে সরকারের সাথে কাজ করা। বিদেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করার পলিসি, পেমেন্ট লেন-দেন পলিসি, ব্যাংকিং নীতি, আন্তর্জাতিক লেনদেন পলিসিগুলোতে কাজ করা। কর্মচারী নিয়োগ ও বাতিলের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে যে ধরনের বিড়ম্বনা উদ্ভব হচ্ছে তা নিরসনে আইনগতভাবে সকলের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করা। বিদেশে পেমেন্ট পাঠানোর পলিসিগুলো সহজিকরণে আইনগত দিকগুলো আরও শিথিল করা নিয়ে কাজ করা। প্রত্যেকটা বেসিস মেম্বার যেন তাদের স্থানীয় ও বৈদেশিক গ্রাহকদের থেকে তাদের প্রডাক্টের মূল্য সঠিকভাবে পায় সেক্ষেত্রে স্থানীয় অভ্যান্তরীণ আইন এবং বৈদেশিক ও আন্তার্জাতিক আইন সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান ও সহযোগীতার জন্য একটি শক্তিশালী ও কার্যকর কমিটি গঠন করা।

ঘটনাপ্রবাহ : বেসিস নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.