বেসিস নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম প্রকাশ!

  এম. মিজানুর রহমান সোহেল ৩১ মার্চ ২০১৮, ০২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বেসিস নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম প্রকাশ!

রাত পোহালেই বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেসিস নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম প্রকাশ হতে দেখা গেছে। 

২১ মার্চ মধুমতি টেকের প্রোপাইটার রকিবুল মিনাসহ ১১ জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২২ মার্চ নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিটি ২৭ মার্চ দুপুরে হাতে পায় বেসিস নির্বাচন কমিশন। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব সৈয়দা নাহিদা হাবিবা স্বাক্ষরিত চিঠিতে লেখা হয়, ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর যে বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) হওয়ার কথা ছিল সেটা শেষ করে এবং এখন পর্যন্ত বেসিস যেসব বিষয় সংশোধন না করে ঝুলিয়ে রেখেছে সেগুলো সংশোধন করে পুনরায় তফসিল করে নির্বাচন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। 

একই আদেশে বর্তমান কমিটিকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সময় দেওয়া হয় এবং বর্তমান কমিটির মেয়াদও বাড়ানো হয় ৬ মাস। তবে ওইদিন বেসিস সদস্যদের নানান প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যায় জানানো হয় বেসিস নির্বাচন করার বিষয়ে বাণিজ্য ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফলে ৩১ তারিখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  

তবে ২৭ মার্চ বেসিসের নির্বাচন স্থগিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর কারা এই নির্বাচন বন্ধের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন তা খুঁজে বের করতে জোড় দাবি উত্থাপন করেন বেসিস সদস্যরা। বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর দ্রুত নির্বাচন বন্ধের আবেদনকারীদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। 

তিনি এই নাম প্রকাশের আগেই শুক্রবার রাতে ফেসবুকে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন বন্ধের দাবিতে যারা আবেদন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে ওই ছয়টি কোম্পানির কাগজপত্র যুগান্তরের হাতে এসেছে। 

২১ মার্চ আবেদন করা এসব কাগজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে এমন সিল ও স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে। যারা নির্বাচন বন্ধের আবেদন দিয়েছেন তাঁদের কোম্পানি প্যাড, স্বাক্ষর এবং আবেদনকারীদের নাম ছাড়া আবেদনের ভাষা হুবহু একই দেখা গেছে। তবে এসব কাগজ আদৌ সত্যিকারের আবেদনকারীদের কিনা তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার সুযোগ হয়নি। 

আবেদনকারী ছয় কোম্পানি যাদের

নির্বাচন বন্ধের আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন টিম ক্রিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল টি আহমেদ, বেস্ট বিজনেস বল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম কুমার পাল, মধুমতি টেকের প্রোপাইটার রকিবুল মিনা, এফএম টেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম জি ফয়সাল, ঘাস ফুড লিমিটেডের চেয়ারম্যান আ ন ম হাবিবুল মোস্তাফা এবং বিভি ক্রিয়েটিভ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাউসার আহমেদ। 

আবেদনে যা লেখা ছিল

চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'গত ২৫ মে ২০১৭ বেসিসের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধন করে বেসিসের নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাকে উপেক্ষা করে ও ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে বেসিসের অতিরিক্ত সাধারণ সভার রেজুলেশনের ১.২ ও ১.৩ ধারা প্রতিপালন না করে বেসিসের নির্বাচন পরিচালনা করছে। 

এখানে উল্লেখ্য, বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী ও গত ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখের অতিরিক্ত সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে আরেকটি অতিরিক্ত সাধারণ সভা হওয়ার কথা। সেই মোতাবেক বেসিস সচিবালয় নোটিশও প্রদান করেছে। কিন্তু ১৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে একতি ই-মেইলে বেসিস কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৫৯তম সভার বরাদ্দ দিয়ে তা স্থগিত করা হয় এবং পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে বলে অবহিত করা হয়। কিন্তু ইতিমধ্যে আরও দুইমাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও স্থগিত হওয়া অতিরিক্ত সাধারণ সভার আলোচ্য বিষয় মোতাবেক বেসিস গঠনতন্ত্রের ৮.৩ ও ১৪.৬ নং ধারা সংশোধন না করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। 

অতিরিক্ত সাধারণ সভা আহবানের জন্য সদস্যদের পক্ষ থেকে বেসিস সভাপতি বরাবর ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে একটি চিঠি প্রদান করার পরেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে বেসিস নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনী তফসিল বাতিল করার জন্য চিঠি দিলে তারও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। 

এমতাবস্থায়, বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ও আসন্ন নির্বাচনের আগে অ্যাসোসিয়েট ও জেনারেল ক্যাটাগরির সদস্যপদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা সমুহ নিরসন কল্পে ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখের বেসিসের অতিরিক্ত সাধারণ সভার রেজুলেশনের ১.২ ও ১.৩ ধারা প্রতিপালন করে বেসিসের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা প্রদান ও চলমান নির্বাচনী তফসিল বাতিল করা প্রয়োজন।' 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের বিষয়টি জানতে শুক্রবার রাতে টিম ক্রিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাসেল টি আহমেদের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

ঘটনাপ্রবাহ : বেসিস নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.