অ্যাপিকটার মার্কেটিং চেয়ারপার্সনের পদ হারালো বাংলাদেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ মে ২০১৮, ১৬:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

অ্যাপিকটার মার্কেটিং চেয়ারপার্সনের পদ হারালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও একটি কালো অধ্যায়ের সূচনা হলো। ব্যক্তি স্বার্থে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাপিকটার মার্কেটিং চেয়ারপারসনের পদ হারালো বাংলাদেশ।

অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে নতুন করে তিনজন সদস্যের নাম প্রস্তাব করায় বাংলাদেশের পদটি খালি করে দেয়া হয়েছে। এ পদে এখন নতুন করে নির্বাচন হবে।

২০১৫ সালের অ্যাপিকটার সদস্যপদ পায় বেসিস। সদস্যপদ পাওয়ার মাত্র তিন বছরের মধ্যে দুটি পরিচালনা পর্ষদের সভা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অস্কার হিসেবে খ্যাত অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশেই আয়োজিত করা হয়েছে।

যা অ্যাপিকটার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের এই সফলতা বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশ সমাদৃত হয়।

গত ১৬-১৭ মার্চ মিয়ানমারে অ্যাপিকটার ৫৭তম কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় ২০১৮-২০ সালের জন্যে নতুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে অ্যাপিকটার মার্কেটিং চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত হন বেসিসের তৎকালীন সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস ঢাকার আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

মূলত বিগত কয়েক বছরের অসাধারণ কার্যক্রম ও ভূমিকার মাধ্যমেই অ্যাপিকটার কমিটিতে স্থান পান বিভিন্ন ইকোনমি থেকে মনোনীত প্রতিনিধিরা।

সেই হিসেবে রাসেল টি আহমেদকে অ্যাপিকটার গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং চেয়ারপারসন পদে নির্বাচিত করা হয়, যা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত তথা বাংলাদেশের জন্য গর্বের।

সম্প্রতি নবনির্বাচিত বেসিস কার্যনির্বাহী পরিষদ অ্যাপিকটাতে রাসেল টি আহমেদ এর প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে বর্তমান সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান ও সহ-সভাপতি শোয়েব আহমেদ মাসুদকে মনোনীত করে।

প্রতিনিধি পরিবর্তনের জন্য এবং মার্কেটিং চেয়ারপারসন পদটি ধরে রাখার জন্য অ্যাপিকটা সচিবালয়কে ইমেইলের মাধ্যমে অনুরোধ করে বেসিস।

মেইলের উত্তরে অ্যাপিকটার চেয়ারম্যান স্টান সিং জানান, অ্যাপিকটার বিধি অনুসারে একটি পদ কোনও সংগঠন নয়, ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হয়। তাই রাসেল টি আহমেদের প্রতিনিধিত্ব বাতিল হলে বাংলাদেশ এবং বেসিস উক্ত পদটি হারাবে।

বেসিসের নতুন মনোনীত কারো ঐ পদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার সুযোগ নেই। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন একজন উক্ত পদে নির্বাচিত হবেন।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বেসিসের সাবেক এক সভাপতি যুগান্তরকে বলেন, প্রতিনিধিদের বিগত বছরগুলোর কার্যক্রমকে বিবেচনা করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাই বাংলাদেশের উক্ত পদটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

বিষয়টা পরিস্কার হওয়ার পরেও গত ১২ এপ্রিল বেসিসের ২৬৯তম সভায় নতুন তিনজনকে মনোনীত করার বিষয়টি সবাইকে হতবাক করেছে।

তিনি বলেন, বেসিস যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পতাকা সমুন্নত না রাখতে পারে তাহলে বাংলাদেশের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হবে বিষয়টি।

যে অর্জন চাইলেই পাওয়া যায় না, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধরে না রাখা তথ্যপ্রযুক্তি খাত, বেসিস ও বাংলাদেশের জন্য অপমানজনক।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে রাসেল টি আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বেসিসের পক্ষ থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। এখন বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটি যে ভুল করলো সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো উদাহরণ হলো না। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্যও এটা ভালো হলো না।

তিনজনের নাম প্রস্তাব করায় পদটি কি খালি হয়ে গেছে নাকি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে পদটি খালি হবে? উত্তরে রাসেল টি আহমেদ বলেন, যে সংগঠন থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি সেই সংগঠন যখন বলছে 'নির্বাচিত ব্যক্তি'কে বাদ দিন, তখন সেখানে পদ থাকার সুযোগ থাকে না এবং ফিরতি মেইলেও অ্যাপিকটার চেয়ারম্যান স্টান সিং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীনের গুয়াংঝুয়ে ১৮তম অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজন করা হবে। অন্য সদস্য দেশগুলো যেখানে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে, বাংলাদেশ সেখানে এখনও স্থানীয় সম্মেলন আয়জনের পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×