গ্রামীণফোনে ‘নারী কর্মী হয়রানি’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

  এম. মিজানুর রহমান সোহেল ২৬ মে ২০১৮, ১৮:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

গ্রামীণফোনে ‘নারী কর্মী হয়রানি’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে নারী কর্মীদের হয়রানি এবং গণচাকরিচ্যুতির আশঙ্কা জানিয়েছে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)।

শুক্রবার তারা গণমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানোর পর শনিবার বিকালে পাল্টা অভিযোগ করে মেইল পাঠিয়েছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

জিপিইইউয়ের প্রচার সম্পাদক মো. রফিকুল কবির স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে নারীবান্ধব প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করলেও নারীদের হয়রানি শুরু করেছে গ্রামীণফোন।

২০১০ সালে কোম্পানিটি প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও ২০১৭ সালে তার পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

অথচ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র স্থায়ী জনবল কাঠামোতে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে প্রায় তিন হাজার।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বললেও প্রতিনিয়ত জনবল কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার প্রভাব পড়ছে দেশের কর্মসংস্থানে।

জিপিইইউ বলছে, মূলত অটোমেশনের বা টেকনোলজি পরিবর্তনের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে গত কয়েক বছরে থ্রিজি ও ফোরজি বাদে প্রকৃত কোনো কারিগরি পরিবর্তন আসেনি টেলিযোগাযোগ খাতে।

অথচ আউটসোর্সের আড়ালে টেকনোলজি পরিবর্তনের কথা বলে জনবল কমানোর এই খেলা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না এই বিষয়ে।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে অফিস সময়ের পরে ই-মেইল দিয়ে ১৩ জন নারী কর্মীকে ঢাকার বাইরে বদলির আদেশ জারি করে ঈদুল ফিতরের আগেই নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদানের আদেশ জারি করে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

ফলে অনেকেই যখন বাসায় পরিবারের জন্য ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত, তখন সহকর্মীদের ফোন পান। দীর্ঘদিন কোম্পানির জন্য কাজের এই মূল্যায়নে নারী কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে দাবি করেছে জিপিইইউ।

জিপিইইউ বলছে, গ্রামীণফোনের কল সেন্টার ২০১৭ সালে দুটি কোম্পানির কাছে আউটসোর্স করা হয়। এর ফলে সেবার প্রাপ্তির মূল্য না কমলেও একদিকে যেমন গ্রাহকসেবার মান কমেছে, অপরদিকে অনেক কর্মী হয়েছে চাকরিহারা। কিন্তু যারা চাকরি ছেড়ে যায়নি, তাদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

বিষয়টি অবগত হয়ে রাতে এক বিশেষ জরুরি সভায় গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ) মিলিত হয়। সভায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

জিপিইইউয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, নারী কর্মীদের প্রতি কোম্পানির এই সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

জিপিইইউ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কোম্পানির এই সিদ্ধান্তকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে, তাকে স্বেচ্ছা অবসরের নামে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হতে পারে।

কোম্পানিটি সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্মীদের প্রকৃত উন্নয়নে কাজ না করে শুধু তার মুনাফার দিকে নজর দিচ্ছে এবং জিপিইইউ মনে করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাই অবিলম্বে এই বদলির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একটি যৌক্তিক সমাধানের দাবি জানানো হয়।

গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের এই পত্রের প্রেক্ষিতে পাল্টা অভিযোগ করে শনিবার গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল স্বাক্ষরিত একটি মেইল গণমাধ্যম বরাবর পাঠানো হয়েছে।

মেইলে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আনা নারী কর্মীদের হয়রানি এবং গণছাঁটাইয়ের অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

গ্রামীণফোন ১৭ জন নারীসহ তার ৪১ জন কর্মীকে নতুন কর্মসংস্থানের প্রস্তাব দিয়েছে। দুই বছর আগে আমাদের কল সেন্টারের কার্যক্রম একটি বিশেষজ্ঞ বিপিও অপরেটরের কাছে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়।

এই সময় ৪৮৮ জন নিয়মিত কর্মী কোম্পানিতে নতুন পদে যোগ দেন অথবা স্বেচ্ছা অবসর প্যাকেজ গ্রহণ করেন।

বাকি ৯৮ জনের মধ্যে ৯১ জন একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং কমার্শিয়াল টিমের সঙ্গে অলোচনার ভিত্তিতে ৪১ নারী ও পুরুষকে কোম্পানিতে নতুন কাজ দেয়া হয়। কর্মীদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গ্রামীণফোন খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্বপালন করছে বলে দাবি করা হয়।

গ্রামীণফোন বলছে, বিশ্বজুড়ে টেলিকম খাত একটি পরিবর্তনে মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অপারেটররা উন্নত সেবা ও অধিকতর দক্ষতা নিশ্চিত করতে ক্রমেই ডিজিটাল হচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ফলে কিছু কিছু কাজ আউটসোর্স করা হচ্ছে যাতে কোম্পানি তার মূল কাজে অধিকতর মনোনিবেশ করতে পারে।

বর্তমানে যেসব নতুন কাজ তৈরি হচ্ছে তা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এবং এদের জন্য অন্যরকম দক্ষতা প্রয়োজন যাতে সেবা ও পরিচালনার ডিজিটাল করণ ও নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন সম্ভব হয়।

কোম্পানি এসব পদ পূরণে প্রথমে বিদ্যমান কর্মীদের মাঝে খোঁজে তারপর বাইরে দেখে। তাছাড়া সব নতুন কাজ ঢাকায় হবে না, কারণ আমাদের কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত।

মেইলে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন কর্মক্ষেত্র সমান সুযোগে বিশ্বাসী এবং কোম্পানিতে নারী-পুরুষের অনুপাতে সমতা আনতে চেষ্টা করছে।

কোনো প্রমাণ ছাড়া নারী হয়রানির ইংগিত দেয়া শুধু মানহানিকর নয়, অসৎ উদ্দেশ্যপূর্ণ। মনে হচ্ছে জিপিইইউ (প্রস্তাবিত) নতুন কর্মসংস্থানের পক্ষে নয়, বরং নারীদের নতুন সুযোগ দিতে আগ্রহী নয়।

তালাত কামাল বলেছেন, আমরা কর্মীদের সংগঠন করার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইসিটি ও টেলিকম খাতে ইউনিয়ন গঠনকে সমর্থন করি। কিন্ত আমরা কর্মী অধিকারের নামে কোম্পানির ভাবমূর্তির ওপর উদ্দেশ্যপূর্ণ আক্রমণকে সমর্থন করি না।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter